ঢাকা রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫ আশ্বিন ১৪২৭, ০২ সফর ১৪৪২ হিজরী

ব্যবসা বাণিজ্য

ঢাকায় কার্যক্রম গুটালো অ্যাকর্ড

পোশাক কারখানা নিরীক্ষা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩১ মে, ২০২০, ১১:৪৬ পিএম

ভবন ধসে প্রাণহানির ঘটনায় ২০১৪ সালে শুরু হয় পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ ও শ্রম নিরাপত্তা মূল্যায়নের নিরীক্ষা কার্যক্রম। বাংলাদেশের কারখানায় তৈরি পোশাকের ক্রেতা ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক অধিকার সংস্থার সমন্বয়ে গঠন করা হয় একাধিক জোট। এর একটি হলো ইউরোপভিত্তিক জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ (অ্যাকর্ড)। এ জোটটির ঢাকা কার্যালয়টি বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

অ্যাকর্ডের পক্ষে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে ব্যারিস্টার ওমর এইচ খান বলেন, আমার মক্কেল স্টিকটিং বাংলাদেশ অ্যাকর্ড ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সব সরকারি সংস্থা এবং অন্য সব সংস্থা, কর্তৃপক্ষ এবং ব্যক্তিবর্গ যাদের স্টিকটিং বাংলাদেশ অ্যাকর্ড ফাউন্ডেশনে সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে তাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আমার মক্কেল তার বাংলাদেশ লিয়াজোঁ অফিসের সব কার্যক্রম এবং তাদের সব অ্যাকাউন্টিং রেকর্ডস ৩১ মে (রোববার) থেকে বন্ধ থাকবে।

নির্ধারিত তারিখের মধ্যে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে লিয়াজোঁ/প্রতিনিধি অফিস বন্ধের অনুমতির জন্য, অফিস বন্ধের আবেদন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়নের (বিআইডিএ) কাছে জমা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে অ্যাকর্ড জানিয়েছিল, শর্তসাপেক্ষে এ জোটটি নিরীক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে পোশাক কারখানার মূল্যায়ন কার্যক্রম গুটিয়ে নেবে।

জানা গেছে, অ্যাকর্ডের পূর্বঘোষিত মেয়াদ শেষ হয় ২০১৮ সালের জুন মাসে। কিন্তু কারখানার সংস্কার অনগ্রসরতা গতি ও শ্রম অধিকার নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়েই মেয়াদ বৃদ্ধির পরিকল্পনা ঘোষণা করে ক্রেতা জোটটি। এদিকে কারখানার মূল্যায়ন কার্যক্রম ও সংস্কারের বিষয় নিয়েই বিক্ষুব্ধ কারখানা কর্তৃপক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। গত বছর মে মাসে আদালতের অ্যাকর্ডকে ২৮১ দিন সময় দেয়। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ‘আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিল’ (আরএসসি) প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয় অ্যাকর্ড ও বিজিএমইএর মধ্যে। সেপ্টেম্বরের আলোচনায় সব পক্ষ চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে অ্যাকর্ড এবং এর সব কাজের (পরিদর্শন, প্রতিকার, প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা-অভিযোগ প্রক্রিয়া) একটি সাবলীল হস্তান্তর নিশ্চিত করতে বিবিধ বিষয়ে একমত হয়। যার ধারাবাহিকতায় ১৪ জানুয়ারি অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিজিএমইএ প্রতিনিধিরা। একটি ট্রানজিশন চুক্তির মাধ্যমে আরএসসি গঠন ও এর ধারা অনুসরণের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয় আলোচনায়। যার পরিপ্রেক্ষিতে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে শনিবার।

বিবৃতি অনুযায়ী, ট্রানজিশন চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে আছে কার্যকর ফলাফলের কারণে এরই মধ্যে অ্যাকর্ডের পক্ষ থেকে নেয়া নথিবদ্ধ সিদ্ধান্ত, নীতি ও প্রটোকল আরএসসি অব্যাহত রাখবে। অ্যাকর্ডের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। অ্যাকর্ডের বিদ্যমান সংশোধনমূলক পরিকল্পনা অনুযায়ী কারখানার মূল্যায়ন কর্মসূচি আরএসসির আওতায় অব্যাহত রাখা হবে। ঢাকায় অ্যাকর্ডের সব কার্যক্রম, কর্মী, অবকাঠামো আরএসসিতে স্থানান্তর করা হবে। আরএসসিতে স্বাধীন, স্বতন্ত্র ও অ্যাকর্ডের রিপোর্টিং পদ্ধতি অনুসরণ করে চিফ সেফটি ইন্সপেক্টর নিয়োগ দেয়া হবে। অ্যাকর্ডে প্রচলিত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক অভিযোগ পদ্ধতি আরএসসিতে অনুসরণ করা হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন