ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৯ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফেরা শুরু অবৈধ প্রবাসীদের

নতুন পাসপোর্টের জন্য চলছে হাহাকার

শামসুল ইসলাম | প্রকাশের সময় : ৬ জুন, ২০২০, ১২:০১ এএম

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণের মাঝে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীরা দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। কোনো প্রকার জরিমানা ছাড়াই আগামী তিন মাস দেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছে অবৈধ কর্মীরা। দেশটির প্রেসিডেন্টের এক সার্কুলারে এ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে লাখ লাখ বাংলাদেশি কর্মীরা চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে দেশটি থেকে জরিমানা ছাড়াই ২৭৩ অবৈধ প্রবাসী কর্মী অ্যামিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট যোগে ঢাকায় পৌঁছেছেন। 

দেশটিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে কনস্যুলেট সেবা বন্ধ থাকায় নতুন পাসপোর্টের জন্য হাজার হাজার প্রবাসী কর্মীর মধ্যে চলছে হাহাকার। প্রায় তিন মাস দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পাসপোর্ট না পাওয়ায় অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেক প্রবাসী কর্মী চার পাঁচ মাস যাবৎ কাগজপত্র জমা দিয়েও নতুন পাসপোর্ট পাচ্ছে না। এসব ভুক্তভোগী কর্মী দূতাবাসে দফায় দফায় যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাচ্ছে না। তারা বিশেষ ব্যবস্থায় অবিলম্বে নতুন পাসপোর্ট সরবরাহের জোর দাবি জানিয়েছেন। দুবাই থেকে একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
বিএমইটি’র সূত্র জানায়, ১৯৭৬ সালে ১ হাজার ৯৮৯ জন কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জনশক্তি রফতানি শুরু হয়। শুরু থেকে গত ফেব্রæয়ারি মাস পর্যন্ত দেশটিতে ২৩ লাখ ৭২ হাজার ১৭২ জন কর্মী চাকরি লাভ করেছে। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটি থেকে প্রবাসী কর্মীরা ৪০৪ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ওমান থেকেও একটি ফ্লাইট যোগে ৮ মহিলা গৃহকর্মীসহ ১৮০ অবৈধ কর্মী দেশে ফিরেছেন। বিমানবন্দর কল্যাণ ডেস্ক বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ওমান সরকার দেশটিতে অভিবাসী কর্মীর সংখ্যা ৭০ শতাংশ কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথম দিকে সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির উচ্চ পর্যায়ে অভিবাসী কর্মীদের চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরের পর আর না বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির আদালত।
মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ আল খালিদ আল সাবাহ জানিয়েছেন, তারা অভিবাসী অধ্যুষিত দেশ হিসেবে আর থাকতে চাচ্ছেন না। এক ঘোষণায় তিনি জানান, দেশটিতে অভিবাসীর সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে। মোট জনসংখ্যার সর্বোচ্চ ৩০ ভাগ পর্যন্ত অভিবাসী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে দেশটিতে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী চাকরি হারানোর ঝুঁকির সম্মুখীন হবেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন