ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৯ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

পটুয়াখালীতে ২৭৪৪ টি নমুনায় ৭৫ জন করোনা পজেটিভ সনাক্ত

দাবী জোড়ালো হচ্ছে করোনা সনাক্তকরন ল্যাবের

পটুয়াখালী জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৬ জুন, ২০২০, ৮:০১ পিএম

পটুয়াখালী জেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গতকাল পর্যন্ত করোনা সংক্রমনের পরে এযাবৎ পটুয়াখালী জেলা থেকে ২৭৪৪ টি নুমনা সংগ্রহ করে পাঠানো হলে তা থেকে ৭৫ জন করোনা পজেটিভ সনাক্ত হয়েছেন ।
পটুয়াখালী সদর উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ জন এর মধ্যে পটুয়াখালী পৌর এলাকায় ইতোমধ্যে ২২ জন সনাক্ত হয়েছেন।পটুয়াখালী পৌর এলাকায় সনাক্তদের মধ্যে পটুয়াখালী পৌর সভার মেয়র সহ,পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাও রয়েছেন ,পটুয়াখালী পৌর সভার মেয়র ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।
এ দিকে পটুয়াখালী পৌর এলাকায় প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। প্রথম দিকে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের বাড়ী ঘর লকডাউন করা হলেও বিশেষ করে জেলা শহরে আকান্ত ব্যক্তিদের বাড়ীঘর এখন আর লকডাউন করা হচ্ছে না,যা পৌর বাসীকে আতংকের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।
জেলায় ইতোমধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৪ জন মারা গেছেন। জেলার প্রতিটি উপজেলাই করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে জেলার প্রত্যন্ত রাঙ্গাবালী উপজেলায় ২জন ভারতীয় তাবলীগ জামাতের সদস্য আক্রান্ত হন। পরবতর্তিতে সুস্থ হয়ে ফিরে যান তারা।
জেলার প্রথম করোনা পজেটিভ সনাক্ত সহ মৃত ব্যাক্তি হচ্ছেন দুমকী উপজেলার দুলাল হাওলাদার ।
এ দিকে প্রতিদিন ঢাকা থেকে লঞ্চ করে শত শত যাত্রী আসছেন ঢাকা থেকে।পটুয়াখালী লঞ্চ ঘাটে যাত্রীদের সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে লঞ্চে ধারন ক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী বহন করে ঢাকা উদ্দ্যেশে ছাড়া হলেও বগা ,চরগরবদী লঞ্চ ঘাটে এসব নিয়ম আর বহাল থাকেনা।এ ছাড়াও জেলা শহর সহ জেলার প্রতিটি উপজেলায় একাধিক খেয়া ঘাট রয়েছে যে গুলিতে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখার কোন নির্দেশনা মানা হয় না।সড়ক পথে চলাচলকারী অভ্যন্তরীন রুট গুলিতে যাত্রী ধারন ক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ছাড়া হলে ও পথে যাত্রী উঠানোর অভিযোগ রয়েছে,দূর পাল্লার রুটে স্বাস্থ্য বিধী মেনে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে,যদিও পটুয়াখালী পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ গুিল নিয়ন্ত্রন রাস্তায় একাধিক চেক পোষ্ট বসানো হয়েছে।জেলা শহর সহ উপজেলা পর্যায়ের বাজার গুলিতে স্বাস্থ্য বিধী মানা হচ্ছে না।
এ দিকে পটুয়াখালীর ৮ টি উপজেলার মধ্যে রাঙ্গাবালী উপজেলা বিচ্ছন্ন একটি উপজেলা যেখান থেকে নৌপথে প্রতিদিন স্যাম্পল সংগ্রহ করে গাড়ী যোগে পাঠানো হয় ঢাকা সহ বরিশালের ল্যাবে।প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে আড়াইশো স্যাম্পল পাঠানো হচ্ছে পটুয়াখালী থেকে ।বরিশাল ল্যাবে বরিশাল বিভাগের সব জেলার স্যাম্পল যাচ্ছে। যার ফলে স্যাম্পলের রিপোর্ট আসতে দেরী হচ্ছে।
পটুয়াখালীতে বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লান্টবায়ো টেকনলজিক্যাল ল্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে করোনা শনাক্ত করন ল্যাব প্রতিষ্টার দাবী ইতোমধ্যে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেলাবাসী জোড়ালো ভাবে শুরু করছেন।পটুয়াখালী জেলায় এ ল্যাবটি প্রতিষ্টা হলে পাশ্ববর্তী বরগুনা জেলা বাসীয় ও এর সুবিধা পবেন ,চাপ কমবে বরিশাল ল্যাবের উপর।
এদিকে পটুয়াখালীর বিভিন্ন সামাজিক ,রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পটুয়াখালীতে একটি পূর্নাঙ্গ আরটি-পিসিআর ল্যাবের দাবী জোড়েশেড়ে শুরু করেছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।
পটুয়াখালীতে করোনা সনাক্তকরন ল্যাব চাই নামে একটি ফেইসবুক ভিক্তিক সংগঠনের উদ্যোক্তা এ্যাডভোকেট মুশফিকুর রহমান বলেন,পটুয়াখালীতে অবিলম্বে একটি করোনা সনাক্তকরন ল্যাবের দাবীতে তারা ফেইসবুকের মাধ্যমে সংগঠিত হচ্ছেন। অতিশীঘ্রই তারা এ বিষয়ে বড় পরিসরে কাজ শুরু করবেন বলে জানান তিনি।
ফেইসবুক ভিক্তিক সামাজিক অন্দোলনে অংশগ্রহনকারী সংগঠন হ্যাপী ক্লাবের এ্যাডমিন এ্যাডভোকেট আলআমীন বলেন ,পুরাতন ১৯ টি জেলার ১টি পটুয়াখালী,যেখানে পটুয়াখালীতে একটি বিজ্ঞান ওপ্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্বেও কেন ল্যাব স্থাপন করা যাচ্ছেনা ,এটা এখন সময়ের দাবী।

সুজনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মানস কান্তি দত্ত বলেন,পটুয়াখালীতে স্বাস্থ্যবিধী মানার পাশাপাশি জরুরী ভিক্তিতে করোনা সনাক্তকরন ল্যাব চালু করা প্রয়োজন।
পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী শামসুর রহমান ইকবাল বলেন,জেলা শহরের করোনা পজেটিভ সনাক্তদের বাড়ী লকডাউন করতে শীথলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেটা সকলের জন্য ঝুকিপূর্ন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপিত কাজী আলমগীর বলেন ,আমি ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকষর্ণের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছি। যদি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা সনাক্ত করন ল্যাব চালু করতে পারে, তা হলে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ওপ্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে কেন সম্ভব নয়। অবকাঠামোগত সহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাদি সংযোজনের মাধ্যমে এ ল্যাবটি চালু করার বিষয়ে জোড়ালো পদ:ক্ষেপ নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষনের দাবী জানান তিনি।
এছাড়া পৌর এলাকার যেসব এলাকায় করোনা পজেটিভ সনাক্ত হচ্ছে, কেন্দ্রের মত হটস্পট চিহ্নিত করে সেসব এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়ার দ্রুত দাবী জানান জেলা প্রশাসেনর কাছে।
পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন,জেলা শহরের পজেটিভ সনাক্তকৃত বাড়ীগুলি লকডাউনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পটুয়াখালীতে করোনা সনাক্তকরনের জন্য ল্যাব প্রতিষ্টা জরুরী প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন