ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

নৌকাডুবিতে মৃত্যু ১৪ : নিখোঁজ ৮

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৯ মে, ২০২০, ১২:১৪ এএম

 ঈদের ছুটিতে নৌকাডুবিতে পৃথক জেলায় ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে সিরাজগঞ্জে ১০ ও কুড়িগ্রামে ৪ জন। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৮ জন।
কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কাশিমবাজার এলাকায় ধরলা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চারজনের লাশ উদ্ধার করেছে ডুবুরি দল। গতকাল সকাল থেকে থেকে দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার সন্ধ্যার দিকে মেয়ের বিয়ের বৌভাত খেয়ে ৪০/৫০ জন একটি নৌকায় করে সাতভিটা থেকে কাশিম বাজারে ফেরার পথে ধরলা নদীতে বৃষ্টি ও ঝড়ের কবলে পড়েন। এতে নৌকাটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় বাকিরা উদ্ধার হলেও মেয়ের বাবাসহ চারজন নিখোঁজ হোন। রংপুর এবং কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ডুবুরি দল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় উদ্ধার কাজ শুরু করে। দুপুর সোয়া ১২টার মধ্যে তারা নিখোঁজ কনের বাবা নুর ইসলামসহ আমেনা বেগম, কামরুজ্জামান ও নুরু মিয়ার লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক মনোরঞ্জন সরকার জানান, সকাল থেকে রংপুর এবং কুড়িগ্রামের তিনটি ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার অভিযানে নিখোঁজ সবার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে অভিযানে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় যমুনা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় আরও পাঁচজনের লাশ পাওয়া গেছে। চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেওয়ান মওদুদ আহম্মেদ ইনকিলাবকে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে খাস কাউলিয়ার চর, পয়লার চর ও স্থলচর এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় এই পাঁচ লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে এনায়েতপুর ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা চৌহালী যাওয়ার পথে স্থলচর এলাকায় ৭৩ জন যাত্রীসহ যমুনায় ডুবে যায়। তাদের মধ্যে ৫৭ জন জীবিত উদ্ধার হলেও ১৬ নিখোঁজ থাকেন। নিখোঁজদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ১০ জনের লাশ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এখনও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ইউএনও দেওয়ান মওদুদ আহম্মেদ জানিয়েছেন। এদিকে বুধবার দিনভর ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডবিøউটিএ ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালানোর পর বিকেল ৫টার দিকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে এনায়েতপুর ঘাট থেকে ইব্রাহিম মাঝির ইঞ্জিন চালিত একটি নৌকা চৌহালীতে যাবার পথে স্থলচর এলাকায় পৌছলে প্রচÐ বাতাসের কবলে পড়ে। তখন ৭৩ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি যমুনায় ডুবে যায়। স্থানীয়রা ৫৭ জনকে জীবিত ও ৫ জনের লাশ উদ্ধার করে। এর মধ্যে ৩ জনের লাশ স্থল চর, এক জনের জোতপাড়া ও আরেক জনের লাশ কুকুরিয়া এলাকা থেকে উদ্ধার করে। এরা হলো বেলকুচির গয়নাকান্দি গ্রামের মৃত জহির ফকিরের ছেলে পাষান ফকির (৬৫), কলাগাছির শামীম হোসেনের ছেলে নাইম হোসেন (৪), শাহজাদপুরের কৈজুরীর জয়পুরার আমজাদ হোসেন (৪৫) ও আজিজুল হক (৩৫)।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে আজিমুদ্দি মোড় এলাকা থেকে ২ জন, স্থলচর ১ জন ও ঘুসুরিয়া ১ জনের লাশ নদীতে ভেসে উঠলে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা জানিয়েছে, তারা শাহজাদপুর ও বেলকুচি উপজেলার শ্রমজীবী মানুষ। সবাই টাঙ্গাইলের করটিয়া ও মির্জাপুরে ধানকাটার জন্য যাচ্ছিল। নৌকায় ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী তোলায় এই নৌকা ডুবির জন্যও অনেকটা দায়ী

নেত্রকোনা : নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ধনু নদীতে নৌকা ডুবে দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। গত মঙ্গলবার দুপুরের দিকে উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের মহব্বত নগর গ্রামে এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহনগঞ্জ উপজেলার মহব্বত নগর থেকে খালিয়াজুরী উপজেলার লেপসিয়া বাজারে চিকিৎসার জন্য ৭ জন নৌকায় রওনা হন। পথে আবহাওয়া খারাপ হলে নদীর মাঝে যেতেই স্রোতে নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় নৌকার পাঁচ যাত্রী তীরে উঠতে পারলেও মহব্বত নগর গ্রামের মুক্তলাল দাসের ছেলে সুশীল দাস (৫৫) ও একই গ্রামের মনু মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৪৫) নদীতে নিখোঁজ হন।

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন