ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বন্ধ মানবপাচারের বিচার

সাত ট্রাইব্যুনালে মামলা ৬ হাজারের বেশি

সাঈদ আহমেদ | প্রকাশের সময় : ৭ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম

করোনায় থমকে গেছে মানবপাচার দমন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম। জামিন ও জরুরি বিষয়সমূহ শুনানির জন্য ভার্চুয়াল বেঞ্চ চললেও বন্ধ রয়েছে মানবপাচার মামলার বিচার। নিয়মিত আদালত চালু না হলে ট্রাইব্যুনালগুলোও চালু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ও আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মানবপাচারের ঘটনা দিনকে দিন বাড়ছে। সে অনুযায়ী এ সংক্রান্ত অপরাধের বিচার হচ্ছে না। শাস্তিও পাচ্ছে না পাচারের সঙ্গে জড়িত অপরাধী চক্র। বিশ্লেষকদের মতে, শাস্তি না পাওয়াই হচ্ছে মানবপাচার বেড়ে যাওয়ার বড় কারণ। তবে মানবপাচারের শাস্তি ভয়াবহ হলেও বিচার না হওয়ার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দ্বিতীয় টায়ারে । এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিকভাবে এক ধরণের চাপেও রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে চলতিবছর মার্চে মানবপাচার অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। দেশে এখন বিভাগওয়ারি ৭টি ট্রাইব্যুনাল রয়েছে।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ সংবাদদাতাকে বলেন, মানবপাচারের ক্ষেত্রে আমরা দ্বিতীয় টায়ারে আছি। এ কারণে গত মার্চ থেকেই ট্রাইব্যুনাল চালু হয়েছে। বিচার না হলে মানবপাচার রোধে আমাদের অবস্থান অবনমিত হওয়ার একটা আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে আদালত সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন আদালতে ৬ হাজারের বেশি মানব পাচারের মামলা রয়েছে। বিভিন্ন আদালত নিজস্ব এখতিয়ারবলে মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হতো। কিন্তু পৃথক আদালত না থাকায় এ সংক্রান্ত বিচারগুলো দীর্ঘসূত্রিতায় পর্যবসিত হয়। অপরাধীরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়। চ‚ড়ান্ত পর্যায়ে তাদের শাস্তির আওতায় আনা যায় না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিলো আইনগত দুর্বলতাও। এ প্রেক্ষাপটে ২০১২ সালের ১৫ ফেব্রæয়ারি সংসদে ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২’ পাস হয়। আইনটিতে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতের অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। আইনটি পাস হলেও কার্যকর করতে লেগে যায় ৮ বছর। কারণ আইনের ২১(১) ধারায় এ আইনে বিচাররের জন্য পৃৃথক ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের কথা বলা হয়। একটি কেন্দ্রীয় ‘মনিটরিং সেল’ গঠনেরও বাধ্যবাধকতা রয়েছে আইনে। তা সত্তে¡ও সরকার ট্রাইব্যুনাল স্থাপনে কালক্ষেপণ করে। সরকারের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে একাধিক রিটও হয়। একপর্যায়ে চলতিবছর মার্চে গঠন হয় ট্রাইব্যুনাল। পরে এক আদেশে বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মানব পাচারের মামলা মানবপাচার দমন ট্র্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর এবং বরিশালে ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়।

রাজশাহীতে জেলা জজ লিয়াকত আলী মোল্লা, খুলনায় এম.এ.আউয়াল, রংপুরে জেলা জজ মো. নূর ইসলাম, সিলেটে মো. সাইফুর রহমান, চট্টগ্রামে জেলা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস, ঢাকায় কাজী আবদুল হান্নান এবং বরিশালে জেলা জজ মো. মঞ্জুরুল হোসেন মানবপাচার দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৮ মার্চ তাদের এসব পদে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগের পর কিছুদিন দায়িত্ব পালনের পরই আদালত বন্ধ হয়ে যায়। করোনা সংক্রমণের পর সাধারণ ছুটি বাড়তে থাকে। আপদকালীন ব্যবস্থা স্বরূপ বিশেষ আদালত, মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতগুলোতে ‘ভার্চুয়াল বেঞ্চ’ স্থাপন করা হয়। এসবে জামিন ও জরুরি বিষয় শুনানি হয়।

সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ইনকিলাবকে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশিত কয়েকটি আদালতে ভার্চুয়াল বেঞ্চ চলছে। নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে অন্যান্য আদালতের বিচার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বিঘিœত হওয়াই স্বাভাবিক।

এদিকে আদালত বন্ধ থাকলেও দায়ের হচ্ছে মানবপাচারের নতুন মামলা। গত ২৮ মে লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি অভিবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আহত হন ১১ বাংলাদেশি। আরও অন্ততঃ ১৯ বাংলাদেশি লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের কাছে জিন্মি হয়ে আছে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় দেশে নতুন করে আলোচনায় মানবপাচারের বিষয়টি। লিবিয়ার ঘটনায় ইতোমধ্যে পৃথক ১০টি মামলা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে ৩৮ জনকে। গত ৩ মাসে পৃথক পাচারের ঘটনায় আরও অন্ততঃ ১৩টি নতুন মামলা দায়ের হয়। লিবিয়ায় মানবপাচারের মামলাগুলো পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) এবং সিআইডি তদন্ত করছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন