ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭, ০৯ সফর ১৪৪২ হিজরী

মহানগর

জোন ভাগ করে ‘লকডাউনে’ আরও সমন্বয় চান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৮ জুন, ২০২০, ১১:৩০ এএম

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সারা দেশকে রেড, ইয়োলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করে বিধি-নিষেধ আরোপের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেখানে আরও সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

শনিবার আওয়ামী লীগের আয়োজনে মহামারী ও পরবর্তী বাংলাদেশ নিয়ে ওয়েবনিয়ার ‘বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিক’-এর সপ্তম পর্ব ‘জনস্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার’ শিরোনামের আলোচনায় যোগ দিয়ে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদের সঞ্চালনায় এই ভার্চুয়াল আলোচনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান (লিটন), নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটুও ছিলেন।
ফেসবুক কমেন্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাদের প্রশ্নগুলো আলোচকদের কাছে তুলে ধরা হয়। করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ও আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে তাদের ভাবনা ও প্রত্যাশা সরাসরি জানানোর সুযোগ সৃষ্টির জন্যই ‘বিয়োন্ড দ্যা প্যানডেমিক’ নামে আলোচনা অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে।

জোনিং নিয়ে আরও ‘বিস্তৃত পরিসরে’ এগোনোর পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, এখানে কথাটা যদি ওনারা আমাকে বলতে না পারে, আমি যদি ওনার কথা না জানি তাহলে হবে কি ওনারা আমাদের ইনপুট দিতে পারবে না, আমিও ওনাদের ইনপুট দিতে পারব না। এটার জন্য আমাদের একটি সমন্বিত প্যাকেজ নিয়ে আগানো দরকার।

ঢাকায় ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে ‘লকডাউন’ বাস্তবায়নে বিলম্ব নিয়ে মেয়রদের ভূমিকা সম্পর্কে নানা মহলে যে আলোচনা চলছে, সে বিষয়েও কথা বলেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

তিনি বলেন, এখানে আমি কী করব, আমি কে? লোকাল গভর্নমেন্ট মিনিস্ট্রি মেয়রদের একটা হাইপোথেটিকাল দায়িত্ব দিল, এখানে রেড জোন করেন, এখানে ইয়োলো জোন করেন কিন্তু কী প্রিপারেশন তার আছে?

এই প্রক্রিয়ায় দ্বিমত রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ধরেন একটি বাড়িতে একজন সংক্রমিত রোগী আছেন, আরেকটি বাড়িতে ৬০ জন রোগী আছে। ৬০ জনকে আপনি লকড-ডাউন করলেন, আরেকজন আপনি ইগনোর করলেন। কিন্তু একজন তো আগামী দিনে ১০০ জন করবে। তাহলে আগামীতে ১০০ জনের ভাগ্য হবে কী? তো সেখানে অ্যাকশনটা কী হবে?

লকডাউন বাস্তবায়ন করতে গেলে অর্থনীতির সঙ্গে কৃষি, গণপরিবহনসহ জনগুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে বিবেচনায় এনে গোটা প্রক্রিয়া সমন্বয় করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তাজুল ইসলাম।

লকডাউন বাস্তবায়নে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রথম থেকে আমি যখন মিটিংয়ে যুক্ত হলাম তখন আমি বললাম, একটা সাব জোন করেন। এনজিওদের সহযোগিতায় প্রতিটা ওয়ার্ডকে ১০টা সাব জোনে ভাগ করার জন্য বললাম। সাব জোনে ভাগ করার জন্য নির্দেশনা দিলাম।

“তার সুবিধা হবে কি সেখানে সীমিত সংখ্যক লোককে একটা কমিটি রিপ্রেজেন্ট করবে। এ কমিটি ইনটেনসিভলি তাদের সেবা দিতে পারবে, তাদের যে সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারবে, শুনতে পারবে, সমাধান করতে পারবে।”

করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে দুর্গতদের সহায়তায় সরকারের দেওয়া ত্রাণ আত্মসাতের ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের গ্রেপ্তার-বহিষ্কার নিয়েও কথা বলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

তার মতে, ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্য বা মেম্বারদের অনিয়ম, কারচুপির অপবাদ থেকে বের করে আনতে তাদের ‘আরও সম্মানিত’ করা উচিৎ।

তাজুল ইসলাম বলেন, এ সমাজে যে অবক্ষয় অবস্থার মধ্যে দিয়ে তাদের উত্থান হয়েছে, সে কারণে সবাই কমবেশি কলুষিত। এ থেকে বের হয়ে আসতে গেলে তাদের সম্মান দিতে হবে। তাদের সম্মানিত স্থানে আসীন করতে হবে।

এবার পরীক্ষামূলক ‘রেড জোন’ হচ্ছে ওয়ারি

“মেম্বার পদটাকে যদি আমরা একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করি, ৬২ হাজার জনপ্রতিনিধির মধ্যে নন সিগনিফিকেন্ট পারসনের জন্য আমি গোটা প্রতিষ্ঠানকে কলুষিত করতে পারি না।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বারদেরও ‘সবচেয়ে সক্ষম প্রতিষ্ঠান’ বলেও দাবি করেন তাজুল ইসলাম।

 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমি মেয়রের দ্বায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ডেঙ্গু মোকাবেলায় জনসচেতনতা শুরু করলাম, মানুষের বাসা বাড়িতে অফিসে গিয়ে অভিযান চালিয়েছি এবং করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর শহরের নানা জায়গায়, রাস্তাতে জীবাণুনাশক ছিটাতে শুরু করি। বাস ও বাস টার্মিনালগুলোকে জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা আমাদের দ্বায়িত্ব পালন করতে সর্বদা চেষ্টা করবো, সেই সাথে জনগনকেও সচেতন হতে হবে। তিনি আরো বলেন, সিটি করপোরেশন পরিচ্ছন্নতা কর্মী যারা আছেন তাদের সুরক্ষার জন্য ৫হাজার পিপিই দিয়েছি এবং প্রায় ৩০০০ কর্মীর জন্য হেলথ ও লাইফ ইনস্যুরেন্স চালু করার ব্যবস্থা নিয়েছি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আমরা প্রথমেই করোনা মোকাবেলায় আমরা ত্রান বিতরন করেছি, জনসচেতনতার জন্য রেকোর্ডিং মাইকিং চালু করেছি। আমাদের মহানগর হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা শুরু হয়েছে, কিছুদিন আগেই সেখানে ভেন্টিলেটরসহ ৫ বেডের আইসিইউ বেড স্থাপন করেছি। তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু প্রকোপ কমাতে এবং মশকের প্রজনন ক্ষেত্রগুলোকে নিধন করার জন্য সকল জলাবদ্ধ লেক ও জলাশয় গুলোকে পরিষ্কার করছি সেই সাথে তেলাপিয়া মাছ এবং হাস চাষ শুরু করেছি যাতে ডেঙ্গুর লাভা বংশবিস্তার না করতে পারে।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন মেয়র এ.এইচ.এম. খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, করোনার শুরুতে আমরা রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আমরা পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়। ক্রমান্বয়ে স্বেচ্ছাসেবী সহ কর্মকর্তারা প্রতিওয়ার্ডে সচেতনামূলক কাজ করা হয়। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পরে শহয়ে ইতিমধ্যে বেসরকারিভাবে একটি হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে, যা সিটি কর্পোরেশন এর সাথে এক যোগে কাজ করবে।

তিনি আরো যোগ করেন, সামনে কোরবানি ঈদে সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা আছে কিনা, বা কতটুকু ঠেকানো কিভাবে তা নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ ও রাজশাহী মেডিকেল এর পরিচালক সহ সভা করেছি। কোরবানির হাটে আমরা দুইটি করে গেইট রাখবো, ঢুকতে এবং বের হতে আলাদা গেইট ব্যবহার করা হবে। এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র সেলিনা হায়াত আইভি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫ সদস্যের টিম করে কাজ করা হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ হটস্পট হিসেবে ধরা হয়। এর পরে নারায়নগঞ্জে পিসিআর ল্যাবে নিয়মিত টেস্ট করানো হচ্ছে। মার্চের পর থেকে ২৭ টি ওয়ার্ডের ৩৬ জন কাউন্সিলর এর উদ্যোগে করোনা সংক্রমণ রোধে কাজ করা হয়। নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফনে কাজ করে যাচ্ছে কর্মকর্তারা।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ইকরামুল হক টিটু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আমরা মার্চের শুরু থেকে মানুষকে নিরাপদ রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। শহরের বিভিন্ন স্থানে আমরা হাত ধোয়া, হ্যান্ড সেনিটাইজার এর ব্যবস্থা করা হয়। এরপরে কর্মহীন মানুষদেরকে প্রতি ওয়ার্ডে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি চালু করা হয়। এখনো পর্যন্ত আমরা ত্রাণ বিতরণ ও আর্থিক সহয়তা প্রদান করা হয়। বিভিন্ন নেতাকর্মী ও ব্যক্তি উদ্যোগে গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ায় সবাই। ইতিমধ্যে আমরা ময়মনসিং মেডিক্যাল কলেজে কোভিড ইউনিট চালুর প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয় যা শেষ পর্যায়ে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন