ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাবি করেও লাদাখে মুখোমুখি চীন-ভারত

শনিবার সামরিক পর্যায়ের বৈঠক

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৪ জুন, ২০২০, ১২:০১ এএম

বিতর্কিত লাদাখ সীমান্ত নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীনের মধ্যে। সেখানে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে দুই দেশই। কিন্তু উভয় পক্ষই সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করছে। এর মধ্যেই আগামী ৬ জুন শনিবার সেনা পর্যায়ের বৈঠকে বসছে ভারত-চীন।
ভারত নিয়ন্ত্রিত লাদাখ এবং চীন-প্রশাসিত আকসাই চীনের মধ্যে বিবদমান পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, সীমান্তে নয়াদিল্লি ‘মাথা নত করবে’ না। গত সোমবার এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান জানান, বেইজিং দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে বাধ্যবাধকতা মেনে চলে। তারা ‘জাতীয় আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব এবং সুরক্ষা’ নিশ্চিত করতে এবং চীন ও ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সীমান্তের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য। আমরা বিশ্বাস করি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও পরামর্শের পরে বিষয়টি সঠিকভাবে সমাধান করা যেতে পারে।’ এর পরে এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, ‘উভয় পক্ষই সংলাপের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শান্তিপূর্ণভাবে উদ্ভ‚ত পরিস্থিতি সমাধান করতে সামরিক ও ক‚টনৈতিক পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’

এর মধ্যেই মঙ্গলবার ভারতের পক্ষ থেকে চীনের কাছে সামরিক পর্যায়ে বৈঠকের প্রস্তাব দেয়া হয়। তাতে সাড়া দিয়েছে চীন। আগামী শনিবার সীমান্তের চুশুল মলডো সেনা ছাউনিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ভারতীয় সেনার তরফে নেতৃত্ব দেবেন ১৪ কোরের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিংহ।

ভারতীয় সেনার একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকের আগে আন্তরিকতার বার্তা দিয়েছে চীন। লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনা কমাতে দু’পক্ষই কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিতে পারে বলে মনে করছেন ক‚টনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও একটি অংশের মতে, ডোকালামের মতো কয়েক মাস ধরে এই সেনা মোতায়েন এবং তার জেরে উত্তেজনার পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে লাদাখ সীমান্তে। গত মাসে কমপক্ষে চারবার দুই দেশের সেনাদের মধ্যে বিক্ষিপ্ত হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

২০১৭ সালে ডোকালামের পর ভারত-চীনের কোনও সীমান্তে আর এত বড় সেনা সমাবেশ হয়নি। মে মাসের শুরতে দিকে লাদাখে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর আচমকাই চীনা সেনার তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই নয়াদিল্লি-বেইজিং সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়। দু’দফায় হাতাহাতি সংঘাতের পর গালওয়ান উপত্যকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বিপুল সেনা মোতায়েন করে চীন। পাল্টা ভারতও সেনা মোতায়েন শুরু করে। মে মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে পরিস্থিতি এতটাই তপ্ত হয়ে ওঠে যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা-সহ সেনার পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার পর ভারত আপোষের প্রস্তাব দেয়ায় চীনও নমনীয় অবস্থান নেয়। শনিবারের এই সেনা পর্যায়ের বৈঠকে উত্তেজনা আরও কমতে পারে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস রোববার জানিয়েছে যে, চীনের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সর্বাধুনিক টাইপ-১৫ ট্যাংক, জেড-২০ হেলিকপ্টার এবং জিজে-২ ড্রোন জাতীয় নতুন অস্ত্র ও সরঞ্জাম দেয়া হয়েছে। এরপরে একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সীমান্তে অন্তত পাঁচ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে চীন। চীনা হেলিকপ্টারের জবাবে সেখানে ভারতীয় যুদ্ধ বিমান টহল দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দু’পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে বেইজিং এবং নয়াদিল্লির উভয় পক্ষই সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। পরিবর্তে তারা তাদের প্রতিষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক ক‚টনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা জানায়। সূত্র : নিউজউইক, এনডিটিভি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন