ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

করোনায় ভালো কাজে ভিন্নমাত্রায় হাটহাজারী

রফিকুল ইসলাম সেলিম | প্রকাশের সময় : ১ মে, ২০২০, ১:৪৯ পিএম

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কাঁচা বাজার স্কুল মাঠে সরিয়ে নেওয়ার কাজটি শুরু হয় চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে। হাটহাজারীর এ মডেল এখন সারা দেশে।
করোনায় সংক্রমণের ঝুঁকি এড়িয়ে ত্রাণ বিতরণ, ওএমএস এর চাল কেনাতেও পথ দেখিয়েছে এ উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মোঃ রুহুল আমিনের ব্যতিক্রম সব উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

করোনার দুঃসময়ে হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, রিলিফ চোর ধরাও চলছে। কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

এতে কৃষক ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে, আবাদও বাড়ছে । এশিয়ার প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র মাছের ব্যাংক হিসাবে পরিচিত হালদা সুরক্ষাও চলছে অভিযান।
হাটহাজারীতে নেওয়া এসব উদ্যোগ চট্টগ্রামের অন্য ১৪ টি উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুসরণ করা হচ্ছে। খুশি হাটহাজারীর সাধারণ মানুষ।

দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, হাটহাজারী মাদ্রাসারসহ নানা কারণে পরিচিত এ উপজেলা।
চট্টগ্রামের অন্যতম এ উপজেলা লকডাউন করা হলেও এখনও করোনা মুক্ত রয়েছে।
মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে শুরু থেকেই নানা উদ্যোগ নিয়ে মাঠে নেমেছে প্রশাসন।
টানা ছুটিতে মানুষের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পরিচালিত হয় অভিযান। ইউএনওর নেতৃত্ব অভিযানে পণ্ড হয় একটি পিকনিক আয়োজন। দুঃসময়ে কিছু ব্যক্তি ব্যাপক ভূরিভোজের আয়োজন করে নিষেধাজ্ঞা ভেঙ্গে। গোপনে চালু কিছু কারখানাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে হাটহাজারী বাজার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে স্কুল মাঠে। ওএমএস এর চাল বিক্রি করতে নেওয়া হয় অভিনব পদ্ধতি। মাঠে সারি সারি চালের বস্তা। টাকা রেখে চালের বস্তা নিয়ে চলে যাচ্ছে সবাই । মাত্র ৫০মিনিটেই ২০০ জন কিনে নিলেন চাল। মানুষের ভিড় এড়াতে এভাবে চলছে চাল ও টিসিবির পণ্য বিক্রি।

ত্রাণ বিতরণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি প্রথমে শুরু করা হয় ত্রিপুরা পল্লীতে। একই মডেলে তালিকা করে ঘরে ঘরে ত্রাণ বিতরণ চলছে।
ত্রাণ চুরি রোধে কঠোর অবস্থান প্রশাসনেরর। চুরি অভিযোগ সরকারি দলের এক ইউপি চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। টিসিবির পণ্য খোলা বাজারে বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে।
জব্দ করা সয়াবিন তেল বিলি করা হয়েছে ত্রাণের সাথে দরিদ্র মানুষের মধ্যে। এর পেছনে যুক্তি সরকারি পণ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
হাটহাজারীতে শাক সবজি ও ফলের ভাল ফলন হয়। কিন্তু বাহির থেকে বেপারিরা আসতে না পারায় এসব ফসল বিক্রি করতে পারছিলো না চাষীরা। তাদের সবজি নিয়ে বাজারে বসতেই দিচ্ছে না ব্যবসায়ীরা । এতে কৃষকদের বাধ্য হয়ে কম দামে ব্যবসায়ীদের কাছে সবজি বিক্রি করতে হয়। কৃষকদের লোকসান দেওয়া থেকে রক্ষায় বাজারে বাজারে চালু করা হয় কৃষক কর্নার। সেখানে বসে কৃষক তার পণ্য বিক্রি করতে পারছেন।

এর পাশাপাশি সরকারি ত্রাণ সহায়তার সাথে নগদ টাকায় কৃষকদের কাছ থেকে
সবজি কিনে বিতরণ করা হচ্ছে। এতে অসহায় মানুষ চাল ডালের সাথে তাজা সবজি পাচ্ছে। প্রান্তিক কৃষক পাচ্ছে ফসলের ন্যায্য মূল্য।
হালদা নদীতে রুই, কাতলা, মৃগেল জাতীয় বড় মা মাছেরা এখন ডিম ছাড়ার অপেক্ষায়। সেখানেও মা মাছের উপর শিকারীদের লোভের চোখ পড়ছে। নদীতে পাতা জাল ধ্বংস করেন ইউএনওর নেতৃত্ব ভ্রাম্যমাণ আদালত।

হালদা নদীর দুই পাড়ে ডিম সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করছে দেশের নানা এলাকা থেকে আসা হাজারো মানুষ। উপজেলা প্রশাসন তাদের মধ্যেও খাদ্য সহায়তা কার্ড বিতরণ করেছে।
প্রশাসনের এসব উদ্যোগে একাত্ম হয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। এতে দূর হয়েছে সমন্বয়হীনতা। আর তাতে সুফল পাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
ইউএনও রুহুল আমিন বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন সুযোগ কাজে লাগাতে চাই। মানুষের সেবায় কাজ করছি। সবার সহযোগিতা পাচ্ছি এটাই বড় কথা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন