ঢাকা, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭, ১৬ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

হেরে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হাফতার

লিবিয়ানদের ভাড়াটে খুনীদের হাতে ছেড়ে যাব না : এরদোগান

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৭ জুন, ২০২০, ১২:০১ এএম

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, তার দেশ লিবিয়ার জনগণকে ভাড়াটে খুনীদের দয়ায় ও অভ্যুত্থানের মুখে কখনও ছেড়ে যাবে না। বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফয়েজ আল সররাজের সাথে বৈঠকের পরে একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এদিকে দু’জন পশ্চিমা কূটনীতিক বলেছেন, ত্রিপোলী দখলে এক বছর আগে শুরু করা লড়াই বন্ধ করে যুদ্ধবিরতি এবং মিসরের মধ্যস্থতা রাজনৈতিক আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছেন লিবিয়ার লৌহমানব খলিফা হাফতার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, শনিবার কায়রোতে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং লিবিয়ান পার্লামেন্টের স্পিকার আগুলেহ সালেহের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার কথা। চুক্তিটি এখনও প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি।
কয়েক দফা বৈঠক এবং ত্রিপোলিতে তুরস্ক ও আন্তর্জাতিক সমর্থিত সরকারের অনুগত বাহিনী পশ্চিম লিবিয়ায় হাফতারের অবশিষ্ট দুর্গটি দখল করার একদিন পর মিসরের সমন্বিত এই শান্তি উদ্যোগটি কায়রোতে এগিয়ে গেল। এখনও তেলসমৃদ্ধ উত্তর আফ্রিকার দেশটির পূর্ব এবং দক্ষিণ নিয়ন্ত্রণ করে এলএনএ। হাফতারকে রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিসর সমর্থন দিয়েছে।
জিএনএর পক্ষে শক্ত ও সক্রিয়ভাবে অবস্থান নেয়া তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, ‘অভ্যুত্থানের নেতা খলিফা হাফতারকে সমর্থন দিয়ে যারা লিবিয়াকে রক্ত ও অশ্রুতে নিমজ্জিত করেছিলেন, ইতিহাসের কাছে তারা দায়ী হয়ে থাকবে।’ অবৈধভাবে লিবিয়ার তেল বিক্রি থেকে হাফতারকে বিরত রাখতে এরদোগান পুনরায় আহবান জানিয়ে বলেন, লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত ন্যাশনাল অ্যাকর্ড সরকারের (জিএনএ) সাথে তুরস্কের সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি আল-সররাজের সাথে একমত হয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘উত্তর আফ্রিকার দেশটির সঙ্কটের সমাধান বৈধতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে হতে হবে।’
এরদোগান সাংবাদিকদেরকে জানান, ‘হাফতারের মিলিশিয়াদের আক্রমণ সত্তে¡ও করোনাভাইরাস মহামারী ঠেকাতে জিএনএ প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করেছে। তিনি বিদ্রোহী ফিল্ড মার্শাল হাফতারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘যে ব্যক্তি লিবিয়ার ভবিষ্যতের জন্য অবিচ্ছিন্ন হুমকি সৃষ্টি করে, সে আলোচনার টেবিলে বসতে পারবে না।
প্রেসিডেন্ট এরদোগান উল্লেখ করেন, আল-সররাজ এমন সময়ে আঙ্কারা সফর করছেন, যখন তুরস্ক সফলভাবে কোভিড-১৯ এর মোকাবেলা করে যাচ্ছে। তার সরকার স্বাস্থ্য সঙ্কটের জন্য লিবিয়ার সাথে সংহতি জানিয়েছে এবং এপ্রিল ও মে মাসে ত্রিপোলিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।
তুরস্কের অগ্রাধিকার হ'ল, জাতিসংঘের সহায়তায় এবং লিবিয়ার জনগণের নেতৃত্বে একটি সমাধান দিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশটিতে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা। এরদোগানের মতে, এটি পুরো অঞ্চলকে উপকৃত করবে। তিনি আরও যোগ করেছেন, হাফতার লিবিয়ার রাজনৈতিক চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজেকে লিবিয়ার নেতা হিসাবে ঘোষণা করে তার আসল চেহারাটি প্রদর্শন করেছে।
তেল রফতানি অব্যাহত রাখা এবং লিবিয়ার অর্থনৈতিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদেশী হস্তক্ষেপের অবসান ঘটাতে আল-সররাজের সাথে একমত হয়ে এরদোগান দেশটিতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। তিনি জানান, অবৈধভাবে লিবিয়ার তেল বিক্রি এবং আরও অস্ত্র ও ভাড়াটে যোদ্ধা সংগ্রহে হাফতারের প্রচেষ্টায় তুরস্ক সজাগ দৃষ্টি রেখেছে। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর ও ব্লু মবার্গ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
jack ali ৭ জুন, ২০২০, ১:৩৩ পিএম says : 0
Those who are supporting barbarian Hafter the criminal may Allah wipe out them by Corona Virus. Libyan Government must not agree ceasefire with Hafter. Hafter has to surrender and should be punished.
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন