ঢাকা, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ১২ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

প্রবাস জীবন

কুয়েতে বাংলাদেশি কর্মীরা চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে

আরো ২৮৯ অবৈধ কর্মী ফিরছে

শামসুল ইসলাম | প্রকাশের সময় : ২ জুন, ২০২০, ১:২৪ পিএম

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারী চলাকালে কুয়েত থেকে অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীদের দেশে ফেরা অব্যাহত রয়েছে। কুয়েত সরকারের সাধারণ ক্ষমার আওতায় গতকাল সোমবার গভীর রাতে কুয়েত এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইট যোগে দেশটি থেকে ২৮৯ জন অবৈধ প্রবাসী কর্মী খালি হাতে দেশে ফিরেছে। দেশটির চারটি অস্থায়ী ক্যাম্পে প্রায় তিন হাজার অবৈধ কর্মী এখনো দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে। কুয়েত থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি সূত্র এতথ্য জানিয়েছে।
দেশটিতে ঘরবন্দি বৈধ-অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীরা চরম উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। করোনা মহামারীতে অনেক প্রবাসী কর্মীই চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে, প্রায় তিন মাস পর লকডাউন শিথিল হওয়ায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় গতকাল থেকে বিদেশ থেকে প্রত্যাগত অবৈধ কর্মীদের জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে কুয়েত থেকে প্রত্যাগত ২৮৯ জন কর্মীর ভাগ্যে সরকারি নগদ সহায়তার টাকা জুটেনি। এতে চরমভাবে ক্ষুদ্ধ হয়ে কুয়েত প্রত্যাগত অনেকেই সরকারি সহায়তার নগদ ৫ হাজার টাকার জন্য বিমান বন্দর কল্যাণ ডেস্কে ধরনা দিয়ে টাকা না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন।
তেল সমৃদ্ধ দেশ কুয়েতে ১৯৭৬ সাল থেকে গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ৬ লাখ ৩০ হাজার ৪৭৩ জন কর্মী চাকুরি লাভ করেছিল। দেশটিতে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীরা কঠোর পরিশ্রম করে প্রচুর রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছে। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কুয়েত প্রবাসী কর্মীরা ২৫০ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছে।
উল্লেখ্য,গত ১ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অবৈধ অভিবাসীদের কুয়েত ছাড়ার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে দেশটির সরকার। প্রায় সাড়ে ৪ হাজার অবৈধ অভিবাসী বাংলাদেশি সাধারণ ক্ষমার আবেদন করেন। রাজধানী কুয়েত সিটির বাইরে চারটি ক্যাম্পে তাদের রাখা হয়েছে। ক্যাম্পগুলো হচ্ছে, আবদালিয়া, সেবদি, মাঙ্গাফ ও কসর। কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রচেষ্টায় দেশটির কয়েকটি ফ্লাইট যোগে সহ¯্রাধিক কর্মী ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছে।
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, দেশটিতে এক লাখ ৬০ হাজার অবৈধ অভিবাসী রয়েছে। এবার ২০২০ এর সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়েছেন ২৫ হাজার অবৈধ অভিবাসী। অর্থাৎ এখনও এক লাখ ৩৫ হাজার অবৈধ অভিবাসী সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নেয়া থেকে বিরত রয়েছে। তবে এর মধ্যে বাংলাদেশি কতজন তা জানা যায়নি। দেশটিতে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
বায়রার ইসির অন্যতম সদস্য গোলাম মাওলানা রিপন আজ মঙ্গলবার ইনকিলাবকে বলেন, ভ্রাতৃ-প্রতীম কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মরণঘাতী করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে লাখ লাখ বাংলাদেশি কর্মী চাকরি হারানোর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। দেশগুলোতে ঘরবন্দি প্রবাসী কর্মীরা চরম উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। জ্বালাতি তেলের দাম সর্বনি¤œ পর্যায়ে নেমে আসার এসব দেশগুলোতে অর্থনৈতিক মন্দার ঢেউ লেগেছে। বায়রা নেতা রিপন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বৃহৎ শ্রমবাজার ধরে রাখা এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনতিবিলম্বে প্রবাসী কর্মীদের চাকরি ঝুঁকি হ্রাস এবং দেশে ফেরত না পাঠাতে ব্যাপক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় বিদেশ থেকে কর্মী ফেরত আসা অব্যাহত থাকলে রেমিট্যান্স খাতে ভয়াবহ ধস নামবে। তিনি সরকার ঘোষিত প্রত্যাগত কর্মীদের পুনর্বাসনে বরাদ্দকৃত অর্থ ঋণ বণ্টনে হয়রানি ও ভোগান্তি লাঘবে সজাগ দৃষ্টি রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন