ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৯ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

স্পিরিট পানে ২০ জনের মৃত্যু : উত্তরের তিন জেলায়

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৯ মে, ২০২০, ১২:১৪ এএম

ঈদের ছুটির মধ্যে নেশা করতে ‘স্পিরিট’ পান করে উত্তর জনপদের তিন জেলা রংপুর, দিনাজপুর ও বগুড়ায় তিন দিনে মোট ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছেন আরো ১২ জন। আমাদের সংবাদদাতাদের তথ্যে প্রতিবেদন :

দিনাজপুর অফিস ও বিরামপুর উপজেলা সংবাদদাতা জানান : দিনাজপুরের বিরামপুরে বিষাক্ত স্পিরিট পানে গত বুধবার সকালে ৬ জন মৃত্যুর পর ওইদিন রাতে আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাড়িয়েছে। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ এক হোমিও চিকিৎসককে আটক করেছে।

জানা গেছে, বিরামপুর পৌর এলাকার মাহমুদপুর গ্রামে আ. আজিজের ছেলে সোহেল রানা (৩০), আবুল হোসেনের ছেলে মনোয়ার হোসেন (৪২), আ. খালেকের ছেলে আব্দুল আলীম (৪০), কাজী পাড়া মহল্লার ইসরাফিলের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪২)। গত মঙ্গলবার নেশা করার উদ্দেশ্যে স্পিরিট পান করলে বুধবার রাতে তাদের মৃত্যু ঘটে। এর আগে একই ঘটনায় বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু ঘটে।
বুধবার সকালে মৃতরা হলো-মাহমুদপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে আ. মতিন (২২), সুলতান আলীর ছেলে মহসীন আলী (২৭), তোজাম্মেলের ছেলে আজিজুল (৩০), ইসলামপাড়ার তাপস বাক্সি ছেলে অমৃত্যু বাক্সি (২৪,) হঠাৎ পাড়া মহল্লার স্বামী শফিকুল (৫৫) ও স্ত্রী মঞ্জুয়ারা (৩৫)। স্পিরিট পানকারী আরো ৬ জন দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।
মৃত মহসীনের পিতা সুলতান আলী জানান, নিহতরা আগে থেকে মাদকাসক্ত ছিল। স্পিরিট পানে তারা অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। পৌর মেয়র লিয়াকত আলী সরকার টুটুল জানান, বিরামপুর শহরের অনেক হোমিও দোকানে অবাধে স্পিরিট বিক্রি হয়। এই স্পিরিট পানে তাদের মৃত্যু ঘটেছে।

পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, দিনাজপুর জেলার কোথাও স্পিরিট বা নেশা জাতীয় দ্রব্য বিক্রি থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের নিষেধ করা হলো। এর পরও কেউ বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বগুড়া ব্যুরো জানায় : বগুড়ার ধুনটে রেকটিফাউড স্পিরিট পানে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলো ধুনটের ঈশ্বরঘাট গ্রামের আব্দুর রশিদের পুত্র আল আমিন ওরফে কসাই (২৮) এবং একই গ্রামের হাফিজুর রহমানের পুত্র গাড়ী চালক আব্দুল আলিম (৩০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে তারা দু’জন ঈশ্বর ঘাট বাজারে এক সাথে রেকটিফাইড স্পিরিট (আরএস) পান করে। এরপর তারা বাসায় ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এদের মধ্যে আল আমিন রাতেই নিজ বাড়িতে মারা যায়।
তার সঙ্গী আব্দুল আলিম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে ধুনট হাসপাতাল নেয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হলে সেখান থেকে রাতে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৪ টায় সে মারা যায়।

বগুড়ার ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মদ জাতীয় কিছু পান করে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের লাশ ময়না তদন্তের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
রংপুর : রংপুর কোতয়ালি থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেশা করার জন্য স্পিরিট পান করে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ানের নুর ইসলাম (৩০) এবং রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের সরোয়ার হোসেন (৩১) ও মোস্তফা কামালের (৩০) মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদ ঘিরে একটি চক্র দল শ্যামপুর বাজার এলাকায় মদ ও স্পিরিট পানের আসর বসায়। সেই স্পিরিট পান করে লোকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাদের রংপুর মেডিকেলে ভর্তি করেন।

এর আগে ঈদের দিন গত সোমবার রাতে রায়তি সাদুল্লাপুরের দুলা মিয়া (৫২), হরিরাম সাহাপুরের লাল মিয়া (৩০), মঙ্গলবার সকালে শানেরহাট খোলাহাটি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক (৪৫), বিকালে পাহাড়পুরের জাইদুল হক (৩৫) ও পাশের মিঠাপুকুর উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের চন্দন কুমার (৩০) একই কারণে মারা যান বলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানিয়েছিলেন।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন