ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১১ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

দিন-মজুরদের মানবিকতা

ধান কাটলেন বিনাপারিশ্রমিকে

খলিল সিকদার, রূপগঞ্জ থেকে : | প্রকাশের সময় : ৭ মে, ২০২০, ১২:০৩ এএম

সম্প্রতি শেরপুরের ভিক্ষুক নাজিমদ্দিনের সর্বস্ব প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করে মানবকিতা উদাহরণ সৃষ্টি করেন। এ ঘটনা মানবিক বিবেক জাগ্রত হওয়ায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। এদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গোয়ালপাড়া এলাকায় কতিপয় দরিদ্র দিনমজুর এবার স্থানীয় অপর হত দরিদ্র কৃষক ডালিম মিয়ার তলিয়ে যাওয়া ধান বিনা পারিশ্রমিকে কেটে দিয়ে আরেকটি মানবিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করলেন। গতকাল বুধবার সকাল থেকে এ ধান কেটে দেন এক দরিদ্র কৃষকের অপর দরিদ্র কতিপয় দিনমুুজুর।
স্থানীয় বাসিন্দা রিপন মিয়া জানান, গোয়ালপাড়ার হত দরিদ্র কৃষক ডালিম মিয়ার দেড় বিঘা বর্গা জমির পাকা ধান আগত বর্ষার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। বেশি পানি থাকায় কম মূল্যে শ্রমিক পাচ্ছিলেন না। তার সংসারে ১ মেয়ে ৩ জন নাবালক ছেলে ও স্ত্রীসহ বর্গাচাষী হিসেবে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। এবার তার বর্গা ক্ষেতে ধান তলিয়ে যাওয়া শুরু করলে হতাশায় পড়ে যান তিনি। অনেককেই অনুরোধ করলেও কেউ পানিতে নেমে ধান কাটতে রাজি হননি। এমন খবর শুনে একই গ্রামের অতি দরিদ্র দিনমজুর রিটন মিয়া, বাতেন মিয়া,সাইফুল ইসলাম এবং জামাই জাকির হোসেন, জাকির মিয়া স্বপন,বাদল মিয়া,সুরুজ মিয়া,জামান মিয়া তার ধান কেটে দেন। এ সময় তারা বিনা পারিশ্রমিকে ওই কৃষকের ধান কেটে দেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যপক প্রশংসা কুড়াচ্ছেন ওই দরিদ্র দিনমজুররা। স্থানীয় অপর বাসিন্দা ব্যবসায়ী মাছুম বিল্লাহ জানান, যারা ধান কেটে দিলেন তারাই নিজেরাই খুব কষ্ট করে জীবিকা চালায়। লকডাউন ঘোষণার পর তাদের তাদের কাজ কর্ম তেমন নেই। ধানকাটা শুরু হলে যদিও কাজ করছেন। এরই মাঝে দরিদ্র কৃষক ডালিমের ধান কেটে দিলেন তারা। কোন পারিশ্রমিক নেননি। তারা বুঝিয়ে দিলেন দান করতে ধন লাগে না মনই যথেষ্ট।
এদিকে উপজেলা ব্যাপি ধানকাটার শুরু থেকে ক্ষমতাসীন আ.লীগের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের ছাত্রদল পৃথকভাবে দরিদ্র কৃষকদের ধান কাটা অব্যাহত রেখেছেন। উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ধানকাটা চলছে পুরোদমে।
এর আগে, মহামারি করোনাভাইরাসে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের সহায়তায় ১০ হাজার টাকা দান করে শেরপুরের ভিক্ষুক ৮০ বছরের বৃদ্ধ নজিমুদ্দিন আলোচনায় আসেন। তিনি শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও গ্রামের ইয়ার আলীর ছেলে। ভিক্ষা করে সংসার চালান তিনি। তথাপিও মানবিক ডাকে তার ভিক্ষে করা ১০ হাজার টাকা দান করেন দরিদ্রদের জন্য। এররপর প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে নাজিমউদ্দিনকে ভিটেমাটি ও পাকা বাড়ি করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। নাজিম উদ্দিনকে খাসজমি বন্দোবস্তসহ বাড়ি করে দেয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, এক দরিদ্র কৃষকের ধান অন্য দরিদ্র দিনমুজুররা বিনা পারিশ্রমিকে কেটে দিয়েছেন। এটা প্রশংসনীয়। উপজেলা প্রশাসন তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন