ঢাকা, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৯ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

সম্পাদকীয়

চিঠিপত্র

| প্রকাশের সময় : ২৩ মে, ২০২০, ১২:০৮ এএম

প্রবীণদের পাশে থাকুন

প্রবীণদের নিয়ে আলোচনার সূচনায় যে কথাটি প্রথমে চলে আসে, তা হচ্ছে অবহেলা। বর্তমানে প্রবীণরা সমাজের অবহেলার পাত্র হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তারা সারাজীবন কষ্ট করেও বৃদ্ধ বয়সে খুব অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করেন। যৌবনে যে মানুষটির নির্দেশে একটি পরিবার পরিচালিত হতো, বৃদ্ধ বয়সে এসে তিনি নিজেই সেই পরিবারের বোঝা হয়ে দাঁড়ান। অথচ বার্ধক্য প্রকৃতিরই নিয়ম। বার্ধক্যে শারীরিক সমতা হ্রাস পায়, পরনির্ভরতা বেড়ে যায়। একাকিত্বের শূন্যতায় ভোগেন প্রবীণরা। তারা কথা বলতে চান। কিন্তু শোনার কেউ নেই। সময় কোথায়! নিঃসঙ্গ দম্পতিরা পরস্পরের প্রতি এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েন যে, একজনের কিছু হলে অন্যজনের কী হবে- এই দুশ্চিন্তায় কাটে সময়। কোনো কোনো প্রবীণ বাবা-মায়ের সর্বশেষ ঠিকানা হয়ে ওঠে বৃদ্ধাশ্রম। চোখের জলে তাদের আর্তনাদের শত চিৎকারের পরও নিষ্ঠুর সন্তানগুলো ভুলে যায় তাদের শৈশবের কথা। যে সময়টিতে বাবা-মা অক্লান্ত পরিশ্রম করে সন্তানের মুখে হাসি ফুটিয়ে প্রত্যাশাগুলো পূরণ করেছেন। নিজের ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে উপার্জন করেছেন অর্থ। সন্তানকে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় ডিগ্রি অর্জন করিয়ে গড়ে তুলেছে একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে। কিন্তু সে ডিগ্রিধারী শিক্ষিত মানুষগুলো বিবেককে শিক্ষিত করতে পারেনি বলে বাবা-মায়ের প্রতি অবহেলার চোখে তাকিয়ে তাদের উপহার দেয় নিঃসঙ্গ জীবন। এটাকে নিষ্ঠুরতা বললেও কম বলা হয়। জগতের কারও বাবা-মা চিরকাল বেঁচে থাকেন না। বৃদ্ধ বাবা-মার দেখভাল সন্তানরা করবে, এজন্য আইন করার প্রয়োজন হয় কেন? এটা বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। বিষয়টা নৈতিকতা ও মূল্যবোধের। এ নৈতিক বোধটা মনের ভিতর থেকে উৎসারিত হতে হবে। ছোটবেলা থেকেই এ ব্যাপারে সচেতন হতে শেখাতে হবে নতুন প্রজন্মকে। প্রবীণদের প্রতি অবহেলা নয়। আজকের নবীন, আগামীর প্রবীণ। আজ যদি আমরা প্রবীণদের অবহেলা করি, তাহলে একদিন আমাদেরও একই রকম অবহেলার শিকার হতে হবে- এই সহজ সত্যটি আমরা যেন ভুলে না যাই।

মো. রাশিদুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন