ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২০, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭, ১১ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

সম্পাদকীয়

ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিদুর্ঘটনার অনুপুংখ তদন্ত হতে হবে

| প্রকাশের সময় : ২৯ মে, ২০২০, ১২:১৪ এএম

রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশানে অবস্থিত ইউনাইটেড হাসপাতালে গত বুধবার রাতে অগ্নিকান্ডে দগ্ধ হয়ে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা সবাই হাসপাতালটির করোনা ইউনিটে আইসোলেশনে ছিলেন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, এই পাঁচজন রোগীই ছিলেন নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিটে (আইসিইউ)। করোনার চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের এভাবে অগ্নিদুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করাটা খুবই দুঃখজনক এবং একই সাথে বেদনাদায়ক। বিশেষ করে, ইউনাইটেড হাসপাতালের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সমৃদ্ধ একটি বেসরকারি হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। তাই, যত দ্রুত সম্ভব এ ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারো কর্তব্যকর্মে অবহেলা ছিল কিনা সেটি জানা দরকার। প্রাথমিক তথ্য মতে, হাসপাতালটির বর্ধিত অংশে করোনা আইসোলেশন সেন্টারে এসির বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পেরে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ফায়ার সার্ভিসের একজন উপপরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত চার সদস্যের এই কমিটি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীসহ সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য নিয়ে তাদের প্রতিবেদন জমা দিলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে সিআইডির ক্রাইম সিন বিভাগ ঘটনাস্থল থেকে অগ্নিকান্ডের আলামত সংগ্রহ করেছে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, সেটি তদন্ত করতেই সিআইডি আলামত সংগ্রহ করেছে। সিআইডির তদন্তও দ্রæত শেষ হবে এবং প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে প্রকাশ পাবে বলে আশা রাখি।
দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই। সেটি যে কোনো স্থানে, যেকোনো সময়ই ঘটতে পারে। ইউনাইটেড হাসপাতালেও এটা ঘটা অসম্ভব কিছু না। কিন্তু একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিটে থাকা রোগীদের দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করাকে কোনো মতেই স্বাভাবিক ঘটনা বলা যায় না। দেশের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতাল হিসেবে তার নিজস্ব এবং স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকার কথা। বৈদ্যুতিক গোলোযোগ বা অন্যান্য সমস্যার দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থাও থাকার কথা। এসির বিস্ফোরণ বা অন্য কোনো কারণে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেও সেটি থেকে যাতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে না পারে তার জন্য বর্তমানে উন্নত স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে, যা যেকোনো হাসপাতালেই থাকা জরুরি। ইউনাইটেড হাসপাতালের মতো ব্যয়বহুল ও উন্নত হাসাপাতালের ক্ষেত্রে সেটি না থাকার প্রশ্নই উঠে না। তাই বিষয়টি যথাযথভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। এসির বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কিনা, হয়ে থাকলে কেন এবং কীভাবে ঘটল সেটিও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। হাসপাতালে এসিসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে সেগুলোর ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হয় কিনা সেটাও জানা দরকার। এসির বিস্ফোরণের পর দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ল কীভাবে সেটাও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অগ্নিকান্ডের ঘটনা এমন একটি সময় ঘটল, যখন দেশে করোনা রোগীর চিকিৎসায় নির্ধারিত হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি-বেসারকারি সকল হাসপাতালেই ক্রমবর্ধমান করোনা রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। করোনাভাইরাস দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর বেসরকারি হাসপাতালগুলো কার্যত তাদের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দিয়েছিল। শুধু করোনা রোগীই নয়, বরং অন্যান্য রোগীরও বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা না দিয়ে ফেরত পাঠানোর মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। এতে কোনো কোনো রোগীকে বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। করোনা রোগীর সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধির ফলে এখন আর কোনোভাবেই নির্ধারিত কিছু হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এমন সময় দেশের শীর্ষস্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক মানের একটি হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় রোগীদের মৃত্যুর ঘটনা করোনা রোগীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করতে পারে। হাসপাতালে রোগীরা যান জীবন বাঁচানোর জন্য, সেখানে দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু বরণের জন্য নয়। এমতাবস্থায় ইউনাইটেড হাসপাতালসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালগুলোর স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণসহ যাবতীয় ব্যবস্থাপনা নিঁখুত আছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। না থাকলে তা যত দ্রæত সম্ভব নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বেসরকারি উন্নত হাসপাতালই নয়, বরং সরকারি-বেসরকারি সকল হাসপাতালের ক্ষেত্রেই এটা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কেননা, এর আগে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালেও অগ্নিকান্ডের ঘটনায় রোগীদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহানোর ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন