ঢাকা, বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

মূর্তি ভাঙার সান্তনায় স্তিমিত হবে মূল আন্দোলন

মার্কিন ইতিহাস ও স্মৃতিস্তম্ভের পুনর্বিচার-২

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইম্স | প্রকাশের সময় : ২১ জুন, ২০২০, ১২:০২ এএম

ধরা যাক, আপনি একটি জাদুঘরে একটি কলম্বাসের মূর্তি রেখেছেন এবং আপনি শিক্ষার্থীদের সেভাবে দেখাচ্ছেন যেভাবে কলম্বাসকে ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তকে বীরোচিত করা হয়েছে। তবে, তাদের পড়তে দিয়েছেন দে লাস কাসাসের লেখা বই ‘ইন্ডিজের ধ্বংসযজ্ঞ’। তারপর আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে হবে, ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ইতিহাসের এই বিশেষ সংস্করণটি প্রচারে কেন লোক লাগানো হয়েছিল?
ফিলাডেলফিয়ার মতো বড় শহর এবং কলম্বাস, মিসিসিপির মতো গ্রামীণ জনপদগুলিতে অপেক্ষাকৃত অখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব এবং গভীরভাবে সম্মানিত সাংস্কৃতিক প্রতীক উভয় ধরনের স্মৃতিস্তম্ভগুলো উৎখাত করা আহ্বান দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তর ক্যারোলাইনার রালিতে গত মঙ্গলবার এক সাদাবর্ণের আধিপত্যবাদী প্রাক্তন সংবাদপত্রের প্রকাশকের মূর্তিটি সরিয়ে ফেলা হয়।
স্যাক্রামেন্টোতে, ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বর্ণ উত্তোলনের জন্য স্থানীয় আমেরিকানদের দাসে পরিণত করা ও শোষণ করার জন্য বিখ্যাত বসতি স্থাপনকারী জন সাটারের সম্মানে গড়া স্মৃতিস্তম্ভটি গত সপ্তায় নামিয়ে ফেলা হয়। এবং ডালাসে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভ্যন্তরে পুলিশের বর্বরতা এবং বর্ণবাদ সম্পর্কিত ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই নির্মাণ কর্মীরা সম্প্রতি টেক্সাসের লোককাহিনীর কাল্পনিক চরিত্র এক টেক্সাস রেঞ্জারের মূর্তিও সরিয়ে ফেলে।
ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের নেতাকর্মীরা যারা কনফেডারেট এবং অন্যান্য স্মৃতিসৌধগুলিকে নিপীড়ন ইতিহাসের স্মারক হিসাবে দেখান, তারা এই চাপটিকে অনেকাংশে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে, তাদের কারণেই তারা আজ বাস্তবতার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। তবে তাদের মধ্যে অনেকেই আশঙ্কা করেন যে, ঐতিহাসিক প্রতীকগুলির বা মূর্তি ভাঙায় মনোনিবেশ করলে স্তিমিত হয়ে পড়বে মূল আন্দোলন এবং আফ্রিকান-আমেরিকানদের প্রতি পুলিশের বর্বর আচরণ বন্ধ করার ওপর চাপ কমে যাবে।
স্মৃতিস্তম্ভ নষ্ট করে দেয়াটা একটি সহজ সান্তনায় পর্যবসিত হতে পারে আশঙ্কা করে সেন্ট লুইসের ২৪ বছর বয়সী মানসিক স্বাস্থ্যের আইনজীবী আলিশা সোননিয়ার বলেছেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না এটিকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেয়া বলব কিনা, কারণ আমি মনে করি মানুষ স্পষ্টতই সূক্ষ¥ পার্থক্য করার ক্ষমতা রাখে।’ তিনি বলেছেন, ‘মূর্তি সরানো হচ্ছে যা কাউকে মৃত্যু থেকে বাঁচাচ্ছে না। এটি প্রাণ বাঁচাবে না।’
আফ্রিকার শহর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ দাসের চালান যাওয়া ভ্রাম্যমান ঘাট আলা’র ৭৭ বছর বয়সী অধিকার আন্দোলনকর্মী ক্লিওন জোনস বলেন, কনফেডারেট স্মৃতিস্তম্ভগুলোর ওপর ধ্বংসযজ্ঞ সাম্যতার অগ্রগতি স্থগিত করে দিতে পারে, এই সম্ভাবনা দেখে তিনি হতাশ হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমদের এগিয়ে যেতে হবে, পেছনে ফেরা যাবে না। যতক্ষণ আমরা এসব মূর্তি নিয়ে মেতে আছি, আমরা ততক্ষণ সামনে এগিয়ে যাচ্ছি না।’
অবশ্য মূর্তিগুলো অপসারণের দিকে দৃষ্টিপাত করায় ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের বাইরের শত শত বছরের গভীর নাগরিক বৈষম্য প্রকাশ পেয়েছে। এটি ইতালীয়-আমেরিকানদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জাগিয়ে তুলেছে যারা দীর্ঘকাল ধরে কলাম্বাসকে গর্বের বিষয় হিসাবে বিবেচনা করতেন এবং নিউ মেক্সিকোতে কিছু হিস্পানিকদের মধ্যেও, যারা একটি যুগ উদযাপন করেন, যে সময়টিতে এঙলোরাও জনজীবনে আধিপত্য বিস্তার করেনি এবং কলাম্বাসকে নিয়ে গর্বও করেন।
ফিলাডেলফিয়ার কলাম্বাসের একটি মূর্তি রক্ষার জন্য জড়ো হওয়া একটি দলের ৫৮ বছর বয়সী ইতালিয়ান-আমেরিকান অভিবাসন আইনজীবি ক্রিস্টিন ফ্লাওয়ারস বলেছেন, ‘আমাদের ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের আরও ব্যাপক আলোচনা হওয়া দরকার।’ তবে তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘ফিলাডেলফিয়ার ইতালীয়-আমেরিকানদের সংস্কৃতির অত্যন্ত প্রিয় এবং অত্যন্ত প্রতীকি কিছুকে উপড়ে ফেলে ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা অনায্য।’ স্মৃতিসৌধটি সরিয়ে নেয়ার বিরোধিতাকারী এক সাদা চামড়ার কাউন্টি সুপারভাইজার ট্রিপ হাইয়ারটন বলেছেন, ‘কিছু ইতিহাস শেখার জন্য এটি ভাল সময়। আমি অবশ্যই এসব ইতিহাসের সাথে একমত নই, তবে এটি যা, তাইই, এটি ইতিহাস।’
এটি এমন একটি যুক্তি ছিল, যা মূর্তিটি সরিয়ে ফেলার জন্য যারা চাপ দিচ্ছে, তাদের মধ্যে অনেককে বিভ্রান্ত করেছিল। কলাম্বাসের স্থায়ী বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী ডেভিড হর্টন, যিনি প্রথম রবার্ট ই. লী মিডল স্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্র হিসেবে কনফেডারেট স্মৃতিসৌধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন, বলেন, ‘এরা একটি হারানো যুদ্ধকে স্মরণ এবং উদযাপন করছে, আমি বুঝতে পারি না।’ (চলবে)

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (9)
Monir Howlader ২১ জুন, ২০২০, ১:০৫ এএম says : 0
স্বৈরশাসকদের ও মূর্খ রাষ্ট্র নায়কদের কাছে সাম্প্রদায়িক ছাড়া কিছু আশা করা যায় না
Total Reply(0)
এনামুল হক ২১ জুন, ২০২০, ১:০৫ এএম says : 0
মূর্তি থাকলে বরকত হাসিল হয় না আর মূর্তিধারী ছিল সমাজের শোষক শ্রেনীর তাই ইউরোপ-মার্কিনরা মূর্তি ভাঙছে দিদারছে ৷
Total Reply(0)
Md Monirul Islam ২১ জুন, ২০২০, ১:০৬ এএম says : 0
করোনা মহামারীর সময় ইতালির মানুষ দেখেছেন মূর্তি তাদের জন্য কিছুই করতে পারেনি, ভবিষ্যতে ও পারবেনা। তাই মহামারীর সময় মূর্তি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। ইসলামই এক মাত্র আল্লাহর মনোনীত ধর্ম। ইতালির প্রধান মন্তী দুই হাত উপরের দিকে তুলে বলেছিলেন উপর থেকে কোন সাহায্য না আসলে আমাদের কিছুই করার নাই।
Total Reply(0)
Ak Masum ২১ জুন, ২০২০, ১:০৬ এএম says : 0
পৃথিবীর সব মূর্তি ভেঙে ফেলা উচিৎ কারণ এইসব পৃথিবী বাসির জন্য কোন ভূমিকা রাখার ক্ষমতা নেই।
Total Reply(0)
Arif Hossain ২১ জুন, ২০২০, ১:০৭ এএম says : 0
এসব Statute বা মূর্তি কোন উপকারে আসে না, তাই ইউরোপীয়রা ভেঙ্গে ফেলছে, অযথা অর্থের অপচয়।
Total Reply(0)
Nazir Ahmed ২১ জুন, ২০২০, ১:০৭ এএম says : 0
বাংলাদেশে অনেক কলেজের সামনে রাস্তা ঘাটে অর্ধনগ্ন মূর্তি দেখা যায় এগুলো বেঙ্গে ফেলা হউক
Total Reply(0)
Bablu Bhuiyan ২১ জুন, ২০২০, ১:০৭ এএম says : 0
সারাবিশ্বে অনেকগুলো মূর্তি রয়েছে যারা শাসক নামের ডাকাত ছিল ওদের মূর্তি ভেঙে দেওয়া উচিত এসব মূর্তি কোন কাজে লাগে না ভেঙে ফেলাই উত্তম!
Total Reply(0)
Saiful Islam ২১ জুন, ২০২০, ১:০৭ এএম says : 0
এ গুলো মানুষের জন্য কোন উপকারে আসে না তাই ১৪০০ বছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সঃ বাতিল বলে ভেঙে ফেলেছেন। আর ১৪০০ বছর পরে খ্রিস্টানের ও বুঝতে পারলো মুর্তি মানুষের কোন উপকার আসে না।
Total Reply(0)
Mohammed Kowaj Ali khan ২১ জুন, ২০২০, ৩:০৬ এএম says : 0
মূর্তির সাথে মোসলমানের কোনো সম্পর্ক নাই। মূর্তি হইলো একটা নিকৃষ্ট জাত, শিরিকি। অতি সত্বর বাংলাদেশে যত মূর্তি আছে ভেংগে ফেলা হোক ....
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন