ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

কৃষকই আশার আলো

করোনায় স্থবির অর্থনীতি : কৃষকদের দেয়া হচ্ছে ডিজিটাল সেবা

রফিক মুহাম্মদ | প্রকাশের সময় : ৭ জুন, ২০২০, ১২:০১ এএম

করোনা মহামারির এই দুঃসময়ে শিল্প-কারখানা ও অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। অর্থনীতির শক্তিশালী চাকা প্রায় স্থবির। এ অবস্থায় দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে কৃষি ও কৃষকই আশার আলো দেখাচ্ছে। বোরো ধানের বাম্পার ফলন করোনা পরবর্তী সম্ভাব্য খাদ্য সঙ্কট মোকাবেলায় সাহস জুগিয়েছে। সামনে আউসের মৌসুম শুরু হচ্ছে। এরপর আসছে আমন ধানের মৌসুম। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় চলছে বর্ষাকালীন সবজি চাষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সময় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কৃষকের সঙ্গে থেকে, পাশে থেকে বিভিন্ন সহযোগিতা ও সাহস দেয়া। তাদেরকে কারিগরি পরামর্শ দিয়ে ফসলের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। কৃষক যাতে তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় তা নিশ্চিত করা। সারা দেশের কৃষি কর্মকর্তারা সেই কাজগুলো করলে কৃষকরা আত্মবিশ্বাসী হবেন এবং উৎপাদনও বাড়বে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনা আক্রান্ত পৃথিবীতে কৃষিই হবে পরবর্তীতে টিকে থাকার মূলমন্ত্র। জাতিসংঘ এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বলেছে, বিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রভাবে বড় আকারের দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে এবং এতে প্রায় তিন কোটি মানুষ অনাহারে প্রাণ হারাতে পারে। এ অবস্থায় করোনা পরবর্তী সম্ভাব্য বৈশ্বিক খাদ্য সঙ্কট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কৃষকদের আত্মবিশ্বাসী হয়ে খাদ্য উৎপাদনে আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, করোনার ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় এখন কৃষিখাতকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে। আগামী দিনগুলিতে কৃষি অর্থনীতি হবে টিকে থাকার প্রধান উৎস। আর এ জন্য সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে এ খাতকে সর্বোচ্চ সহায়তা দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে।
কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষিখাতকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছে। কৃষিখাতে সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহারের লক্ষে কাজ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন দেশের কোথাও এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। কৃষক যাতে ধানের ন্যায্য মূল্য পায় সেজন্য ১০ লাখ মেট্রিকটন ধান তাদের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে। এ ছাড়া আরও প্রায় ১০ লাখ টন অন্যান্য খাদ্য শস্য কেনা হবে। এ ছাড়া এই করোনাকালে আম লিচুসহ অন্যান্য পণ্য যাতে কৃষক ভাল দামে বিক্রি করতে পারে সে জন্য পরিবহনসহ বাজারজাতকরণের সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

সারাদেশে এখন চলছে বর্ষাকালীন সবজি চাষ। এ ছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চলে আউস ধানের আবাদও শুরু হবে। এ সব বিষয়ে দেশের প্রতিটি জেলা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের ডিজিটালি পারমর্শ দেয়া হচ্ছে। দেশের প্রায় প্রতিটি কৃষি অফিসের কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে হটলাইন সেবা চালু করেছেন। কেবল হটলাইনেই সীমাবদ্ধ নেই তাদের উদ্যোগ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেও কৃষি প্রযুক্তি ও পরামর্শ সেবা দেয়া হচ্ছে। ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচার হচ্ছে কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও। এই ভিডিওর মাধ্যমে হাতে-কলমে দেখিয়ে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়। মাঠের কৃষক থেকে শুরু করে যারা বাড়িতে ছাদবাগান করতে চান, তাদের সবার জন্যই এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রয়েছে কনটেন্ট। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় এসব ডিজিটাল সেবার বদৌলতেই কৃষককে ছুটতে হচ্ছে না কৃষি অফিসে, যেতে হচ্ছে না অন্য কারও সংস্পর্শে। ঘরে বসেই কৃষক নিজের প্রয়োজনীয় পরামর্শগুলো পেয়ে যাচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হানুরবাড়াদি গ্রামের কৃষক স্বপন মুখী কচু, শসা ও ঝিঙার আবাদ করেছেন। কোন পোকার জন্য কোন কীটনাশক, কোন সময় নিড়ানি দিতে হবে, ফসলের ক্ষেতে কোন সমস্যা হচ্ছে কি না এসব বিষয়ের সমাধান ফসলের ক্ষেতে দাঁড়িয়েই তিনি মোবাইল ফোন কল বা মেসেজের মাধ্যমে পেয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া স্মার্টফোনে ইউটিউবে নতুন নতুন কৃষিভিত্তিক ভিডিও প্রতিবেদন দেখেও তিনি সবজি ক্ষেতের যথাযথ পরিচর্যা করতে পারছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবাইর মাসরুর বলেন, করোনার এই দুঃসময়ে কৃষকদের পরামর্শ সেবা সহজ করা ও মোবাইল ফোনে হটলাইন সেবা চালু করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ফোন নম্বরসহ চারটি নম্বরকে কৃষি সেবা হটলাইন হিসাবে প্রচার করা হয়েছে। কেবল চুয়াডাঙ্গা নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কৃষকেরা তাদের সমস্যা নিয়ে এই নম্বরগুলোতে কল করছেন। সরাসরি অথবা এসএমএসের মাধ্যমে কৃষি পরামর্শ সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন