ঢাকা, বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৩ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

সাহিত্য

করোনা কথন

না স রী ন মি তা | প্রকাশের সময় : ১৫ মে, ২০২০, ১২:০৫ এএম

আল্লাহ সব খারাপেরই পেছনে কিছু ভালো ব্যবস্হা করে রাখেন।
তাই আমাদের মেনে নিতে হবে এই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শেষে আমাদের জন্য হয়ত কিছু ভাল সময়, ভাল কাজ অপেক্ষা করছে।

এখন আমরা সারাবিশ্বের মানুষ চরম খারাপ সময় পার করছি। পৃথিবীও যেন থমকে গিয়েছে আজ।যে দিকেই তাকাই, কান পাতি, শুধুই করোনা ভাইরাসের আক্রমণের কথা। মানুষের মৃত্যুর কথা।

এই খারাপ অবস্থার মধ্যে করোনা আক্রান্ত মানবসভ্যতার মধ্যেও কিছু ভাল দিকও চোখে পরছে।
যেমন লক ডাউনের কারণে পরিবেশ দূষণের মাত্রা অনেকাংশেই কমে এসেছে। আকাশের দৃশ্যমানতা অনেকটাই বেড়েছে। সমুদ্রে মানুষের চলাচল বন্ধ হওয়ার কারণে প্রাণীকূল সাচ্ছন্দবোধ করছে। তাই সমুদ্রে আবার ডলফিন সাঁতার কাটতে পারছে ।পরিযায়ী পাখিরা আবার আসছে ফিরে।প্রকৃতি আবার একটু শ্বাস নিতে পারছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষ আজ প্রায় গৃহবন্দী জীবন যাপন করছে। কর্মব্যস্ততার কারণে বর্তমানে আমরা
পরিবারের মানুষদের সময় দেওয়াই যেন ভুলে গিয়েছিলাম।

নিজের কাজ নিয়ে সদা ব্যস্ততায় দিন কাটাতাম। এখন একটু হলেও কর্মব্যস্ততা কমেছে। বন্ধু বান্ধব,পাটি এসব নিয়ে যারা ব্যস্ত থাকতেন। পরিবারের
মানুষদের সময় দিতে ভুলে যাচ্ছিল, তারা একটু হলেও পরিবারের লোকজনদের সময় দিচ্ছে।
পুরাতন ডায়েরির পাতায় পাতায় যে ধূলো জমেছে, সময়ের অভাবে তা ঝারা মোছা হয়নি অনেক দিন।
এখন কিছুটা সময় হলেও পুরাতন ডায়েরির পাতাটা খুলে একটিবার চোখ বোলানো যাচ্ছে।।আলমারির ধুলো ঘেঁটে পুরাতন ভালো লাগার জামাকাপড় ও বই বের করে পড়া হচ্ছে।

বই, পেপার,পত্রিকা পড়ার অভ্যাসটাও হয়তো আবার গড়ে উঠবে।।মানুষে মানুষে মারামারি,
পারমানবিক বোমা, বিমানে চেপে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলাটাও কমবে অনেকাংশে। মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়াটা হয়তো সোজা, কিন্তু মানুষের জীবন বাঁচানোটা

অনেক কঠিন।। এখন অনেকেই এটা বুঝতে পারছে।
আত্মঘাতী জঙ্গিরাও আজ প্রাণের ভয়ে ডেরায় আছে ঢুকে। কাশ্মীর আজ সত্যিই শান্ত।
ঘুষখোর ভুরিওয়ালারা পুলিশও আজ পথে নেমে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হচ্ছে। নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে।
এখন আর মানুষ ডাক্তার মারার কথা ভুলেও ভাবছে না। বরং ডাক্তারের সুস্থতা কামনা করছে।চুরি ডাকাতিও গেছে কমে। দেশের মানুষ এখন আর ভয় করছে না চুরি হওয়ার। নারীরাও আজ সুরক্ষিত বিপদ মুক্ত।
বিশ্ব আজ ধর্ষণ মুক্ত।

স্বামীরাও আজ গৃহে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। বৌদের পাশে থাকছে। কিছুটা হলেও সময় দিচ্ছে। বাড়ির কাজে হাত লাগাচ্ছে।
আজ ঘৃণার বদলে চারপাশে ভালোবাসা রাজ করছে।
আজ কেন যেন এই চেনা পৃথিবীটাকে বেশ অচেনা অজানা লাগছে..

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন