ঢাকা, বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৩ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

আম্পানে লন্ডভন্ড পশ্চিমবঙ্গ

নিহত ৭২ : ক্ষয়ক্ষতি এক লাখ কোটি রুপি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২২ মে, ২০২০, ১২:০৪ এএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উপক‚লবর্তী অঞ্চলে ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’। আম্পানের তান্ডবে লন্ডভন্ড পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরে, হাওড়া, হুগলী এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের অনেক এলাকায়। হাজার হাজার কাঁচা বাড়ি ও গাছপালা ভেঙে গেছে আম্পানের ভয়াল থাবায়। পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ৭২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। গতকাল এই তথ্য জানিয়ে তিনি বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক লাখ কোটি রুপিতে পৌঁছাতে পারে। ঝড়ের তান্ডবলীলা বোঝাতে গিয়ে বারবারই তিনি রাজ্যের সর্বনাশ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে আরো বলেন, শক্তিশালী এই ঝড়ে রাজ্যে হাজার হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস, গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। কলকাতাভিত্তিক বাংলা দৈনিক ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র খবরে বলা হয়েছে, গত বুধবার দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এই ঝড়ের তান্ডব চলেছে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশ্যা রাজ্যে। ঝড়টির কেন্দ্রে পরিণত হওয়া পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরের রাস্তাঘাট ডুবে গেছে, পানির নিচে তলিয়ে গেছে অনেক ঘরবাড়ি। রাস্তায় গাছের নিচে চাপা পড়ে পানিতে ডুবে আছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ভেঙে পড়েছে বিমান রাখার হ্যাঙ্গারও। পানিতে ভেসে গেছে গোটা রানওয়ে। চারদিকে থৈ থৈ করছে পানি।

সর্বনাশ হয়ে গেছে : মমতা
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করী সুপার সাইক্লোন আম্পানের তাÐবে পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ৭২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। গতকাল এই তথ্য জানিয়ে তিনি বলেছেন, আম্পানের প্রভাব করোনার চেয়েও মারাত্মক। রাজ্যে কমপক্ষে ৭২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। হাজার হাজার মাটির ঘর একেবারে মিশে গেছে, গাছপালা উপড়ে পড়েছে। সড়ক ভেঙে গেছে, ধ্বংস হয়েছে আবাদি জমির ফসল। তিনি বলেন, ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ১৫৫ কিলোমিটার গতিবেগে আছড়ে পড়েছে আম্পান। এটা কল্পনাও করা যায় না। আম্পান এমন তাÐব চালাবে তা আবহাওয়াবিদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা ধারণাও করতে পারেন নাই।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড়ের চোখ ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে কলকাতায় আছড়ে পড়ে। বুধবার দুপুর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে ঝড়ের কারণে ভারী বৃষ্টি এবং ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। দুপুরের দিকে বাতাসের গতিবেগ ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার থাকলেও আঘাত হানার সময় ১৮০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়।

মমতা বলেছেন, আম্পানের ক্ষয়ক্ষতি করোনাভাইরাস মহামারির চেয়েও মারাত্মক। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো ঘুরে দেখার জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পশ্চিমবঙ্গে আসার আহŸান জানিয়েছেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেত্রী বলেছেন, আমি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুরোধ করবো, দয়া করে এটা নিয়ে রাজনীতি করবেন না। সবকিছু পুনর্গঠনের জন্য আমরা মানবিক সহায়তা চাই। আম্পান পরবর্তী পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এক হাজার কোটি রূপির তহবিল গঠন করেছেন মমতা।

লÐভÐ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা
অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে লÐভÐ হয়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনসহ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিশাল এলাকা। এসব এলাকার উপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮৫ কিমি বেগে ঝড় বয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা। রাতভর তাÐবের পর সকাল হতেই স্পষ্ট হতে থাকে এর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। বহু বাড়ি, গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। ঝড়ের দাপটে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে উদ্ধারকারীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে খবর দিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা। কয়েক দশকের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সবচেয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড় আম্পান বুধবার বিকেল থেকেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানতে শুরু করে। এর আগে সুপার সাইক্লোন থেকে দুর্বল হয়ে মঙ্গলবার ‘অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ পরিণত হয় আম্পান। সুন্দরবনের ওপর দিয়ে ভারতের দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনায় ব্যাপক তাÐব চালিয়েছে এই ঘূর্ণিঝড়।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগের উপমহাপরিচালক সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, উপক‚লীয় এলাকায় তাÐবের পর কলকাতায় ঝড়ের সর্বোচ্চ বেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩৩ কিলোমিটার। রাত পর্যন্ত কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে ২৪৪.২ মিলিমিটার। হাওয়া মে মাসে কলকাতায় এক দিনে এতো বৃষ্টিপাত আগে দেখা যায়নি।

রানওয়েতে পানি
আম্পানের তাÐবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ভারতের অন্যতম ব্যস্ত কলকাতা বিমানবন্দরও। ভেঙে পড়েছে বিমান রাখার হ্যাঙ্গারও। পানিতে ভেসে গেছে গোটা রানওয়ে। চারদিকে থৈ থৈ করছে পানি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, টানা কয়েক ঘণ্টার প্রবল বর্ষণে পানিতে ভেসে গেছে বিমানবন্দরের রানওয়ে এবং হ্যাঙ্গার। প্রবল ঝড়ে ভেঙে গেছে টার্মিনালের বহু কাচও। গোটা বিমানবন্দরের দশা এখন আধডোবা। ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দরের একাংশের ছাদও। বিমানবন্দরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দু’টি হ্যাঙ্গারের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। সে দুটি হ্যাঙ্গার মেরামত অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

 

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Mustafizur Rahman Ansari ২২ মে, ২০২০, ৫:৩৫ এএম says : 0
ALLAH (SWT)Give us patient.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন