ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭, ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

কুষ্টিয়া খোকসায় অগ্নিকাণ্ডে পুলিশ-জনগণ সংর্ঘষ, গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষ শূন্য গ্রাম

কুষ্টিয়া থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ মে, ২০২০, ৫:২৭ পিএম

কুষ্টিয়ার খোকসায় গভীর রাতে একটি বাজারে অগ্নিকাণ্ডের সময় পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ৯ গ্রামবাসীকে আটক করা হয়েছে। গ্রেফতার আতঙ্কে একটি গ্রাম পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে। খোকসা ফায়ার সার্ভিস ও ডিফেন্স স্টেশনের সাব অফিসার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা বৃহস্পতিবার (৭ মে) দিবাগত রাত ৩ টা ৩৬ মিনিটে আগুন লাগার ঘটনা জানতে পারি। আমাদের পৌঁছতে আধা ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ততক্ষণে আগুন নেভানোর কাজ করছিল স্থানীয় জনগণ। পরে ৪ টা ৩৬ মিনিটে আমরা আগুন পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হই।

বনগ্রাম হাট বাজারের শাহজাহান দর্জির দোকান থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে বলে জানান তিনি।

গ্রামবাসী জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলা বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের বনগ্রাম বাজারের রাব্বি টেইলার্স নামের একটি কাপড়ের দোকানে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের মুদি দোকান পিয়ারুল স্টোর, হাবিব কসমেটিকস ও হাজরা ড্রাগ হাউস নামের ওষুধের দোকানে। এ সময় বাজার সংলগ্ন মসজিদের মাইক থেকে আগুন নেভাতে গ্রামবাসীর সাহায্য চেয়ে মাইকিং করা হয়। জনতা আগুন নেভাতে চেষ্টা করে। মাইকিংয়ের প্রায় ৩০ মিনিট পর খোকসা ফায়ার স্টেশনের দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে হাজির হন। কিছু সময় পর ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের তিন সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সামাজিক দূরত্বের কথা বলে জনতার ওপর চড়াও হয়। এ সময় জনতাও পাল্টা অবস্থান নেয়। পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য নাহিদুল ইসলাম (৩০) ও মেসবাউর রহমান (৩৩) আহত হন। শুক্রবার ভোরে আহত পুলিশ সদস্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে পুলিশ যাকে পাচ্ছে তাকেই গ্রেপ্তার করছে বলে এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে যায়। তবে সরেজমিনে গিয়েও মেলে এর সত্যতা। বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের অন্তত ২০টি বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় মহিলা আর শিশু ছাড়া কোনো পুরুষ নেই। পুরুষরা পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে জানায় তারা।

এ ঘটনার পর শুক্রবার সকালে বনগ্রাম এলাকায় পুলিশ গণগ্রেফতার অভিযান শুরু করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মালিক বাদশা, ওয়াজ আলী, পিন্টু, মোয়াজ্জেম, নজরুল, কাফি, বাবু, সাবুসহ আট জনকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে তাদের পরিবার।

আটক বাদশার স্ত্রী আশা অভিযোগ করেন, রাতে তাদের দোকানে আগুন লাগে। তারা ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পুলিশ-জনতার সংঘর্ষের বিষয়টি তারা জানেন না। সকাল ১১টার দিকে ভবানীপুর ফাঁড়ির পুলিশ এসে তার স্বামীকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গেছে।

ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শহীদ পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে বলে দাবি করেন।

ঘটনাস্থলে থাকা এসআই সুলতান জানান, তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যেতে দেরি করায় জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

এ ব্যাপারে ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. শহীদুজ্জামান বলেন, আমি সেহরি খাওয়া মাত্র শেষ করেছি। এই মুহূর্তে ওসির স্যারের ফোন পেয়ে আমি ক্যাম্পের দুই কনস্টেবল নাহিদুল ইসলাম ও মেজবাহকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। তারপর তাদের উপর গ্রামবাসী হামলা করে। এ ঘটনায় সকালেই হামলায় জড়িত সন্দেহে তিন জনকে আটক করা হয়।

অপরদিকে খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহুরুল আলম বলেন, পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা দেয়। কিন্তু সেই পুলিশের কাজে বাধা দিয়ে হামলা করা অবশ্যই অপরাধ। এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন আছে। এ ঘটনায় জড়িত এমন আটজনকে আটক করা হয়েছে।ওসি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যেতে দেরি হওয়ায় পুলিশের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে এ হামলায় চালায় গ্রামের লোকজন।

পুলিশ আতঙ্কে গ্রাম পুরুষশূন্য- এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে বলেন, আসলে পুলিশের উপর হামলা করেছে। তারা তো আতঙ্কে থাকবেই। তবে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এলাকার শান্তি রক্ষায় কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান খোকসা থানার এই কর্মকর্তা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন