ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বিপুল চীনা বিনিয়োগ আসছে : সালমান এফ রহমান

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৪ জুন, ২০২০, ৭:০৩ পিএম

চীন থেকে বিপুল পরিমান বিনিয়োগ আসছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এমপি। তিনি বলেছেন, চীন থেকে সরে আসা বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি সরাসরি চীনা বিনিয়োগ পেতেও সরকার কাজ করছে। সে বিনিয়োগ আসছে। বৃহস্পতিবার বিজিএমই-এর কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ ল্যাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় করোনার কারণে গত তিন মাসে পোশাকখাতে ৪২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা জানিয়ে বিজিএমইএ'র সভাপতি রুবানা হক বলেছেন, এই কারণে শ্রমিকেরা চাকরি হারাচ্ছেন। দু:খজনক হলো সামনে আরো হারাবেন।
বিজিএমইএ আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কারখানায় আইসোলেশন সেন্টারের পাশাপাশি একটি করে করোনা ভাইরাস শনাক্তে ল্যাব স্থাপনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি বলেন, আমি খবর নিয়ে জানতে পেরেছি, অনেক কারখানায় শ্রমিকদের জন্য ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিন স্থাপন করা হয়েছে। অনেক কারখানায় করোনা আইসোলেশন সেন্টারও স্থাপন করা হয়েছে। ফলে প্রতিদিনই করোনা থেকে সুস্থ হয়ে কাজে ফিরছেন অনেকে। সরকারের পক্ষ থেকে সুস্থ হওয়ার যে তথ্য দেয়া হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে তার চেয়ে বেশি সুস্থ হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে পুলিশ বিভাগের রিপোর্ট অনুসারে করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের ৮৫ শতাংশ সুস্থ হয়ে গেছে। তারা কাজেও যোগদান করেছেন। তাই বিজিএমইএসহ সব কারখানায় যেন পর্যায়ক্রমে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করে।
বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, জুন থেকে গার্মেন্টসে শ্রমিকদের ছাঁটাই হবে। এটি অনাকাক্সিক্ষত বাস্তবতা। করার কিছু নেই। কারণ শতকরা ৫৫ শতাংশ ক্যাপাসিটিতে ফ্যাক্টরি চলছে। আমাদের ছাঁটাই ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। তবে এ ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের জন্য কী করা হবে; এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলছি, কীভাবে এ সংকট মোকাবিলা করা যায়। তবে এ অবস্থা হঠাৎ করে বদলেও যেতে পারে। তখন ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকরাই কাজে যোগ দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। তিনি বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাবের সময়ে প্রায় ৩ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানির ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ শতাংশ ফেরত আসছে। তবে যারা ফেরত এসেছে তারা আবার বিভিন্ন শর্ত দিচ্ছে। বিশ্বে ভোক্তার চাহিদা কমে যাচ্ছে। আগামীতে ৬৫ শতাংশ চাহিদা কমে যাবে। দেশের পোশাক কারখানায়ও ৫৫ শতাংশ কমে যাবে। ৪২ হাজার কোটি টাকা মার্চ থেকে মে পর্যন্ত ক্ষতি হবে। করোনায় দেশের ৯৯ শতাংশ পোশাক কারখানার ৫৫ শতাংশ ক্যাপাসিটি দিয়ে চালাতে হবে। জুনে কারখানাগুলোতে ৩০ শতাংশ কাজ হবে। জুলাইতে কী হবে বলা যাচ্ছে না। আমাদের বড় ধাক্কা খেতে হবে। এটি অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। বিজিএমইএ অন্তর্ভুক্ত কারখানা ২২৭৪টি এখন ১৯২৬টি চলছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, এই ল্যাব চালুর মাধ্যমে বিজিএমইএ আবারও প্রমাণ করল যে, বিজিএমইএ- এর সদস্যরা শুধু ব্যবসা করে না। মানবিকভাবে শ্রমিকদের পাশেও দাঁড়ায়। জীবন-জীবিকা নির্বাহের মাধ্যমে শ্রমিক ও মালিকরা মিলে এই খাতের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। সবাইকে সচেতন হতে হবে। সবাইকে মাস্ক পড়তে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ'র সভাপতি ড. রুবানা হক। এসময় ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজমন্ত্রী টিপু মুনশি, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (বাডাস)-এর সভাপতি প্রফেসর ডা. একে আজাদ খান, বস্ত্রকল-মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন (বিটিএমএ) -এর সাবেক সভাপতি মতিন চৌধুরী, এফবিসিসিআই-এর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এমপি, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুশের্দী এমপি, শ্রমসচিব আব্দুস সালাম প্রমূখ।
পোশাক শ্রমিকদের করোনাভাইরাস শনাক্তে ল্যাব তৈরি করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গার্মেন্ট সেক্টরে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দায়িত্ব মালিকপক্ষের পাশাপাশি তাদেরও রয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে চারটি ল্যাব বসাচ্ছে। শ্রমিকদের জন্য স্থাপিত ‘স্টেট অব দ্য আর্ট কোভিড-১৯ ল্যাব’টির কারিগরি সহায়তা করছে ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বাডাস)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদ- অনুসারে দেশে প্রথম বিশ্বমানের স্টেট অব দ্য আর্ট কোভিড-১৯ ল্যাব তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গাজীপুরের চন্দ্রায় ড. ফরিদা হক মেমোরিয়াল জেনারেল হাসপাতালে প্রধান ল্যাবটির কার্যক্রম শুরু হবে। এতে ওষুধ এবং ল্যাব খরচ দেবে বিজিএমইএ। আন্তর্জাতিক মানের এসব ল্যাব সেন্টারে প্রতিদিন ৪০০টি করে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা যাবে। পর্যায়ক্রমে শিফটসহ নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাও বাড়ানো হবে। এই ল্যাবগুলো হবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদ- অনুসারে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Mohammed Shah Alam Khan ৪ জুন, ২০২০, ৮:৫২ পিএম says : 0
চীন থেকে বিপুল পরিমান বিনিয়োগ আসছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এমপি। এটা চীনের বানিজ্যিক কর্মকাণ্ডের একটা ধারা বাহিক প্রচেষ্টা বলে অনেকেই মনেকরে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় চীন বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল ফলে স্বাধীন বাংলাদেশের উপর চীনের কোনই হাত (কর্তৃত্বই) ছিল না তখন ভারত একছত্র ব্যাবসা করছিল। কিন্তু ১৯৭৫ এর ক্ষমতা পরিবর্তনের পর .....দের প্রভাবে চীন বাংলাদেশে আস্তানা গেড়ে বসে। সেই থেকে অদ্যাবদি চীন বাংলাদেশে তাদের ব্যাবসায়িক ভিত্তি মুজবুত করেই চলছে। ভারত ও চীন এই দুইদেশের মালামাল দিয়ে বাংলাদেশ সয়লাব হয়ে আছে। শিল্প ক্ষেত্রেও এই দুই দেশের প্রভাব রয়েছে বাংলাদেশে। আল্লাহ্‌র কাছে আমাদের একান্ত প্রার্থনা তিনি যেন বাংলাদেশীদেরকে স্বদেশ প্রেমিক করে তুলেন। তাহলে এনারা অন্যদেশের জিনিষ থেকে নিজের দেশে উৎপাদিত জিনিষের উপর নির্ভরশীল হবে এবং দেশীয় শিল্প এগিয়ে যাবে এতে করে বিদেশীদের প্রভাব বাংলাদেশে কমতে থাকবে। আল্লাহ্‌ আমাকে সহ সবাইকে দেশপ্রেমিক হবার যোগ্যতা দান করুন। আমিন
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন