ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১ হিজরী

খেলাধুলা

অবশেষে রিও’তে যাচ্ছেন মেজবাহ-শিরিন

প্রকাশের সময় : ২০ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:১১ এএম, ২০ জুলাই, ২০১৬

স্পোর্টস রিপোর্টার : সব শঙ্কা দূরে ঠেলে অবশেষে রিও অলিম্পিক গেমসে যাচ্ছেন বাংলাদেশের দ্রæততম মানব মেজবাহ আহমেদ ও মানবী শিরিন আক্তার। সোমবার মধ্যরাতে আন্তর্জাতিক অ্যামেচার অ্যাথলেটিক ফেডারেশন (আইএএএফ) এক ইমেল বার্তায় বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশনকে বিষয়টি নিশ্চিত করে। ফলে স্বস্তি ফিরে আসে দেশের অ্যাথলেটিক্স অঙ্গনে। রিও অলিম্পিকে খেলতে ব্রাজিল যাওয়া নিয়ে গেল ক’দিন অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন দুই অ্যাথলেট মেজবাহ ও শিরিন। নির্ধারিত সময় ওয়াইল্ড কার্ড না আসায় বেশ দুশ্চিতায় ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিসসহ অন্য কর্মকর্তারা। দেরিতে হলেও সেই দোদুল্যমান অবস্থা থেকে মুক্তি পেলেন তারা। দেশের অন্য চার ডিসিপ্লিনের পাঁচজন ক্রীড়াবিদের মতো রিও অলিম্পিকে যাচ্ছেন অ্যাথলেটিক্সের দুইজন। ফলে বাংলাদেশের পাঁচ ডিসিপ্লিনের সাতজন ক্রীড়াবিদকে দেখে যাবে রিও অলিম্পিকে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করতে। অ্যাথলেটিক্সের অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় দারুণ খুশি নৌ-বাহিনীর দুই অ্যাথলেট মেজবাহ ও শিরিন। গতকাল থেকেই অনুশীলনে মনোনিবেশ করেছেন তারা।
রিও’তে লাল-সবুজের অ্যাথলেটরা খেলার সুযোগ পাওয়ায় খুশি অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিসও। তাই তো কাল বিকালে তাকে দেখা গেল প্রাণবন্ত। দু’দিন আগেও কিনা সন্দেহের দোলাচালে ছিলেন এই চেঙ্গিস। অথচ দুই অ্যাথলেটের ওয়াইল্ড কার্ড পাওয়ার খবরে তিনি হয়ে উঠলেন উচ্ছ¡সিত। হাসি মুখে চেঙ্গিস মিডিয়াকে বলেন, ‘১৪ জুলাই শেষ দিনেও যখন ওয়াইল্ড কার্ড আসেনি, তখন অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। এরপরও কোনো খবর দিতে পারছিল না বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। ফলে শনিবার রাতে আমি নিজেই সরাসরি আন্তর্জাতিক অ্যামেচার অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের (আইএএএফ) সঙ্গে যোগাযোগ করি। আইএএএফ সভাপতি সেবাস্তিয়ান গো’য়ের কাছে চিঠি পাঠাই। যার ফল হিসেবে এই দু’টি ওয়াইল্ড কার্ড পেলাম। খুব ভালো লাগছে ব্রাজিলে আমার অ্যাথলেটরা যেতে পারবে বলে।’
সময়মত ওয়াইল্ড কার্ড না আসায় হতাশ ছিলেন দেশের দ্রæততম মানব মেজবাহ আহমেদও। যিনি ২০১৩ সাল থেকে টানা চারবারের দেশের দ্রæততম মানব (তিনটি জাতীয় ও একটি সামার মিট)। তিনি বলেন, ‘১৪ জুলাই ওয়াইল্ড কার্ড না আসায় অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। এত কষ্ট করেও কি অলিম্পিকে খেলতে পারব না। স্বপ্ন পূরণ হবে না? তবে সোমবার রাত সাড়ে বারোটায় শিরিনের কাছ থেকে খবরটি পাই। তখই যেন বুকের উপর থেকে কষ্টের পাথরটি নেমে গেল।’ মেজবাহ আরো বলেন, ‘খবরটা শোনার পরই মা (শাহিনা বেগম) ও বাবাকে ( মোকাম্মেল হোসেন) জানাই। উনারাও খুব খুশি।’
বাগেরহাটের চিতলমারীর সন্তান মেজবাহ এখন ব্রাজিলের লাল ট্র্যাকে দৌড়ানোর অপেক্ষায়। তার কাছে ব্রাজিল খুবই প্রিয় নাম। এ প্রসঙ্গে মেজবাহ’র কথা, ‘বিশ্বকাপ ফুটবলে আমি ব্রাজিলের সমর্থক। সেই ব্রাজিলের ট্র্যাকেই খেলতে যাব। এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে। তবে এবার রিওতে আরেকটি স্বপ্ন থাকবে আমার। উসাইন বোল্টের সঙ্গে ছবি তোলার। আগে দু’বার শেলি আনফ্রেজের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। দু’বারই ছবি তুলেছি। আসলে অলিম্পিকে খেলাটা একটি স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। আমার সঙ্গে মা-বাবাও খুব খুশি।’ অলিম্পিকে নিজের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে মেসবাহ বলেন, ‘আমার সেরা চাইমিং ১০.৭২ সেকেন্ড। এবার যদি ১০.৭০ সেকেন্ডও করতে পারি, তাহলেই অনেক কিছু পেয়েছি বলেই মনে করব।’
রিও অলিম্পিকে খেলার স্বপ্ন ছিল দেশের দ্রæততম মানবী শিরিন আক্তারেরও। ফুটবলে তারও প্রিয় দল ব্রাজিল। তাই স্বপ্নের দেশে বিশ্বসেরা গেমসে ট্র্যাকে দৌড়ানোর সুযোগ পেয়ে উচ্ছ¡সিত এই অ্যাথলেট। শিরিন বলেন, ‘ব্রাজিল গিয়ে ট্র্যাকে দৌড়ানোর সুপ্ত বাসনাটা আমার মনে অনেক আগে থেকেই ছিল। এটাই আমার শেষ, এমনটা ভেবেই রিও অলিম্পিকে দৌড়াবো। নিজের সেরা টাইমিং নিয়ে দৌড়াতে চেষ্টা করব। যদিও এক সময় আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু সোমবার রাতে যখন ঘুমাতে যাচ্ছিলাম, ঠিক তখনি স্যার (ইব্রাহিম চেঙ্গিস) আমাকে ফোনে খবরটা জানান। একবার মনে হচ্ছিল আমি ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছি। কিন্তু নিজের হাতেই চিমটি কেটে দেখলাম না সত্যি।’
স্বপ্নের অলিম্পিকে সুযোগ পেয়ে নিজের পারফরম্যান্সের উন্নতি ঘটাতে চান শিরিন। তিনি বলেন, ‘গৌহাটি-শিলং এসএ গেমসে আমার টাইমিং ছিল ১১.৯৯ সেকেন্ড। অলিম্পিকে যদি ১১.৩৫ করতে পারি, তাহলেই ভাববো কিছু অর্জন করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে চেষ্টা করব ওয়াইল্ড কার্ড নয়, যেন সরাসরি অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারি।’ শিরিন যোগ করেন, ‘গøাসগো কমনওয়েলথ গেমসে দ্রæততম মানবী শেলি আনফ্রেজের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আমাদের দু’জনের উচ্চতাও এক। আসলে উনাকে দেখেও আমি অনুপ্রাণিত হই। উনি যদি বিশ্বসেরা হন, তাহলে আমার উচিত পারফরম্যান্সের দিক দিয়ে অন্তত উনার কাছাকাছি থাকা। আমি চেষ্টা করব ব্রাজিলে নিজের সেরাটা দিয়ে দেশের মান বাড়াতে।’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন