ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৬ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

কঠোর অবস্থানে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ

বেনাপোলে আমদানি-রফতানিতে গতিশীলতা, দ্রুত পণ্য খালাস ও রাজস্ব ফাঁকি রোধের উদ্যোগ

মহসিন মিলন, বেনাপোল থেকে | প্রকাশের সময় : ২২ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম

বেনাপোল বন্দর দিয়ে দু’দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে গতিশীলতা, দ্রুত পণ্যখালাস ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
গতকাল রোববার দুপুরে বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারী সিএন্ডএফ এজেন্টস ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সাথে এক জুম ভিডিও কনফারেন্সে কঠোর অবস্থানের কথা জানান, বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী। রাজস্ব ফাঁকির সাথে জড়িত আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্টদের কালো তালিকাভুক্ত করে তাদের পন্য চালান শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হবে। আর যাদের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির কোন অভিযোগ নেই তাদের পন্য চালান ‘ডি’ মার্কের মাধ্যমে কোন পরীক্ষা ছাড়াই খালাস দেয়া হবে।

কেমিক্যাল জাতীয় পণ্য চালান কেমিক্যাল ল্যাবে পরীক্ষা করার পর ফলাফলের ভিত্তিতে শুল্কায়ন করে খালাস দেয়া হবে বলে কনফারেন্সে বলা হয়। বন্দরে ওয়েইং স্কেলের ওজনের ভিত্তিতে পন্যের শুল্কায়নের বিষয়ে বলা হয়, বন্দরে স্কেলগুলোতে এক একটির ওজন এক এক রকম হওয়ায় জটিলতা দেখা দিচ্ছে এটি অবশ্যই বিবেচনায় নেয়া হবে, এটিকে পুজি করে কেউ স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গত ৪ জুন জাতীয় রাজস্ববোর্ড বেনাপেল বন্দর দিয়ে সাইড ডোর রেল কার্গো চালুর নির্দেশনা দিয়েছে। সেই সাথে রেল টার্মিনাল ইয়ার্ড তৈরির ও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
স্বাধীনতার পর চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বেনাপোল বন্দর দিয়ে শুরু হয় রেলের মাধ্যমে পণ্য আমদানি। মাত্র ১২ দিনে ৩০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয় সরকারের। স্থলপথে যেখানে প্রতিদিন ৫/৬ শ’ ট্রাক পন্য আমদানি হতো বেনাপোল বন্দর দিয়ে সেখানে বর্তমানে কোভিড-১৯-এর কারণে মাত্র ১৫০ ট্রাক মালামাল আমদানি হচ্ছে এ বন্দর দিয়ে। ওপারে পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় কালিতলা পার্কিং এ আমদানি পন্য বোঝাই ট্রাক থেকে ২০০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে জোর করে। দু’দেশের ব্যবসায়ীরা ওপারে বনগাঁও এলাকায় একটি অশুভ অপশক্তি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

যদিও বেনাপোল বন্দর দিয়ে বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য সম্পন্ন হয়ে থাকে ভারতের সাথে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চলতি অর্থ বছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয় বেনাপোল-যশোর হাইওয়ে ৬ লেন ও বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে বেনাপোল বাজার পর্যন্ত এলিভেটেড ট্রেন চালু, আইসিডি চালুসহ বাইপাস সড়ক ৪ লেন করার জোর দাবি করা হয়। কমিশনার বলেন, এসব দাবি আগেই পাশ হয়ে আছে, এডিবি অর্থায়নে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।
ভিডিও কনফারেন্সে অংশ গ্রহণ করে সারা দশে থেকে ১০০ জন ব্যবসায়ী, কাস্টমস কর্মকর্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত কমিশনার ড. নেয়ামুল ইসলাম, মেয়র অশরাফুল আলম লিটন, ডেপুটি কমিশনার শামীমুর রহমান, ডিসি পারেভজ রেজা চৌধুরী, সহকারী কমিশনার উওম চাকমা, আকরাম হোসেন, কল্যান চাকমা, কাজী মুরশিদা খাতুন, ও রাজস্ব কর্মকর্তা নঈম মিরন।

ব্যবসায়ীদের পক্ষে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ মফিজুর রহমান সজন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ নুরুজ্জামান, সাবেক সভাপতি আলহাজ শামছুর রহমান, খাইরুজ্জামান মধু, ভারত বাংলাদেশ চেম্বারের ডাইরেক্টর মতিয়ার রহমান, আমদানি-রফতানি কারক সমিতির সভাপতি মহসিন মিলন, নারী উদ্যোগতা সেতু শাহিদার রহমান, নাছির উদ্দিন, আব্দুল লতিফ প্রমুখ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন