ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

২৪ জনের মৃত্যু

করোনা উপসর্গ কোয়ারেন্টিনে ৫৬ হাজার ২৯৭

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৭ জুন, ২০২০, ১২:০১ এএম

করোনার উপসর্গ জ্বর, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়েছে সারা দেশে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এদের কারো শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ছিল কিনা তা নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৩১৪ জনকে। ছাড় পেয়েছেন ৯৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৭ হাজার ১৬২ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ১ হাজার ৭৮৯ জনকে। ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৮১১ জন। এখন পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৯৯ হাজার ২২২ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৬ হাজার ২৯৭ জন।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক পুলিশসহ আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে সীতাকুন্ডে উপসর্গ নিয়ে মো. একরামুল ইসলাম (৪৫) নামে এক এসআই মারা গেছেন। তিনি সীতাকুন্ড থানায় কর্মরত ছিলেন। করোনা টেস্টের জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
দুপুরে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে মারা যান আমিরুল আজিজ (৫৩)। নগরীর বহদ্দারহাটের এ বাসিন্দা ৪ জুন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চমেক হাসপাতালে গত শুক্রবার রাতে মারা যান শাহ জাহান (৩২) নামে এক ব্যবসায়ী। তার আগে একই হাসপাতালে মারা যান তার বড়ভাই মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী শাহ আলম (৩৬)। তারা দুজন শ^াসকষ্ট নিয়ে চার দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হন। স্বজনদের অভিযোগ আইসিইউ সার্পোট না পাওয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। আট ঘণ্টার মাথায় দুই ভাইয়ের মৃত্যুতে হাটহাজারীতে তাদের বাড়িতে আহাজারি চলছে। এছাড়া শাহ আলম নামে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিরও মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে।
যশোর ব্যুরো জানায়, যশোর জেলায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গতকাল যবিপ্রবি ও খুলনা ল্যাবে নতুন করে ৮জনসহ মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২৭। এই তথ্য যশোর স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু হানিফ দৈনিক ইনকিলাবকে শনিবার বিকালে জানান, যারা ইদানীং করোনা আক্রান্ত হচ্ছে তাদের বেশিরভাগই ঢাকা ফেরত। ব্যাপকহারে লোকজনের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় ঈদ পরবর্তীতে করোনা শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। ঈদের আগে যশোরে পরীক্ষায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় এসেছিল।
এদিকে, চৌগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদ সিরাজ করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর করোনামুক্ত ঘোষণা দেওয়া হয় গত ৪ জুন। তিনি আকস্মিকভাবে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় নেওয়া হয়।
বরিশাল ব্যুরো জানায়, ‘আর কত আক্রান্ত হলে বরিশাল মহানগরী লকডাউনের আওতায় আনা হবে’, এমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নগরবাসীর মধ্যে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর থেকেও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। সিটি করপোরেশন এলাকা পূর্ণ লকডাউন রাখা জরুরি’ বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে বার্তা দেয়া হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল ও পিরোজপুরে আরো দুজনের মৃত্যুসহ দক্ষিণাঞ্চলে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৭ জন। এরমধ্যে বরিশাল জেলায় আক্রান্ত ৩৪ জনের মধ্যে মহানগরীতেই এসংখ্যা প্রায় ৩০। ইতোমধ্যে এ নগরীতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫শ’। দক্ষিণাঞ্চলে মোট করোনাভাইরাস সনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯৩২। যার মধ্যে বরিশাল জেলাতেই আক্রান্তের সংখ্যা ৫৬৬।
গত ২৪ ঘণ্টায় শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ঝালকাঠির নলচিঠির তিমিরকাঠীর দেলোয়ার হোসেন (৪৫) ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে আবদুল খালেক খান (৫৫) মারা গেছে। এছাড়া পিরোজপুরে অপর এক করোনা সংক্রমিত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে পিরোজপুর, ঝালকাঠী ও ভোলার পরিস্থিতিও ক্রমশ উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। পটুয়াখালী ও বরগুনার অবস্থা আগে থেকেই খারাপ। ঝালকাঠিতে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বরিশাল মহানগর পুলিশেও আক্রান্তের সংখ্যা ১শ’ ছাড়িয়েছে। এছাড়া শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ইতোমধ্যে ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসাকর্মীসহ আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে।
এদিকে দক্ষিণাঞ্চলে এখনো করোনাভাইরাস আক্রান্ত সিংহভাগ রোগীই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। গতকাল সকাল পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে কোভিড-১৯ রোগী ভর্তির মোট সংখ্যা ছিল মাত্র ২০৭। অথচ এসময় পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯৩২। এমনকি গত ২৪ ঘণ্টায় মোট আক্রান্ত ৫৭ জনের মধ্যে বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলাতে ১ জন করে মাত্র ৩ জন কোভিড-১৯ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সিলেট ব্যুরো জানায়, অপ্রতিরোধ্য গতিতে বেগবান হচ্ছে সিলেটে করোনা। প্রতিদিনই নতুন রেকর্ড গড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। এতে করে বর্তমান ভবিষ্যত নিয়ে চরম দিশেহারা হয়ে পড়ছেন সিলেটিরা। গত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে নতুন করে আক্রান্ত হলেন ৯১ জন। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আক্রান্ত। এছাড়াও ওই সময়ে করোনায় মারা গেছেন আরও ২ জন। মারা যাওয়া একজন হবিগঞ্জ এবং অপরজন সুনামগঞ্জের। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাক্রান্ত হয়েছেন ৯১ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৪৬, হবিগঞ্জে ১৪ মৌলভীবাজারে ৮ ও সুনামগঞ্জে ২৩ জন। গত শুক্রবার সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শাবিপ্রবি ও ঢাকার ল্যাবে নমুন পরীক্ষায় শরীরে করোনার অস্তিত্ব ধরা পড়ে সিলেট বিভাগের এই ৯১ জনের।
এদিকে, বিভাগে করোনামুক্ত হয়ে গতকাল সকাল পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ৩৬০ জন। এর মধ্যে সিলেটে ১০৭, মৌলভীবাজারে ৫৬, সুনামগঞ্জে ৭৬ ও হবিগঞ্জে ১২১ জন। বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় সিলেট-এর প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, গত ১০ মার্চ হতে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভাগে ১৩ হাজার ৩১৩ জনকে পাঠানো হয়েছে হোম কোয়ারেন্টিনে এবং ১১ হাজার ৮২১ জনকে দেয়া হয়েছে ছাড়পত্র। বর্তমানে ১ হাজার ৪৯২ জন অবস্থান করছেন হোম কোয়ারেন্টিনে।
বগুড়া ব্যুরো জানায়, বগুড়ায় করোনা উপসর্গ ও করোনায় মৃত্যু এবং করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। সরকারি হিসাবেই দেখা যাচ্ছে রাজশাহী বিভাগের মোট ৮টি জেলায় করোনায় আক্রান্তের যে সংখ্যা তার ৪৩ ভাগই বগুড়ার। তথ্য উপাত্ত জানতে চাইলে বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, গতকাল বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিসাধীন কলেজের একজন সহকারী অধ্যাপক ও অবসর প্রাপ্ত একজন পরিসংখ্যান কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে।
বিধি মোতাবেক সরকারিভাবে তাদের নাম প্রকাশ করা না হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মরহুম দুজনের আত্মীয় পরিজন তাদের নাম প্রকাশ করে দোয়া চেয়েছেন। এদের একজন বগুড়া কলেজের সহকারি অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম। অপরজন হলেন অবসর প্রাপ্ত উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এ জে এম ইদ্রীস আলী।
এর দুদিন আগে মারা গেছেন ওষুধ কোম্পানীর একজন বিক্রয় কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বাবু ( ৫৫)। গত বৃহষ্পতিবার ঢাকায় মারা যান বগুড়ার প্রবীন সাংবাদিক অধ্যাপক মোজাম্মেল হক তালুকদার। গত শুক্রবার বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ কৃষকদলের কেন্দ্রীয় নেতা মোফাজ্জল হোসেন। তিনি কিছুদিন আগে ঢাকা থেকে বগুড়ায় এসে তার গ্রামের বাড়ি গাবতলীর নেপালতলীতে অবস্থান করছিলেন। বুধবার অসুস্থতা বোধ করলে তিনি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি টিএমএসএসের পরামর্শক ছিলেন বিধায় সর্বোচ্চ চিকিৎসা সুবিধা ভোগ করলেও শেষ পর্যন্ত করোনার কাছে হেরে যান।
এদিকে গত শুক্রবার রাতের নিয়মিত বিফ্রিংএ বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শফিকুল আমিন কাজল জানান, সর্বশেষ ৪২ জনসহ বগুড়ায় করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৫৬৯ জন।
এদিকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের সনাতন পদ্ধতি লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে রাখার ব্যাপারে ভুক্তভোগীদের এন্তার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ভুক্তভাগীরা এক্ষেত্রে প্রথমে অনলাইনে বা ম্যানুয়ালী নাম রেজিস্ট্রেশন করে তারপর মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে ডেকে ডেকে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করলেই গরমে রোদের মধ্যে ২/৩ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি কমে যেত।
এদিকে বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাড়ি থেকেই নমুনা সংগ্রহের কর্মসূচি হাতে নিলেও বিল নিচ্ছে মোট ৪ হাজার টাকা। কেবল নমুনা পরীক্ষাতেই এত টাকা ব্যয় করা কেবল উচ্চবিত্তদের পক্ষেই সম্ভব বলে জানিয়েছেন সবাই।
স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ থেকে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় গোপালগঞ্জে নতুন করে ২ চিকিৎসহ, ৩ নার্সসহ আরও ২৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে এ জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ২৬৭ জনে। আক্রান্ত ২ শ’ ৬৭ জনের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১২০ জন। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৪৬ জন। মারা গেছেন ১ জন। গতকাল সকালে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ এ তথ্য জানান।
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান, নারায়ণগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ। এসময়ের মধ্যে জেলায় কোনো মৃত্যুর খবর নেই বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গতকাল সকালে এ তথ্য জানান তিনি। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৬৮ ব্যক্তি সুস্থ হয়েছেন। ডা. ইমতিয়াজ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮১ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট তিন হাজার ৩৯৮ জনের ফলাফলে পজিটিভ এসেছে। জেলায় এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত মোট রোগীর সংখ্যা তিন হাজার ৩৯৮ জন (মৃত্যুসহ)। এদের মধ্যে জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৮৫ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৯১০ জন।
মৌলভীবাজার জেলা সংবাদদাতা জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে মৌলভীবাজার পৌর শহরের ৮নং ওয়ার্ডের গোবিন্দশ্রী এলাকার ইলেকট্রিশিয়ান কমরু মিয়া নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি আলমগির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলে মির্জাপুর উপজেলা চেয়াম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা মীর এনায়েত হোসেন মন্টু ও এক নারী চিকিৎসকসহ নতুন করে ১৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ৪, মির্জাপুরে ৮, ঘাটাইল উপজেলায় একজন ও কালিহাতীতে এক নারী চিকিৎসকসহ ৩ জন রয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৩৫ জন। গতকাল দুপুরে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর থেকে জানান, চাঁদপুরে করোনা উপসর্গে গত ১২ ঘণ্টায় ৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে হাজীগঞ্জে মারা গেছেন ৫ জন। মতলব দক্ষিণে ১জন। হাজীগঞ্জের নিহতরা হলেন, উপজেলার ২নং বাকিলা ইউনিয়নের বাখরপাড়া গ্রামের আবদুর রব অরুন, ৬নং বড়কুল ইউনিয়নের ৩জন, তারা হলেন, হাজীগঞ্জ বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী রঞ্জিব কুমার রায়, বেলচোঁ বাজারের সুপারি ব্যবসায়ী রাধা কৃষ্ণ দাস, একই ইউনিয়নের সেন্দ্রা গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আহসান উল্যাহর স্ত্রী হোসনে আরা বেগম এবং ধড্ডা গ্রামের আবদুর রবের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৬৫)।
মতলব দক্ষিণ পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড দগরপুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম পাটওয়ারী (৬৫)। তার পিতার নাম মৃত আঃ জাব্বার পাটওয়ারী। তিনি দুদিন আগে করোনা উপসর্গ নিয়ে ঢাকা থেকে এলাকায় আসেন। নিহতদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন ও দাহ করা হয়েছে। এদিকে জেলায় নতুন করে সাংবাদিকসহ আরো ১৭ জনের করানো শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চাঁদপুরে মোট আক্রান্ত ২৭৫ জন। করোনায় মারা গেছেন ২১ জন।
মাগুরা : মাগুরায় করোনা উপসর্গ (শ্বাসকষ্ট ও জ্বর) নিয়ে গতকাল জাহিদুল মুন্সি (৮৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী পূর্ব মুন্সিপাড়া গ্রামে। মাগুরা সিভিল সার্জন ডাক্তার প্রদীপ কুমার সাহা জানান, সকালে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে জাহিদুল মুন্সি নামের ওই ব্যক্তি মাগুরা ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এক দিনে নতুন করে আরো ১৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট ৪৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা থানা পুলিশ। তবে এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের এবং বাকিরা সবাই সুস্থ রয়েছেন। আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করেছে বলে নিশ্চিত করেন থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ দুলাল মাহমুদ।
ভালুকা (ময়মনসিংহ) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় নতুন করে আরও ১৯ জনের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।এর মধ্যে ১০জনই পোশাক কারখানা শ্রমিক। গতকাল এ তথ্য জানান ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সোহেলী শারমিন। উপজেলায় এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬৯ জনে। একজনের মৃত্যু হয়েছে।
গফরগাঁও উপজেলা সংবাদদাতা জানান, গফরগাঁও উপজেলায় নতুন করে ২ জন করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছেন। গত শুক্রবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যব সহকারি মো. মুনজুরুল ইসলাম (৩৫), স্বাস্থ্য সহকারি মৌসুমি আখতার (৩০) নামে এক তরুণী করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছেন।
লালপুর (নাটোর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, নাটোরের লালপুর উপজেলায় এপর্যন্ত মোট ৩২৭ জনের করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য নাটোর সিভিল সার্জনের নিকট পাঠিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এর মধ্যে ২৬৬ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ ও একজন আট বছর বয়সী শিশু, দুুইজন মেডিকেল স্টার্ফ, একজন পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যসহ মোট ৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাক্তার আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে নেছারাবাদ উপজেলা প্রধান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন সেন্টারে থাকা সখিনা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত সখিনা বেগম পাশ্ববর্তী বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের স্ত্রী।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. ফিরোজ কিবরিয়া জানান সখিনা বেগম এর বমি,পাতলা পায়খানা ও মৃদু শ্বাসকষ্ট নিয়ে শুক্রবার বিকেলে তাকে আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি করা হয় এবং শনিবার দুপুরে তিনি হাসপাতালে মারা যান। তিনি আরো জানান করোনা পরীক্ষার জন্য লাশের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং হাসপাতালের তিন সেবিকাকে কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়েছে
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে জাহানারা বেগম (৪৭) নামে ঢাকা ফেরত এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের হায়দর আলীর স্ত্রী। গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে জ্বর, কাশি, গলাব্যথা নিয়ে তার নিজবাড়িতে মৃত্যু হয়। গতকাল দুপুরে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে ঈশ্বরদীতে আলো বেগম (৬৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যাথা, শ্বাসকষ্টসহ করোনার সকল উপসর্গই ছিলো বলে জানা গেছে।
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা নিউনেশনের গোয়ালন্দ উপজেলার সাবেক প্রতিনিধি রিয়াজুল ইসলাম মোল্লা (৫২) করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। তাঁর বাড়ি গোয়ালন্দ পৌরসভার কলেজপাড়া মহল্লায়।
গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় করোনার উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরের চা দোকানি আবদুর রহমান (৪৫) নিজ বাড়িতে মারা যান। তার বাড়ি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার খলশী গ্রামে। আরেকজন পলাশবাড়ী উপজেলা শহরের প্রফেসরপাড়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ময়েজউদ্দিন (৬৫) গতকাল শনিবার সকালে মারা যান।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, ওই চা দোকানি গত একসপ্তাহ থেকে জ্বর, সর্দি শ্বাসকষ্টসহ নানা উপসর্গে অসুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সকালে তিনি শ্বাসকষ্টে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই দিন রাতে পরিবারের লোকজন তাকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১১টায় তিনি মারা যান। চা দোকানি মারা যাবার পর করোনা ছড়ানোর ভয়ে পরিবারের লোকজন তার কাছে যায়নি। পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন তার লাশ পাহারা দেয়।
গতকাল সকাল ১১টায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ ও উপজেলা ভূমি মসজিদের ইমাম মওলানা আরিফ বিল্লাহ ও মুয়াজ্জিন মোফাজ্জল হোসেন ও গ্রামবাসীর সহায়তায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ওসি আরো বলেন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তার বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর পিসিআর ল্যাবে পাঠিয়ে দেয়।
সোনারগাঁও : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে করোনার উপসর্গ নিয়ে আউলিয়া বেগম নামের এক নারী মারা যাওয়ার পর ভয়ে লাশ দাফনে কেউ এগিয়ে আসেনি। মারা যাওয়ার পর প্রায় ৬ ঘণ্টা লাশটি ঘরের ভেতরে পড়ে ছিল, ভয়ে কোনও আত্মীয়-স্বজন এগিয়ে আসেনি। রাত ১২ টায় দিকে নিহতের বাড়িতে গিয়ে লাশ দাফনের ব্যবস্থা স্থানীয় সংসদ সদস্যের গঠিত স্বেচ্ছাসেবক টিম। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের আলমপুরা গ্রামের হোসেন আলীর স্ত্রী আউলিয়া বেগম করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। কয়েকদিন ধরে জ্বর, ঠান্ডা, শ্বাসকষ্ট ও গলা ব্যথায় ভুগছিলেন তিনি।
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহের ত্রিশালে করোনার উপসর্গ নিয়ে কামরুল হুদা শাকের (৫৮) নামে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। সকালে ময়মনসিংহের এসকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বাড়ি উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা গ্রামে। তিনি ধলা আর্দশ কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা.এবিএম মসিউল আলম তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার রাতে কামরুল হুদা জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে নগরীর এসকে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তিনি মারা যান। মৃত্যুর পর তার নমুনা সংগ্রহ করে

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন