ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২০, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭, ১১ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

উপসর্গে মৃত্যু ৪

বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন চলছে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩০ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম

সারাদেশে করোনাভাইরাসের উপসর্গ জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে সিরাজগঞ্জে ২ জন; রাজশাহী ও নাটোরে ১ জন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদিকে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশের অনেক এলাকায় লকডাউন চলছে।

যশোর ব্যুরো জানায়, যশোর জেলায় আরো ৩৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই নিয়ে জেলায় সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫শ’ ৫৬। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯ জন। করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ১১। করোনা থেকে মুক্ত হয়েছেন মোট ১৬৪ জন। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঈদের পর থেকেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নতুন করে ৩৯ জনের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে।
এদিকে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এনএফটি বিভাগের চেয়ারম্যান ও জেনোম সেন্টারের পরীক্ষণ দলের সদস্য ড. শিরিন নিগার জানা, গতকাল যশোর, মাগুরা, সাতক্ষীরাসহ এ অঞ্চলের মোট ২৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬৯ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছেন।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, প্রাণঘাতি করোনাভারাইসের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহীতে গত রোববার রাত ১০টার দিকে সাংবাদিক তবিবুর রহমান মাসুম মিশন হাসপাতালে মারা যান। তবিবুর রহমান মাসুম রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক সোনালী সংবাদের প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন। তার বাড়ি নগরীর দরগাপাড়া এলাকায়। তিনি সপ্তাহ খানেক ধরে জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। রোববার সন্ধ্যায় শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে রাজশাহী মিশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থা খারাপ হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার আগেই তিনি মারা যান।
সাংবাদিক মাসুম ক্রীড়া লেখক হিসেবে রাজশাহীতে বেশ পরিচিত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে সাফ গেমস এশিয়ান গেমস ও অলিম্পিক গেমসও কাভার করেন বিভিন্ন দেশ সফর করে। রাজশাহীর ক্রীড়া লেখক পরিষদের সভাপতিও ছিলেন। মাসুম দীর্ঘ দিন ধরেই সাংবাদিকতা পেশায় নিয়জিত ছিলেন। রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনও করেন। বাংলাদেশ বেতারেও নিয়মিত অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন তিনি। এদিকে, দৈনিক সোনালী সংবাদের প্রধান প্রতিবেদক তবিবুর রহমান মাসুম এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এক শোক বার্তায় মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন মেয়র।
রাজশাহীর দুইটি ল্যাবে আরও ৮১ জনের নমুনায় করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বর্হিবিভাগের ল্যাবে রোববার দুই ল্যাবে ৩৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এদিন রাতে ফলাফল এসেছে ৩৫৫ জনের নমুনার। রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস ও রামেকের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান ও ল্যাব ইনচার্জ প্রফেসর ডা. সাবেরা গুলনাহার জানান, দুই ল্যাবে নতুন আক্রান্তদের মধ্যে রাজশাহীর ৬৪ জন এবং পাবনার ১৭ জন। রাজশাহীর ৬৪ জনের মধ্যে মোহনপুরের ১১ জন, পবার ৭ জন, বাঘার ৬ জন, তানোরের ৫ জন ও গোদাগাড়ীর ১ জন। বাকি ৩১ জন রাজশাহী নগরীর। এ নিয়ে রাজশাহী জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগী বেড়ে দাঁড়াল ৫৭৭ জনে। এর মধ্যে নগরীতে ৩৮৬ জন।
ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, রামেক হাসপাতালের বর্হিবিভাগের করোনা ল্যাবে ১৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে ফলাফল এসেছে ১৭২ জনের। ৮ জনের নমুনা বাতিল এবং ৪৮ জনের নমুনায় করোনা পজিটিভ এসেছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সসহ ১১ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছে।
রাজশাহী বিভাগে আট জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৬৮ জনের নমুনায় করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। একই সময় মারা গেছেন আরও ১ জন। এ পর্যন্ত বিভাগের আট জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৫৮ জন। মারা গেছে ৭৩ জন। গতকাল দুপুরে এক প্রতিবেদনে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতারের পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্তের মধ্যে রাজশাহীর ৫৮ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২ জন, নওগাঁয় ৬৭ জন, জয়পুরহাটে ৪২ জন, বগুড়ায় ৬৯ জন, সিরাজগঞ্জে ১৪ জন ও পাবনায় ১৬ জন। তবে বিভাগের অপর জেলা নাটোরে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোন রোগি শনাক্ত হয়নি বলে তিনি জানান। রাজশাহী বিভাগে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ২৫৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বগুড়ায় ২ হাজার ৭৮২ জন আক্রান্ত। এছাড়াও রাজশাহীতে ৫৭১ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০১ জন, নওগাঁয় ৪৫১ জন, নাটোরে ১৫৮ জন, জয়পুরহাটে ৩৬৬ জন, সিরাজগঞ্জে ৩৮৩ জন ও পাবনায় ৪৪৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বিভাগের আট জেলার মধ্যে ছয় জেলায় মৃতের সংখ্যা ৭৩ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন নওগাঁয় এক জন। এখন পর্যন্ত রাজশাহীতে সাতজন, নওগাঁয় ছয়জন, নাটোরে একজন, বগুড়ায় ৪৮ জন, সিরাজগঞ্জে তিনজন ও পাবনায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসে। এখনো জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোন করোনা আক্রান্ত রোগী মারা যায়নি।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন আরও ১১২ জন। এ নিয়ে বিভাগে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৪৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী। এর মধ্যে রাজশাহীর ৬৮, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬১ জন, নওগাঁয় ২১৪ জন, নাটোরে ৫৫ জন, জয়পুরহাট ১৩৭ জন, বগুড়ায় ৪৪৩ জন, সিরাজগঞ্জ ১৮ জন ও পাবনায় ৪৯ জন।
বরিশাল ব্যুরো জানায়, দক্ষিণাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩ জনের মৃত্যুসহ ১১৩ জন করোনা সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৫৭। আর সরকারি হিসেবে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ২ হাজার ৭২২। এ সময়ে বরিশাল শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন ও পটুয়াখালীর বাউফল হাসপাতালে আরো একজনের মৃত্যু ঘটে। শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত দুজনই মহানগরীর বাসিন্দা। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণাঞ্চলে আরো ৬০ জনসহ মোট ৭৪৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে।
বরিশাল শের এবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ৬৬ জন ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৫৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এপর্যন্ত হাসপাতালটির এদুটি ওয়ার্ডে মৃত্যুবরণকারী ৯১ জনের মধ্যে ৩২ জনের দেহে করেনা সংক্রমণ ধরা পরেছে। ৮ জনের ফলাফল পাওয়া যায়নি। অপর ৪৫ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি বলে জানা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় পটুয়াখালীর অবস্থার নতুন করে অবনতি ঘটেছে। জেলাটিতে নুতন আক্রান্তের সংখ্যা ৪২। ফলে পটুয়াখালীতে মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৩৬৮ ও ১৭ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছেন ৭৩ জন। জেলাটির বাউফল উপজেলরার অবস্থা অত্যন্ত ঝুকিপ‚র্ণ। ইতোমধ্যে এ উপজেলায় প্রায় দেড়শ’ আক্রান্ত ও অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়। পটুয়াখালী জেলায় মৃত্যুহার ৫%-এর কাছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে নুতন করে আরো ৩৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। যার প্রায় ২৭ জনই মহানগরীতে। তবে জেলাটিতে আক্রান্তের সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় ৭ জন কমলেও এসময়ে মৃত্যু হয়েছে দুজনের। গত ২৪ ঘণ্টায় ভোলাতে আরো ১৪ জনসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৫-এ। মোট মৃত্যু ৩। আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলাটিতে আক্রান্ত ছিল ২৪ জন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলাটিতে নুতন ১৭ জনসহ মোট সুস্থ্য হয়ে উঠেছেন ৯২ জন। পিরোজপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১১ জন সহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২০৫-এ উন্নীত হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে পাঁচ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১০ জনসহ মোট সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১০৫ জন। বরগুনা জেলাতেও গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। জেলাটিতে এ পর্যন্ত মোট ২২৩ জন আক্রান্ত ও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আরো ৮জন সহ জেলাটিতে মোট সুস্থ হয়েছেন ১২৩।
স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান, নারায়ণগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫ হাজার ৯১ জন। নতুন করে ১ জনের মৃত্যুসহ, মোট মৃত্যু ১১৪ জনের। গতকাল নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য জানায়। টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলে নতুন করে দুইজন পুলিশসহ ২৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় সর্বমোট আক্রান্ত হলো ৫৭২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় সিরাজগঞ্জে কর্মরত এক পুলিশ ও গাজীপুরে কর্মরত দুই পুলিশ সদস্যসহ ৮, দেলদুয়ারে ৪, সখীপুরে ৩, ভ‚ঞাপুরে ৩, মির্জাপুরে ২, গোপালপুরে ২, ধনবাড়ীতে ১ ও ঘাটাইলে ১জন রয়েছে।
জেলায় মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ২০০ জন। মারা গেছে মোট ১২ জন। নমুনা সংগ্রহের রিপোর্ট পেন্ডিং রয়েছে ৭২২টি। বাড়িতে ও আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩৩৮ জন। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান গতকাল এ তথ্য জানান।
স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর থেকে জানান, চাঁদপুরে নতুন করে আরো ১৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে চাঁদপুর সদরে ৩, হাজীগঞ্জে ১, কচুয়ায় ৫, শাহরাস্তিতে ৪ জন রয়েছে। উপসর্গ নিয়ে মৃত ফরিদগঞ্জের দুলাল রাজার রিপোর্ট করোনা পজিটিভ এসেছে। তিনি উপজেলার কাচিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা। চাঁদপুর জেলায় এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৮৫৬ জন। এরমধ্যে মৃতের সংখ্যা ৫৭জন। চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় স‚ত্র জানায়, সোমবার সকালে ৪৮টি রিপোর্ট আসে। এর মধ্যে ১৪টি পজেটিভ। বাকিগুলো নেগেটিভ। জেলায় ৮৫৬জন করোনা আক্রান্ত রোগীর উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান হচ্ছে; চাঁদপুর সদরে ৩২১জন, মতলব দক্ষিণে ৯৫ জন, শাহরাস্তিতে ৯৭জন, হাজীগঞ্জে ৮৮ জন, ফরিদগঞ্জে ৮৪ জন, হাইমচরে ৬৯ জন, কচুয়ায় ৪০ জন এবং মতলব উত্তরে ৬২ জন চাঁদপুর জেলায় করোনায় মৃত ৫৭ জনের মধ্যে হাজীগঞ্জে ১৬ জন, চাঁদপুর সদরে ১৫ জন, ফরিদগঞ্জে ৭ জন, কচুয়ায় ৫ জন, মতলব উত্তরে ৮জন, শাহরাস্তিতে ৪ জন এবং মতলব দক্ষিণে ২ জন।
কুষ্টিয়া থেকে স্টাফ রিপোর্টর জানান, কুষ্টিয়ায় নতুন করে আরও ৩৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৭৮ জনে। গত রোববার রাতে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি জানান। কুষ্টিয়ার মেডিকেল কলেজের প্রদত্ত তথ্য মতে, পিসিআর ল্যাবে গতকাল মোট ২৮২ টি স্যাম্পলের (কুষ্টিয়া ১৯৭, মেহেরপুর ৭, নড়াইল ৭৮) মধ্যে কুষ্টিয়া জেলার কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ১৯ জন, কুমারখালী উপজেলায় ১০ জন, ভেড়ামারা উপজেলার ৪ জন ও দৌলতপুর উপজেলায় ৪ জন মোট ৩৭ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। নড়াইল জেলায় ১২ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া নড়াইল জেলার ১ জনের ফলোআপ রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। বাকিগুলোর ফলাফল নেগেটিভ৷
এ পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলায় করোনায় মৃতের সংখ্যা ৮ জন। এর মধ্যে ৭ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এএইচএম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে রোববার মোট ২৮২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়া জেলার ১৯৭টি, নড়াইল জেলার ৭৮টি ও মেহেরপুরের ৭টি নমুনা ছিল। কুষ্টিয়া জেলায় নতুন করে ৩৬ জনকে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করা হয়েছে (এবং ১ টি ফলোআপ পজিটিভ)। নতুন আক্রান্তের মধ্যে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুরে ৪ জন, কুমারখালীতে ৫ জন, ভেড়ামারায় ৪ জন এবং কুষ্টিয়া সদরে ২৩ জন। নতুন আক্রান্তের মধ্যে পুরুষ ২৪ জন এবং নারী ১২ জন।
কুষ্টিয়া জেলায় এখন পর্যন্ত বহিরাগত বাদে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫৭৭ জন। এর মধ্যে দৌলতপুরে ৭৯, ভেড়ামারায় ৭৪, মিরপুরে ৪১, সদরে ২৮৫, কুমারখালীতে ৭৭ এবং খোকসা উপজেলায় ২১ জন।
এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন মোট ১৭৯ জন। বর্তমানে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৬৪ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৬ জন। মৃত ৮ জনের মধ্যে কুমারখালী উপজেলায় ২, দৌলতপুরে ১, ভেড়ামারায় ১ এবং কুষ্টিয়া সদরে ৪ জন। কুষ্টিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন এক বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রোববার রাত সাড়ে ৯ টায় জেলা সিভিল সার্জন অফিসের প্রদত্ত তথ্যে জানানো হয় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবের পরীক্ষার রিপোর্টে মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান পিন্টু কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ছিলেন।
স্টাফ রিপোর্টার মাগুরা থেকে জানান, মাগুরায় গতকাল পুলিশ সদস্য ও ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নতুন ১১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত ১২৭ জন। যার মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৪৮ জন। নতুন শনাক্ত হওয়া ৯ জনের বাড়ি মাগুরা সদরে ও ২ জন শালিখা উপজেলায়।
মাগুরা সিভিল সার্জন ডা. প্রদিপ কুমার সাহা জানান, জেলায় নতুন ১১ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মাগুরা পৌরসভার ভেতরে বসবাস করে ৮ জন। আক্রান্ত হয়েছে নিজনান্দুয়ালী, মিরপাড়া, দুয়ারপাড়া, ভায়না, আদর্শপাড়া, কলেজপাড়া, কাশিনাথপুর ও শিবরামপুর এলাকায় ১ জন করে এবং সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামে একজন করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া শালিখা উপজেলার তালখড়ি ইউনিয়নের সানদ্রা গ্রামে ১ জন ও ধনেশ্বরগাতি পুলিশ ক্যাম্পের এক পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।
মাগুরায় এখন পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১২৭ জন। তাদের মধ্যে মাগুরা সদরে ৮৪ জন, শ্রীপুরে ১৮ জন, শালিখায় ১১ জন, মহম্মদপুরে ১৪ জন। মাগুরা সদর, শ্রীপুর ও শালিখা উপজেলায় ১ জনকরে ৩ জন মারা গেছে । এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৪৮ জন। আক্রান্তদের ৪ জন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে ও ৭১ জনকে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এছাড়া মগুরা থেকে ১ জনকে জেলার বাহিরে রেফার করা হয়েছে। এদিকে গত রবিবার থেকে মাগুরা পৌরসভার ৪নং ওয়াডের খানপাড়া ও পিটিআই পাড়াকে রেড জোন হিসাবে চিহিৃত করে প্রশাসন এ দুই এলাকাকে লকডাউন ঘোষণা করে।
সিরাজগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান, সিরাজগঞ্জে স্ট্যাম্প ভেন্ডার হামিদুর রহমান ও উপসর্গ নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবুল হোসেন মারা গেছেন। এরা হলেন, রায়গঞ্জ উপজেলার এরান্দহ কৃষ্ণদিয়া গ্রামের মৃত আহেজ উদ্দিন সেখের ছেলে হামিদুর রহমান ও শহরের মিরপুর বিড়ালাকুঠি মহল্লার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবুল হোসেন। এদের মধ্যে হামিদুর রহমান করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। হামিদুর স্ট্যাম্প ভেন্ডার হিসাবে সিরাজগঞ্জ প্রধান ডাকঘরে কর্মরত ছিলেন এবং শহরের ভাঙ্গাবাড়ি মহল্লায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
অপরদিকে, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা হুমায়ন কবির জানান, আবুল হোসেন ৪/৫দিন আগ থেকে জ্বরে ভুগছিলেন। গত রোববার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল তিনি মারা যান। মৃত ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এদিকে, জেলায় ১৮৮ জনের পরীক্ষায় নতুন করে ৪৮ জনের করোনায় সনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ৪৩১ জনে বলে জানিয়েছেন এই পরিসংখ্যান কর্মকর্তা।
মৌলভীবাজার জেলা সংবাদদাতা জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৌলভীবাজার শহরের শমসেরনগর সড়ক এলাকার শামসুল হক নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়।
জানা যায়, মৌলভীবাজার শহরের শমসেরনগর সড়ক এলাকার বাসিন্দা শামসুল হক করোনা শনাক্ত হওয়ার পর মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি ছিলেন। রোববার সন্ধ্যায় তার অবস্থার অবনতি হলে নর্থইস্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই রাতে তার মৃত্যু হয়। মৌলভীবাজার জেলায় প্রতিদিন করোনা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৪ জন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেনা কেউ। মার্কেট গুলোতে উপচেপড়া ভিড়। কেনাকাটায় গাদাগাদি করতে দেখা গেছে। যান বাহনে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যাত্রী পরিবহন চলছে। এক সিটে একাধিক যাত্রী তারা পরিবহন করছে। তবে জেলার ৫টি এলাকায় ডিলেঢালা ভাবে লকডাউন চলছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. তাওহীদ আহমদ জানান, জেলার কুলাউড়ার ৩টি ও শ্রীমঙ্গলের ২ এলাকাকে রেডজোন ঘোষনা করে লকডাউন করা হয়েছে। আক্রান্তের দিক দিয়ে জেলা সদরে সবচেয়ে বেশি। শুধু জেলা সদরেই আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৭ জন। মৌলভীবাজারে করোনা পরীক্ষার জন্য পিসিআার ল্যাব না থাকায় রিপোর্ট আসতে সপ্তাহ থেকে দশ দিন লেগে যাচ্ছে। এখনও রিপোর্ট আসার অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ৮শ’। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ৭ জন ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের।
নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা জানান, নওগাঁয় ক্রমেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আরও ৬৭ ব্যক্তির শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। আত্রাই উপজেলায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন। জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৫১ জন-এ এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৬। আক্রান্তদের মধ্যে ৩ জন পুলিশ, ২ জন নার্স, ২ জন মেডিক্যাল এ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ১ জন স্বাস্থ্য পরিদর্শক রয়েছেন। জেলায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৫১।
গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা হচ্ছে সদর উপজেলায় ২৬ জন, রানীনগর উপজে লায় ১ জন, আত্রাই উপজেলায় ৩ জন, মহাদেবপুর উপজেলায় ৯ জন, বদলগাািছ উপজেলায় ৮ জন, পত্মীতলা উপজেলায় ২ জন, ধামইরহাট উপজেলায় ২ জন এবং পোরশা উপজেলায় ১৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে কোয়ারেনটাইনে নেয়া হয়েছে ২৪২ জনকে। এদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৯১ জন, রানীনগর উপজেলায় ৩ জন, মহাদেবপুর উপজেলায় ১৩ জন, মান্দা উপজেলায় ২১ জন, বদলগাছি উপজেলায় ১৯ জন, পত্মীতলা উপজেলায় ১৪ জন, ধামইরহাট উপজেলায় ২৭ জন, নিয়ামতপুর উপজেলায় ২ জন, সাপাহার উপজেলায় ৪১ জন এবং পোরশা উপজেলায় ১১জন।
নাটোর জেলা সংবাদদাতা জানান, নাটোরে করোনা উপসর্গ নিয়ে লোকমান হোসেন নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। মৃত লোকমান নাটোর সদর উপজেলার তেবাড়িয়ার মজনুর মোড় এলাকার মৃত সোলেমান প্রামানিক এর ছেলে। লোকমান নারায়ণগঞ্জ চাকরি করতেন। অসুস্থ হওয়ার কারণে গতকাল রাতে লোকমান এবং তার ছেলে মামুন নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়িতে ফেরেন। তার জ্বর সর্দি এবং গলা ব্যথা ছিল। তাকে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় ভ্যানের উপরেই তার মৃত্যু হয়। লোকমান মারা যাওয়ার পর লোকমানের স্ত্রী ও ছেলে বাসা থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। বর্তমানে তার দুই মেয়ে সানজিদা ও নুরজাহান বাসায় আছেন। এলাকার লোকজন ধারণা করছেন লোকমান করোনা আক্রান্ত হয়েই মারা গেছেন। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সবকিছু পরীক্ষা করে বাড়ি লকডাউনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
পটুয়াখালী জেলা সংবাদদাতা জানান, জেলার গলাচিপা পৌর এলাকার ভিআইপি রোডের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা শাহনাজ পারভীন চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, আনোয়ারায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে আরো ৮ জন। আক্রান্ত ৮ জনের মধ্যে নতুন করে ২ জন চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানী লি. (সিইউএফএল) ও ২ জন বহুজাতিক শিল্প কারখানা কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে কর্মকর্তা রয়েছে। আনোয়ারায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১শ’ ১৮ জনে।
সাতক্ষীরা জেলা সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরায় ডাক্তার, পুলিশ ও চেয়ারম্যানসহ আরো ৯ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। এনিয়ে জেলায় মোট ১৮৫ জন করোনা পজেটিভ হলেন। করোনা আক্রান্ত স্বামীর মৃত্যুর একদিন পর স্ত্রী সখিনা খাতুন (৭০) করোনায় মারা গেলেন।
মাদারীপুর জেলা সংবাদদাতা জানান, মাদারীপুরে নতুন করে আরো ২৯ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১২জন, রাজৈর উপজেলায় ১২জন এবং শিবচর উপজেলায় ৫ জন। আক্রান্তের মধ্যে রাজৈর উপজেলার কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও স্বাস্থ্যসহকারী রয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৩৮ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২১জনসহ এ পর্যন্ত জেলায় সুস্থ হয়েছেন ২৮৬ জন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন