ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৯ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বিদ্যুৎখাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে সরকার : আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৫ জুন, ২০২০, ১০:৩৩ পিএম

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, দেশের বিদ্যুৎখাতে একদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থের বিপুল অপচয় ও অনিয়ম চলছে। অন্যদিকে উচ্চমূল্য ও ভৌতিক বিলের কারণে গ্রাহক ভোগান্তিও চরমে গিয়ে ঠেকেছে। জনগণের কাছে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা উপেক্ষিত থাকায় এই খাতে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দিন দিন বাড়ছেই। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎখাতে অনিয়ম বিশৃঙ্খলা যেনো পাহাড়ের মতো জেঁকে বসেছে।
গতকাল এক বিবৃতিতে জমিয়ত মহাসচিব বলেন, দেশে অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যুৎ কেন্দ্র অহেতুক বসিয়ে রাখার কারণে প্রতি বছর কেন্দ্রভাড়া বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকার লোকসান দিতে হচ্ছে রাষ্ট্রীয় খাত থেকে। বেসরকারি খাতে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রতিযোগিতাহীন দরপত্রে বহুবিধ অন্যায় সুবিধাদান, দায়মুক্তি ও চাহিদার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করায় এই অনাকাঙ্খিত জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাপ্ত তথ্যমতে দেশে সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাইরে বেসরকারিভাবে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে, তার ৫৭ ভাগ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোন কার্যক্রমই নেই। বিগত অর্থবছরে এসব অলস বেসরকারি কেন্দ্রগুলোকে ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। অন্যদিকে চুক্তি অনুযায়ী সচল কেন্দ্রসমূহে ব্যবহৃত তেল, গ্যাস, কয়লাসহ জ্বালানির মূল্য দিতে হয় পিডিবিকে। আর এই কয়লা, তেল ও এলএনজি আমদানি হয় বেসরকারি খাতের মাধ্যমে। এতেও ব্যবসায়ীরা উচ্চমূল্য আদায় করে পিডিবি থেকে। সারা বছর কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দ থাকে। এরপর উৎপাদিত বিদ্যুতের উপর মূল্য ধার্য হয়। ফলে বিদ্যুৎখাতের অযৌক্তিক সকল ব্যয়ভার জনগণের কাঁধেই ওঠছে। এভাবে বিদ্যুৎখাতে ভর্তুকির নামে জাতীয় অর্থনীতি থেকে হাজার হাজার কোটি টাকায় ব্যবসায়ীদের পকেট ভারি হচ্ছে। বিদ্যুৎখাতের এই বিপুল ব্যয়ভার জাতীয় অর্থনীতিতেই কেবল বিরূপ প্রভাব ফেলবে না, বরং জনদুর্ভোগ ও শোষণের বিশাল কারণ হয়ে দেখা দেবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন