ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

নেছারাবাদে আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি ঘরের জন্য এক ভিক্ষুকের কত প্রচেষ্টা

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৯ জুন, ২০২০, ৮:৩৮ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি ঘরের জন্য দ্ধারে দ্ধারে ঘুরে চলছেন নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ী ইউনয়নের আশি বছরের বৃদ্ধ মোদাচ্ছের আলী। মোদাচ্ছের মিয়া ভিক্ষা করে পেট চালান। সংসারে তার আপন বলতে এক ছেলে ও দুই মেয়ে। স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গত হয়েছেন বছর দশেক পূর্বে। মেয়েদের বিবাহ দিয়েছেন অনেক আগে। একমাত্র ছেলে শারীরিক বিকালঙ্গ হওয়ায় সেও ভিক্ষা করে জীবন চালায় কোনমতে। মোদাচ্ছের মিয়া ওই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

ভিক্ষুক মোদাচ্ছের আলী বলেন, একসময় তিনি খেয়া দিতেন। শরীরে নানা রোগশোকে বাসা বেধে তিনি অচল হয়ে পড়েন। বয়সের ভারে তিনি ভিক্ষা করে জীবন চালান। মাথা গোজার ঠাই নিয়েছেন অন্যর দয়া দাক্ষিনায়। তাই অনেক কষ্ট করে জমানো ভিক্ষার টাকায় তিনি সাড়ে চার শতক জমি কিনিছেন। হটাৎ প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরের কথা শুনেন মোদাচ্ছের। তখন থেকেই একটি ঘরের জন্য মনে মনে স্বপ্ন বুনেন তিনি। সেই থেকেই ঘুরে ঘুরে ভিক্ষার সাথে তিনি একটি ঘরের জন্য অনুনয় বিনয় করে আসছিলেন সমাজপতি সহ বিভিন্নজনের কাছে।

তিনি বলেন, গত বছরের মাজামাজি সময়ে আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি ঘর পাবেন বলে উপজেলা পিআইও অফিসে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজও জমা দিয়েছিলেন। তখন তিনি ঘরের আশায় খোলা আকাশের নিচে ক্রয়কৃত জমিটুকুতে পূনরায় তার জমানো দশ হাজার টাকায় একটি ভিটিও তুলেছেন। তবে, সে ঘর আর তিনি পাননি। জুটেনি তার ভাগ্যে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর। ঘর না পাওয়ায় তার তৈরী করা সেই ভিটি এখন ধীরে ধীরে বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে নামছে। এই দৃশ্য তার কাছে অতিই কষ্টকর বলে জানান।

ইউপি সদস্য মাসুম মিয়া বলেন, ঘর দেওয়ার ব্যাপারে আমি কেউ নয়। ঘর আসে চেয়ারম্যানের সুপারিশে আর মন্ত্রীর কোঠায়। যে পারে সে উপরি লবিং করে ঘর নিয়ে আসে। তবে ওই ভিক্ষুকের একটা ঘর খুবই দরকার তিনি মনে করেন বলে জানান।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন