শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

সেতু ও রেলের নতুন দুই আইন বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের বিধান

প্রকাশের সময় : ২৫ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের যেকোনো সেতুতে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি বা আগে যাওয়ার জন্য সারিভঙ্গ করে টোলঘরের কাছে জটলা সৃষ্টি করলে ১০ হাজার টাকা অর্থদ- আরোপ ও বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করার বিধান রেখে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৬ বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এছাড়া বিলে সেতু কর্তৃপক্ষকে সেতু বা টানেল পরিচালনায় কোম্পানি গঠন ও ইজারা প্রদানেরও ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। পরে রেলওয়ের সম্পদ রক্ষা পৃথক একটি আইন পাস করা হয়।  
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দশম সংসদের একাদশ অধিবেশনে গতকালের বৈঠকে সেতু কর্তৃপক্ষ আইনটি পাস হয়। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৬ বিলটি পাস করার প্রস্তাব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর আগে বিলটির ওপর আনীত বাছাই কমিটিতে প্রেরণ, জনমত যাচাই ও সংশোধনী প্রস্তাবসমূহ কণ্ঠভোটে সংসদে নাকচ হয়ে যায়। অপরদিকে রেলওয়ের সম্পত্তি চুরি, অবৈধ দখলে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারসহ সর্বোচ্চ সাত বছরের দ- এবং দখলে সহায়তার জন্য পাঁচ বছরের দ-ের বিধান রেখে ‘রেলওয়ে সম্পত্তি (অবৈধ দখল উদ্ধার) বিল-২০১৬’ সংসদে পাস হয়েছে। এ বিলটি উত্থাপন করেন রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক।
সেতু কর্তৃপক্ষের বিলের ২১ ধারায় বলা হয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ  জনসাধারণরে জন্য বিপজ্জনক মনে করলে নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণীর যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করতে পারবেন। ২২ ধারায় সেতু কর্তৃপক্ষকে নিজ এলাকায় যে কোনো প্রতিবন্ধকতা অপসারণে বল প্রয়োগের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ২৩ ধারায় সেতু কর্তৃপক্ষকে যে কোনো যানবাহন থামানো, যানবাহনের চালক, যাত্রী বা ব্যক্তিকে তল্লাশি করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ২৫ ধারায় সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে কোনো স্থাপনা নির্মাণের পর তার মালিকানা, প্রশাসন ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য শেয়ার মূলধন সম্পর্কিত কোম্পানি গঠনের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ২৭ ধারায় সেতু কর্তৃপক্ষকে সেতু, টানেল বা অন্যান্য স্থাপনা নির্ধারিত শর্তে ইজারা প্রদানের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।  ২৮ ধারায় কোনো সেতু, টানেল বা টোল সড়কে বা  অন্য কোনো স্থাপনায় যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে বা আগে যাওয়ার জন্য সারিভঙ্গ করে সেতু টোলঘরের কাছে জটলা সৃষ্টি করলে ১০ হাজার টাকা অর্থদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। ২৯ ধারায় কর্তৃপক্ষের কোনো আদেশ অমান্য করলে অনধিক পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ৩০ ধারা বলে পুলিশ বা কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেতু কর্তৃপক্ষের জারিকৃত কোনো বিধি বা আদেশ অমান্য করতে দেখলে বিনা ওয়ারেন্টে তাকে গ্রেফতার করতে পারবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আদালতের রায়ে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের ১৯ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হওয়ায় যমুনা বহুমুখী সেতু কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ১৯৮৫ এবং ২০০৯ সালে নাম যমুনা বহুমুখী সেতু কর্তৃপক্ষ ২০০৯-এর কার্যকারিতা লোপ পায়। আইনের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সেতু, টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা ও বিধান প্রণয়নের জন্য জারিকৃত অধ্যাদেশ পরিমার্জিত আকারে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৬ বিলটি সংসদে পেশ করা হলো।
রেলের সম্পদ অবৈধ দখলে সাত বছরের দ-
রেলওয়ের সম্পত্তি চুরি, অবৈধ দখলে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারসহ সর্বোচ্চ সাত বছরের দ- এবং দখলে সহায়তার জন্য পাঁচ বছরের দ-ের বিধান রেখে ‘রেলওয়ে সম্পত্তি (অবৈধ দখল উদ্ধার) বিল- ২০১৬’ সংসদে পাস হয়েছে।
ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে দশম সংসদের একাদশ অধিবেশনে গতকালের বৈঠকে বিলটি পাস হয়। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৬ বিলটি পাস করার প্রস্তাব করেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। এর আগে বিলটির ওপর আনীত বাছাই কমিটিতে প্রেরণ, জনমত যাচাই ও সংশোধনী প্রস্তাবসমূহ কণ্ঠভোটে সংসদে নাকচ হয়ে যায়। সংসদের চলতি অধিবেশনে গত ৯ জুন বিলটি উত্থাপিত হয়।
বিলে বলা হয়েছে, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্যের কাছে যদি মনে হয় কোনো ব্যক্তি এই আইনের আওতায় অপরাধ করছেন তবে বিনা পরোয়ানায় তাকে গ্রেফতার করতে পারবেন। তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাহিনীর কর্মকর্তারা কোনো ব্যক্তির সাক্ষ্য নেয়া, দলিল দাখিল বা উপস্থিতি নিশ্চিতে সমন জারি করতে পারবেন। কোনো স্থানে রেলওয়ের চুরিকৃত বা অবৈধভাবে অর্জিত রেল সম্পত্তি জমা বা বিক্রির জন্য ব্যবহৃত হওয়ার খবর থাকলে নিরাপত্তা বাহিনী আদালতের অনুমোদন নিয়ে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা ও মালামাল জব্ধ করতে পারবেন। এছাড়া রেল কর্তৃপক্ষ অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, প্রাণ, যানবাহন বাজেয়াপ্ত করতে পারবে এবং তা রেলওয়ের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, উচ্চ আদালতের রায়ে সংবিধানের ৫ম সংশোধনী বাতিল হয়ে গেলে ১৯৭৯ সালে জারি করা দ্যা রেলওয়ে প্রোপারটি (আন ল’ফুল পজেশন) অর্ডিন্যান্সটির কার্যকারিতা লোপ পায়। পরে ২০১৩ সালে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরণ বিশেষ বিধান আইন প্রণয়ন করা হয়। তারই আলোকে রেলওয়ে সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য বিলটি উত্থাপন করা হয়েছে।
এর আগে জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্ট জাজেস বিল ২০১৬-এর সংশোধনী পর্যালোচনা করে রিপোর্ট উত্থাপন করেন আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
গতকাল সংসদে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন ২০১২ সংশোধনের লক্ষ্যে একটি বিল উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন