ঢাকা শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

খুলনায় করোনা আক্রান্ত নার্সের পরিবার হয়রানির শিকার

খুলনা ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১ মে, ২০২০, ২:১২ পিএম

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত খুলনা মেডিকেল কলেজের সিনিয়র নার্স ও নার্সিং সুপারভাইজার শিলা রানী দাস এর পরিবার স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের লোকদের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ওই নার্স খুলনা করোনা হাসপাতালে (ডায়াবেটিক হাসপাতাল) কর্তব্যরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নিজেই এ কথা জানিয়েছেন। মুহুর্তের মধ্যে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। পরে অনেকেই তার পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, খুলনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর মেশিনে নমুনা পরীক্ষার পর গত মঙ্গলবার সিনিয়র নার্স শিলা রানী দাসের করোনা ধরা পড়ে। যিনি গত ৪ এপ্রিল থেকে খুলনা করোনা হাসপাতালে (ডায়াবেটিক হাসপাতাল) কর্তব্যরত ছিলেন। আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে ওই হাসপাতালেই রাখা হয়েছে। তিনি নগরীর ১৮নং ওয়ার্ডের এমএ বারী সড়ক, সিএসএস রেভা পলস স্কুলের পশ্চিম পাশের বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি জানান, ‘আমার খুব কষ্ট লাগছে আমাদের এলাকার কমিশনারসহ কিছু লোকের কর্মকান্ড শুনে। আমি যখন করোনা হাসপাতালে ভর্তি হই তখন তারা আমার বাসার কাজের লোকের বাসা লকডাউন করছে, ঠিক আছে! কিন্তু আমি একজন নিরামীষভোজী, আমার বাড়ির মানুষজন বলেছে আমার খাবারের ব্যবস্থা করতে, আমি নিজেও বলেছি.. কিন্তু তারা মোবাইল ফোন বন্ধ করে দিয়েছে!

আমার সমাজের কাছে প্রশ্ন আমি রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছি এখানে আমার অপরাধটা কোথায়? আমি কি কোনো অপরাধী যে আমাকে খাবার টা পর্যন্ত দেয়া যাবেনা! আমি কি না খেয়ে মারা যাবো? এ কেমন বিচার? কারা এদেরকে এলাকার মানুষের দেখা শোনার ভার দিয়েছে?’
এ বিষয়ে শিলা রানী দাসের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জেলা প্রশাসন থেকে আমার বাড়ি বা কাজের লোকের বাড়ি লকডাউন করা হয়নি। ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ৩ জন ঘনিষ্ট লোক এই লকডাউন করেছে। ওয়াহিদ ও তৌফিক নামে দুইজন কাউন্সিলরের নাম ভাঙ্গিয়ে বাসায় খাবার দিতে দিচ্ছে না। বাসায় আমার মেডিকেল পড়ুয়া মেয়ে না খেয়ে আছে।

বিষয়টি অস্বীকার করে ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান মনি জানান, ‘আমি ওই নার্সের মেয়েকে গতকাল সান্তনা দিয়ে এসেছি, খাবারের জন্য তার কাছে কেউ ফোন করেনি। কাজের লোকের বাসা লকডাউন করলে পুলিশ প্রশাসন করেছে তিনি জানেন না।’
এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবীর পিপিএম বলেন, ‘ওই নার্সের পরিবারকে হয়রানির বিষয়টি আমি জানতাম না। এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন