ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২০, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭, ১১ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

স্ত্রীর হাত ধরতে চেয়েছিলেন মৃত্যুর আগে!

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২ জুন, ২০২০, ১২:০৪ পিএম

যার সঙ্গে জীবনের দীর্ঘ সময় কাটালেন মৃত্যু সময় বড় আশা নিয়ে সেই স্ত্রীর হাত ধরতে চেয়েছিলেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে করোনা উপসর্গ বহনকারী খাজা নাজিম উদ্দিন তালুকদার (৬৫)। কিন্তু তার শেষ ইচ্ছা পূরণ হয়নি। মৃত্যুকালে কাছে পায়নি প্রিয়তমা স্ত্রী ও কলিজার ধন দুই সন্তানকে। নিজের সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে তৈরি করা আধা পাকা ঘরে স্থান হয়নি তার।

করোনা নামক প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত সন্দেহে একটি দো-চালা ঘরে অনেকটা অনাদরে সোমবার ভোরে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হলো তাকে। স্বামীর মৃত্যুর আগের শেষ ইচ্ছার কথা বিলাপ করে বার বার দাফন করতে যাওয়া প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে বলছিলেন তার স্ত্রী। প্রশাসনের সহায়তায় সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের বিলচাপড়া সামাজিক কবরস্থানে ওই ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন হয়।

গোবিন্দাসী ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার জানান, ঢাকার শ্যামলী পিসি কালচার হাউজিং এলাকায় নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করত খাজা নাজিম উদ্দিন তালুকদার। তার দুই ছেলেও ঢাকাতে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে চাকরি করেন। ৮/১০ দিন আগে করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাস কষ্ট দেখা দেয় তার। বিষয়টি তার স্ত্রী ও সন্তানদের জানায়।

চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে নিজ থেকেই ওষুধ কিনে খায়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রোববার রাত ১১টার দিকে একটি প্রাইভেটকার ভাড়া নিয়ে বাড়ি চলে আসে। রাতে সামান্য খাবার খায়। অন্য একটি ঘরে একাই ঘুমাতে দেওয়া হয় তাকে। রাতে স্ত্রী ও সন্তানদের ডাকাডাকিও করলেও করোনার ভয়ে কাছে যায়নি কেউ। ভোর রাতের দিকে তিনি মারা যান।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (5)
Sohel ৩ জুন, ২০২০, ১:৫০ পিএম says : 0
আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাপ করুন।
Total Reply(0)
Tanvir Ahmmed jaman ৩ জুন, ২০২০, ১১:১৩ এএম says : 0
এটাই বর্তমান বাস্তবতা সকল পরিবারের চিত্র প্রায় একই রকমের হবে। যদি প্রমান করার কোন সুযোগ থাকত তাহলে দেখতে পারতেন।
Total Reply(0)
মোঃ মুজিবুর রহমান ৩ জুন, ২০২০, ১১:৫৮ এএম says : 0
ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক,আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।
Total Reply(0)
Mohammed Shah Alam Khan ৪ জুন, ২০২০, ৯:৪৩ পিএম says : 0
আমরা মুসলমান আমরা বিশ্বাস করি আমাদের কর্মফল আমরা এই পৃথিবীতেই যদি সম্পূর্ণ ভাবে মানে ভাল করলে ভাল খারাপ করলে সাজা ভোগ করতে পারি তাহলে পরকালের বিচারের ভয় থাকেনা। ওনার মাটি ছিল গ্রামের বাড়িতে তাই মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি ব্যাক্তিগত মালিকানার গাড়ী ভাড়া নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন এবং সেই রাতেই তিনি ইন্তেকাল করেন “ইন্নালিল্লাহে অইন্নালিল্লাহে রাজেউন”। তাঁকে একা আলাদা ঘরে থাকতে দেয়া হয় সংক্রামকের কারনে। রাতে মৃত্যুর আগে স্ত্রী ও সন্তানদের ডেকেও কাছে পাননি এই মহা ভয়ঙ্কর রোগ করোনার কারনে। শেষ পর্যন্ত অতৃপ্ত অবস্থায় তাঁকে এই পৃথিবীর মায়া কেটে চলে যেতে হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় যারা মারা যান তারা সভাবত ভাবেই সর্বক্ষণই আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে থাকেন তাই সেসময় আমাদের বিশ্বাস আল্লহর রহমতও তার কাছে আসতে থাকে। বলতে শোনাযায় কেহ যদি মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তাদেরকে আল্লাহ্‌ শহিদের মর্যাদা শহীদ নয় দিয়ে থাকেন। বর্তমান অবস্থায় এখন আল্লাহ্‌ই জানেন এই মৃতব্যাক্তিকে আল্লাহ্‌ কিভাবে মর্যাদা দিবেন। আমাদের দোয়া থাকবে আল্লাহ্‌ যেন তার আত্মার শান্তি দেন। আমিন
Total Reply(0)
Shabbir Khilogramy ৬ জুন, ২০২০, ৬:১২ পিএম says : 0
এখন বৌ কেনো কাদে
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন