ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

চিকিৎসার নামে ডাকাতি

করোনা সেবায় বেসরকারি হাসপাতাল

হাসান সোহেল | প্রকাশের সময় : ৫ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম

এগুলো ব্যবসায়িক চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ : ডা. এম ইকবাল আর্সলান


সবার উচিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো : ডা. কামরুল হাসান খান


করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিকে গর্তে লুকিয়ে ছিল বেসরকারি হাসপাতালগুলো। চিকিৎসার নামে রোগীদের গলাকেটে ‘মোটাতাজা’ হওয়া হাসপাতাল সংক্রমিত হতে পারে সে ভয়ে দরজা বন্ধ করেছিল। এমনকি করোনার ভয়ে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা পর্যন্ত করেনি। বিশেষজ্ঞরা যখন ঘোষণা দিলেন ‘করোনাভাইরাস যাবে না, সীমিত পর্যায়ে থেকে যাবে’। তখন ব্যবসা ধরে রাখতে করোনা রোগীদের চিকিৎসার করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় তারা। জাতীর সংকটময় মূহুর্তে করোনা চিকিৎসার জন্য সরকার বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে দিক-নির্দেশনাও দেয়। কিন্তু ‘চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী’। করোনা রোগীদের চিকিৎসার নামে বেসরকারি হাসপাতালগুলো যেন ‘চাঞ্চ পেয়ে গেছি’ মানসিকতা নিয়ে ব্যবসায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। দেশের করোনা চিকিৎসায় রোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকার ভুয়া বিল নেয়ার খবর বিশ্বের প্রভাবশালী মিডিয়াগুলোতে ফলাও করে প্রচার হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটাকে ‘চিকিৎসার নামে ডাকাতি’ হিসেবে অবিহিত করেছেন অনেকে।

জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ডা. কামরুল হাসান খান ইনকিলাবকে বলেন, করোনা একটি জাতীয় মহামারী। এখনই সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এখানে জোরাজুরির বিষয় নেই। জাতির এ সংকটে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে আলোচনার মাধ্যমে বলে উল্লেখ করেন ডা. কামরুল হাসান। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটির সদস্য এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি প্রফেসর ডা. এম ইকবাল আর্সলান বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো মূলত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এখন তাদের ব্যবসায়িক চরিত্রের বর্হিপ্রকাশ ঘটছে। তারা যে জনহিতকর কাজ করে না-তার প্রতিফলিত হচ্ছে।

করোনা ছিল না তারপরও টাকা খসাতে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে নেয়া হয়। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে পরে যা ঘটলো তাহলো মুক্তিযোদ্ধা ভেরনোন অ্যান্থনি পলসহ ৫ জন মারা গেলেন আগুনে পুড়ে। শুধু তাই নয় রোগী মারা যাওয়ার পর ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৫১ টাকার বিলও পাঠানো হয় মৃতদের পরিবারের কাছে। সরকার নির্ধারিত কোভিড-১৯ হাসপাতাল রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল। সব ধরণের চিকিৎসা ব্যয় ফ্রি। অথচ করোনায় আক্রান্ত সাইফুর রহমান নামে এক রোগীর কাছ থেকে ১১ দিনে বিল করা হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ টাকা। ওই রোগী জানান, তার কোনও অপারেশন হয়নি। আইসিইউতেও ছিলেন না। অক্সিজেন নেয়া লাগেনি। দুটি এক্সরে ও দুটি রক্ত পরীক্ষা করিয়েছে। কেবল নাপা ও গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট দেয়া হয়েছে। বাকি ওষুধ বাইরে থেকে কিনেছি। অথচ বিল এসেছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ টাকা! বিষয়টি মিডিয়াতে প্রচার হওয়ার পর করোনা আক্রান্ত রোগীকে ‘সরি’ বলে তার কাছ থেকে নেয়া টাকা বুধবার রাতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৫ টাকা ফেরত দিয়েছে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এখানেই শেষ নয়; সাইফুর রহমানের ঘটনা প্রকাশের পর ফকিরাপুলের দোকানি হুমায়ুন কবিরও বলেছেন, তার কাছ থেকেও অতিরিক্ত অর্থ নিয়েছে মডার্ন হাসপাতাল। গত ১৭ মে জ্বর নিয়ে ধানমÐির এই হাসপাতালে ভর্তি হন হুমায়ুন। নমুনা পরীক্ষা করে ২০ মে তার করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। ওই দিনই হাসপাতালের কোভিড-১৯ ইউনিটে স্থানান্তর করা হয় তাকে। সেদিনই তার কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা বিল নেওয়া হয়েছিল জানান হুমায়ুন। অথচ করোনাভাইরাসের চিকিৎসা ফ্রি বলেই জানতেন তিনি। তবে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়ার আগে গত মঙ্গলবার ২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭১ টাকার বিল ধরিয়ে দেয়া হয় তাকে। এত অর্থ দিতে না পারায় রাতে আর হাসপাতাল ছাড়তে পারেননি তিনি। তিনি বলেন, আমি ছোট একটা দোকান চালাই। ৭৫ হাজার টাকা দিতেই হিমশিম খাইছি। আমাকে কোনো অক্সিজেন দেয়নি। খুব বেশি ওষুধও দেয়নি। আমরা একটা রুমে পাঁচজন রোগী ছিলাম। কিন্তু এত টাকা বিল অযৌক্তিক মনে হইছে। তাই এইটা নিয়া আমি বাড়াবাড়ি করলাম। কিন্তু তারা বলে কিছু করার নাই। এক সময় হাসপাতালের ম্যানেজার আমারে কয়, ২০-২৫ হাজার টাকা কমায়া দিতে পারব। কিন্তু আমি এত টাকা দিব কেমনে আর আসব কেমনে? রাতে হাসপাতালের বেডেই থেকে যাই।

হুমায়ুন বলেন, রাতে ওই হাসপাতালের বিলিং শাখার একজন ফোনে তাকে জানান, তার বিলে টাকার পরিমাণ কমানো হয়েছে। পরে রাত ২টার দিকে একজন ফোন করে বলেÑ আমাদের ওপর চাপ আছে, আপনার বিল কমিয়ে দেয়া হয়েছে। পরে বুধবার সকালে ২০ হাজার ৭৪৬ টাকা দিয়ে হাসপাতাল ছাড়েন হুমায়ুন।

হুমায়ুন কবিরের বিলে দেখা গেছে, ২০ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত চিকিৎসকের বিল ২৫ হাজার ৫০০, হাসপাতাল বিল ১ লাখ ৯২ হাজার ৪০, পরীক্ষার বিল ৪ হাজার ৫৩৫, ওষুধের বিল ২৬ হাজার ৮৯২ টাকা ৯০ পয়সা ধরা হয়েছে। সঙ্গে ১০ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ৫০৪ টাকা। হুমায়ুন ও সাইফুর রহমানের মতো আরও অনেক রোগীর কাছ থেকে এমন বিল নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আছে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশে মহামারী করোনাভাইরাসের মধ্যে বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসার অভাবে প্রতিদিনই রোগী মৃত্যুর অভিযোগও রয়েছে। অনেক রোগী অভিযোগ করেছেন, জ্বর, সর্দি-কাশির মতো লক্ষণ থাকলেই এসব হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরেও অন্য রোগের চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেক বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করেও দেয়া হয়েছে। এক অর্থে অঘোষিত লকডাউন করে রাখা হয়েছে। অথচ সারা বছর হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করছে দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলো। রোগীদের বিভিন্নভাবে চিকিৎসার নামে গলা কেটেও দেশের এই ক্রান্তিকালে সেবার মানষিকতা নেই প্রতিষ্ঠানগুলোর। যদিও করোনার শুরুতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কাজে না লাগানোর অভিযোগ করেছেন ল্যাব এইড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ এম শামীম। পরে অনেক বেসরকারি হাসপাতাল করোনার সেবায় এগিয়ে আসলেও ল্যাব এইডে এখনো করোনা রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ হয়নি। আর যারাও এগিয়ে এসেছেন তারা রোগীদের সঙ্গে এক ধরণের ডাকাতিতে মেতেছেন। সেবার নামে বাণিজ্য করার অভিযোগ এই দুর্যোগের সময়েও ঘোচাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানগুলো। করোনার চিকিৎসায় এগিয়ে আসা বেসরকারি হাসপাতালগুলো সরকারের সঙ্গে দেনা-পাওনা নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছে। একটির কর্তৃপক্ষ ২শ’ শয্যার জন্য বিভিন্ন খাতে সরকারের কাছে মাসে ১৭ কোটি টাকার বেশি দাবি করেছে। অপর একটি চেয়েছে ডাক্তার ও স্টাফদের থাকা-খাওয়ার খরচও। অন্যরাও প্রায় একই ধরনের প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছে। দরদামে বনিবনা না হওয়া পর্যন্ত প্রায় কেউই সেবা দিতে রাজি হচ্ছে না। রফা হলেই তারা কাজে নামছে।

সূত্রমতে, সামর্থবান নাগরিকদের টার্গেট করে দেশেই উন্নত সেবা দিতে এভারকেয়ার (সাবেক অ্যাপোলো), স্কয়ার, ইউনাইটেড, আনোয়ার খান মডার্ন, পপুলার, ল্যাব এইড ও আজগর আলীর মতো কিছু হাসপাতাল গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিকভাবে মুনাফার উদ্দেশ্যে। এর বাইরে কিছু বিশেষায়িত হাসপাতাল রয়েছে, যারা উচ্চ মুনাফা করছে। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সারাদেশের বেসরকারি হাসপাতালে সব ধরণের রোগীর সেবা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। অন্যথায় কঠোর পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাবছরই রোগীদের কাছ থেকে ব্যবসা করেছে হাসপাতালগুলো। বর্তমান এই দুর্যোগে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর উচিত ব্যবসার চিন্তা মাথা থেকে বাতিল করে সেবার ব্রতে মানুষের পাশে দাড়ানো।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোর এ ধরনের কর্মকাÐে তাদের বাণিজ্যিক মনোভাবের বহিপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলো মূলত সেবা দেয়ার নামে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে। সেখানে সেবার চেয়ে আর্থিক মুনাফার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হয়। বড় বড় বেসরকারি হাসপাতাল গড়েই ওঠে সেইসব বিশেষায়িত বিভাগ নিয়ে, যে রোগগুলো উপশমে রোগীদের বিপুল অর্থ প্রদান করতে হয়ে। অনেক বেসরকারি হাসপাতালে সাধারণ রোগের চিকিৎসা হয় না।

করোনা আক্রান্ত নন এমন রোগীদের প্রতিনিয়ত ফিরিয়ে দেয়ার অভিযোগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ ধরনের হাসপাতাল ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল করার হুঁশিয়ারি দেন। যদিও সেই প্রেক্ষাপটে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মালিকদের একটি সংগঠন বিবৃতি দিয়ে বলেছে, লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি কোনো সমাধান হতে পারে না।

বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে চিকিৎসাসেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণার পর দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, বাংলাদেশে ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ বছরে বেসরকারি খাত থেকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে থাকেন। এখানে বাণিজ্যিক মুনাফাই মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে অভিযাগ উঠেছে সরকারিভাবে করোনা রোগীর সেবা দিয়ে বিল ডাকাতি বা অতিরিক্ত ব্যবসা করতে পারছে না বলে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ৩১ মে থেকে চুক্তি বাতিল করেছে আনোয়র খান মডার্ন হাসপাতাল। আর সুযোগ পেয়েই রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিল নেয়ায় মেতে উঠেছেন। অতিরিক্ত বিল নেয়ার বিষয়টি নিয়ে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের দু’জন চিকিৎসক বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা বিব্রত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, করোনা হাসপাতাল হওয়ার পর হাসপাতালের কিছু বিল বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আগে ডিউটি ডাক্তারের বিল ছিল পাঁচশ টাকা। সেটা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করা হয়। ১ জুন থেকে সেটা করা হয়েছে দুই হাজার টাকা। আরেক চিকিৎসক বলেন, এই হাসপাতালে কিছু সঙ্কট রয়েছে। এমন অবস্থা হয়, মাঝেমধ্যে নিজের বিবেকের কাছে বাধে। বিল বেশি করে এখন বলছে, ‘ভুল করে’ অতিরিক্ত অর্থ নেয়া হয়েছিল, তা ফেরত দেয়া হয়েছে।

সূত্র মতে, রাজধানীতে করোনা ডেডিকেটেড হিসেবে যে ১৩টি হাসপাতাল রয়েছে তার মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালের তালিকায় ছিল আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল। গত ১৬ মে হাসপাতালটির ২০০ বেডের কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড ভবন উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এছাড়া এতে রয়েছে ১০টি আইসিইউ, ১০টি এইচডিও ও পাঁচটি ভেন্টিলেটর। পাশাপাশি কোভিড-১৯ টেস্টের জন্য এখানে পিসিআর মেশিনের ব্যবস্থা করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য ড. আনোয়ার হোসেন খান স¤প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, সরকারের সঙ্গে আমাদের যে অঙ্গীকার ছিল, তা আমরা পালন করেছি। আমরা মানবতার কল্যাণে কাজ করতে চাই। আমি অন্য কিছু কখনও চাইনি। আমরা এখানে কোনও চিকিৎসা সেবার বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করবো না বা রোগীর সঙ্গে ব্যবসা করব না। সেবা দেয়াই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। অথচ কয়েকদিন যেতে না যেতইে ফুটে উঠছে রোগীদের কাছ থেকে গলা কাটার চিত্র।

আনোয়ার খান হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইহতেশামুল হক বলেন, সরকারের সঙ্গে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে আমাদের যে চুক্তি হয়েছিল, তা গত ৩১ মে থেকে বাতিল করেছি। সরকারের সঙ্গে আমরা আর নেই। আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলবে হাসপাতাল। এ কারণে রোগীকে নিজেই চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হবে।

কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালের তালিকা থেকে আনোয়ার খান মডার্নের বেরিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান খান বলেন, তারা আর থাকতে চাচ্ছে না। তবে গণমাধ্যম সচেতন ছিল বলেই রোগীর কাছ থেকে বেশি বিল রাখার একটা প্রতিকার হয়েছে। প্রতিদিনই রোগী বাড়ছে তাই চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে কি না জানতে চাইলে হাবিবুর রহমান বলেন, রোগীদের চিকিৎসায় অবহেলার সুযোগ নেই। প্রয়োজনে শিগগিরই রাজধানীর আরও একাধিক বেসরকারি মেডিক্যালকে করোনার জন্য বিশেষায়িত করা হবে। এছাড়া সারাদেশের বেসরকারি হাসপাতালে সব ধরনের রোগীর সেবা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহŸায়ক ডা. ফয়জুল হাকিম বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের কাছে একটি বিষয় পরিষ্কার সেটি হলো- সরকারি হাসপাতাল ছাড়া তাদের বেঁচে থাকা অসম্ভব। বেসরকারি হাসপাতালগুলো পুঁজি আর মুনাফা ছাড়া কিছুই বোঝে না। জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তাই সরকারের উচিত দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল রাষ্ট্রীয়করণ করা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল শাখার তথ্য মতে, দেশে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ৬৯টি হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়া সারাদেশে বেসরকারি খাতে শুধু হাসপাতাল ও ক্লিনিক আছে ১০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে বর্তমানে মাত্র কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে রিজেন্ট হাসপাতাল, সাজেদা ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসায় ইমপালস হাসপাতাল এবং গত মঙ্গলবার থেকে শাহাবুদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল করোনার চিকিৎসা শুরু করেছে। পাশাপাশি শিকদার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যদিও টাকা ছাড়া কোনো হাসপাতালই সেবা দিতে রাজি নয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (12)
Mohammed Kowaj Ali khan ৫ জুন, ২০২০, ৩:৫৫ এএম says : 0
মানুষ এতই নিরবোধ, কিচু বুজে না। হাসপাতালে যাওয়া মৃত্যুকে ঢেকে আনা।
Total Reply(0)
Khan Lipon ৫ জুন, ২০২০, ১২:৫৮ এএম says : 0
ওটা মানুষের রক্ত চুসে খাবার জন্য খাড়া করছে
Total Reply(0)
Asaduzzaman Akash ৫ জুন, ২০২০, ১২:৫৭ এএম says : 0
এটা তো চোরের হাসপাতাল চুরি করবে না তাহলে কি করবে
Total Reply(0)
Rafiq Sikder ৫ জুন, ২০২০, ১২:৫৮ এএম says : 0
ব্যাংক ডাকাতের চাইতে বড় ডাকাত আনোয়ার খান হসপিটাল
Total Reply(0)
Kamal Pasha Jafree ৫ জুন, ২০২০, ১২:৫৯ এএম says : 0
এইটাই ওদের ব্যবসা ডাকাতি করা।
Total Reply(0)
Ali Akbar ৫ জুন, ২০২০, ১২:৫৯ এএম says : 0
এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগ কেন তার ব্যবস্হা নেওয়া হয় না ! নাকি সরকারী দলের নেতা ও এমপিরা মালিক বলে ..
Total Reply(0)
Kamal Hossain ৫ জুন, ২০২০, ১২:৫৯ এএম says : 0
সরকারের উচিত প্রতিটি মেডিক্যাল প্রসিজার এর জন্য চার্জ নির্দিষ্ট করে দেওয়া। আর ১০% সার্ভিস চার্জ অথবা ভ্যাট কেন চিকিত্সার ক্ষেত্রে বাতিল হবে না? পৃথিবীর কোন দেশেই চিকিত্সার জন্য ট্যাক্স দিতে হয় না।
Total Reply(0)
Mohammad Mamun ৫ জুন, ২০২০, ১২:৫৯ এএম says : 0
সিল গালা করা হউক।
Total Reply(0)
মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ ৫ জুন, ২০২০, ৭:০৭ এএম says : 0
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। রোগীরা যখন বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছিল তখন তারা গর্তে লুকিয়েছিল। এখন তারা চুক্তি বাতিল করে ব্যবসায় নেমেছে। ছিঃ।
Total Reply(0)
Mizanur ৫ জুন, ২০২০, ১০:৩৯ এএম says : 0
শুরুতেই গলদ ছিল আতনক ছড়িয়ে, সরদি কাশির মত সাধারন একটা রোগ কে মহামারি বলে চালিয়ে দেয়া,এই সুযোগ এখন সবাই নিচ্ছে,
Total Reply(0)
jack ali ৫ জুন, ২০২০, ১১:০৪ এএম says : 0
Without Islam we will suffer by these criminal.
Total Reply(0)
ahammad ৫ জুন, ২০২০, ৩:১২ পিএম says : 0
বাংলাদেশে প্রাইভেট হাসপাতাল মানেই কসাই খানা। আসহায় জনগন সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা পায়না বলেই প্রাইভেট হাসপাতালে যেতে বাধ্য হয়। আর যাওয়ার পর দেখা যায় ৯৫% ডাঃ ই ২'৪"৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় আর অপ্রয়োজনীয় সব মিলিয়ে ২০'৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্যাথলজিটেষ্ট করাতে বাধ্য করা হয়। আমার সাধারন জ্ঞানে যতটুকু বুঝি ১/২ বার রুগিকে (প্রেসকিপসন) ঔষধ লিখে দিবেন ১ সপ্তাহ বা ১০ দিনের জন্য, যদি রুগির উন্নতি না হয় তাহলে অতিপ্রয়োজনীয় ১'২ বা ৩টি টেষট করাইতে বলতে পারেন। কিন্ত্ু দুঃখের বিষয় ৯৫% ডাঃ এর কাছে গেলেই প্রথমে এক ঘাথা টেষ্ট করাইতে বলেন, রুগির সামর্থ আছেকিনা সেই বিবেচনা ডাঃ গন সেই চিন্তা করার দরকার মনে করেন না। এই ভাবে অসহায় রুগিগন সর্বশান্ত হয়ে যচ্চে। আমার মতে প্যাথলজি টষ্টের জন্য সরাকারী ভাবে সারাদেশে একটি দাম নির্ধারন করে দেওয়া উচিৎ। এতে সাধারন জনগন উপকৃত হবেন।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন