ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ২২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ভিন্ন আমেজে ঈদ উদযাপন

মোবাইল ও অনলাইনে শুভেচ্ছা বিনিময়

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৯ মে, ২০২০, ১২:৪৯ এএম

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সামাজিক ট্রান্সমিশন ঠেকাতে এবার ঘরবন্দি ঈদ উদযাপন করেছেন রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। এক মাস সিয়াম সাধনার পর করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যত ব্যতিক্রমধর্মী ঈদ পালন করেন সারাদেশের সাধারণ মানুষ। ঈদের নামাজ খোলা ময়দানের বদলে এবার মসজিদে মসজিদে আদায় করা হয়। সেখানেও কাতারে তিন ফুট দূরত্ব ছিল বাধ্যতামূলক। হাইকোর্টের পাশের জাতীয় ঈদগায়ে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত না হয়ে এবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বায়তুল মোকাররমে ৫টি এবং মসজিদে গাউছুল আজম কমপ্লেক্সে ৩টিসহ বিভিন্ন মসজিদে একাধিক জামাতে নামাজ আদায় করা হয়।

ঈদের নামাজ পড়তে মুসল্লিদের নিজ বাসায় ওযু করে আলাদা আলাদা জায়নামাজ নিয়ে ও মাস্ক ব্যবহার করে মসজিদে আসতে হয়। মসজিদের প্রবেশদ্বারে মুসল্লিদের জন্য জীবাণুনাশক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়।

করোনার কারণে ঈদের দিন ঘরে বসে এবং আত্মীয়-স্বজনের বাসায় ঘোরাঘুরি না হলেও থেমে থাকেনি ঈদ আনন্দ। মোবাইল ও অনলাইনের মাধ্যমে একে অপরকে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। রাস্তায় বের না হয়ে ভিন্ন আমেজে এবারের ঈদ উদযাপন হয়েছে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া রুপসা থেকে পাথুরিয়ায়। ঈদের দিন গত সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ঘুরে দেখা গেছে অনেকটা ঘরবন্দি অবস্থায় ঈদ উদযাপন করছে নগরবাসী।

কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরে থাকতে হবে। এজন্য আমরা ঘরে থেকে পরিবারের সকলের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছি। জীবনের চেয়ে বড় উৎসব নয়। জীবন থাকলে আগামীতে অনেক উৎসব একসঙ্গে করা যাবে।
ঈদে ঘরবন্দি হয়ে ফেসবুক ও অনলাইনে সময় কেটেছে বেশির ভাগ মানুষের। করোনার কারণে তাদের মতে ঈদে ঘরবন্দি জীবন, ফেসবুক অনলাইনের মাধ্যমেই সময় কাটছে। তবে অধিকাংশ মানুষ স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি থাকলেও ঈদের দিন সকাল থেকেই রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় অলিগলির মোড়ে মোড়ে তরুণদের আড্ডা দেখা গেছে। আড্ডাগুলোতে শারীরিক দ‚রত্ব মানা না হলেও সকলকেই মাস্ক পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। ঘরবন্দি নগরবাসীর অনেককেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আড্ডা দিতে দেখা গেছে বাসা বাড়ির ছাদে।
প্রতিবছর খোলা আকাশের নিচে ঈদগাহ মাঠে বড় জামাতের মাধ্যমে ঈদের নামাজ পড়া হলেও এবারের প্রেক্ষাপট বৈশ্বিক করোনার কারণে একেবারেই ছিল ভিন্ন।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় নগরীর ওয়াসা জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নামাজে অংশ নেন মুসুল্লিরা। নামাজের পরে কোলাকুলির রীতি থাকলেও, এবার করোনা পরিস্থিতিতে ছিলো না কোনো আনুষ্ঠানিকতা।
সিলেট : শারীরিক দূরত্ব মেনে সিলেটে হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহের দরগায়ে অনুষ্ঠিত প্রধান জামাতে অংশ নেন হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান। এছাড়া হযরত শাহপরান দরগাহসহ নগরীর বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামাত। মসজিদের প্রবেশ পথে বসানো জীবাণুনাশক টানেল দিয়ে প্রবেশ করেন মুসুল্লিরা। এসময় করোনা পরিস্থিতি থেকে মুক্তিসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
রংপুর : রংপুরে কেরামতিয়া জামে মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বাড়তি কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। স্বাস্থ্যবিধি মানতেও খুব একটা দেখা যায়নি।
এছাড়াও খুলনা, রাজশাহী, দিনাজপুর, কুমিল্লা, বরিশালসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোয়ে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের দিন সারাদেশে দেখা গেছে এবার অভিন্ন চিত্র। মানুষ করোনার সংক্রমণের ভয়ে ঘরে বসে থেকে ঈদ উৎযাপন করেছেন।

মসজিদে গাউছুল আজম-এ তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত
মসজিদে গাউছুল আজম কমপ্লেক্সে গত সোমবার সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। কমপ্লেক্সে মোটি তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। যদিও পূর্বে দুইটি জামাতের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, কিন্তু মুসল্লিদের স্বাস্থ্যের কথা খেয়াল করে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যাতে আগত সকল মুসল্লিগণ যাতে স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে নামাজ আদায় করতে পারেন সেজন্য অতিরিক্ত আরো একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৭টায় প্রথম জামাতে ইমাম ছিলেন মসজিদে গাউছুল আজম-এর পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. নূরুল হক। সকাল সাড়ে ৯টায় দ্বিতীয় জামাতে ইমাম ছিলেন মসজিদে গাউছুল আজম-এর ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান এবং সাড়ে ১০টায় তৃতীয় জামাতে ইমাম ছিলেন মসজিদে গাউছুল আজম-এর মুয়াজ্জিন মাওলানা মো. রূহুল আমীন। প্রত্যেক জামাতেই মুসল্লি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।
উল্লেখ্য, মসজিদ কর্তৃপক্ষ মুসল্লিদের স্বাস্থ্যের কথা খেয়াল রেখে পূর্বেই সকলকে নিজ বাসায় ওযু করে আলাদা আলাদা জায়নামাজ নিয়ে ও মাস্ক ব্যবহার করে মসজিদে প্রবেশের নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়াও মুসল্লিদের প্রবেশদ্বারে পর্যাপ্ত জীবাণুনাশক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন