ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৯ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

পাকিস্তানের অর্থনীতি ও চীনের স্বার্থে আঘাত হানতেই স্টক এক্সচেঞ্জে হামলা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩০ জুন, ২০২০, ৬:৩৭ পিএম

হামলার পরে পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের বাইরে নিরাপত্তারক্ষীদের অবস্থান।


পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে হামলার এক ঘন্টা পরে, দায় স্বীকার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) সাংবাদিকদের কাছে ইমেইল পাঠিয়ে ও টুইটারে বার্তা দিয়েছে।

বিএলএ বলেছে যে, তাদের মাজিদ ব্রিগেড হামলা চালিয়েছে। পরের দিন তারা হামলাকারী ৪ জঙ্গির বন্দুক হাতে তোলা ছবিও প্রকাশ করেছিল। এ দিন সন্ধ্যায় জারি করা আরেকটি বিবৃতিতে বিএলএ বলেছে যে, হামলার উদ্দেশ্য ছিল একই সাথে পাকিস্তানের অর্থনীতি আঘাত হানা এবং বেলুচিস্তানের সাথে জড়িত থাকার কারণে চীনের ক্ষতি করা।

২০১১ সালে মাজেদ ব্রিগেড প্রতিষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোকে হত্যা চেষ্টার সময় নিহত তার একজন দেহরক্ষীর নামানুসারে মাজেদ ব্রিগেডের নামকরণ করা হয়েছিল। আফগানিস্তানে তাদের উপস্থিতির বিষয়ে এমনকি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

বিএলএ’র এই আত্মঘাতী দলটি বেশিরভাগই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী এবং চীনা স্বার্থকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে ডালবান্দিনের কাছে চীনাদের একটি বাস এবং একই বছর নভেম্বরে মাসে করাচিতে চীনা কনস্যুলেটে হামলা করেছিল। গত বছর তারা গোয়েদারের একটি বিলাসবহুল হোটেলে হামলা চালিয়েছিল। হোটেল অভিযানের কয়েকদিন পর মাজেদ ব্রিগেড চীনকে বালুচিস্তান ছেড়ে যাওয়ার জন্য হুশিয়ারি দিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল। প্রদেশটিতে গোয়েদারের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ছাড়াও চীনের সিপিসির স্থলপথের একটি বড় রয়েছে। গত মাসেই, গোষ্ঠীটি বেলুচিস্তানের সুরক্ষা বাহিনীর উপর তিনটি হামলা চালিয়েছিল।

তাহলে গ্রুপটি কেন স্টক এক্সচেঞ্জকে তার টার্গেট হিসাবে বেছে নিয়েছে? এটি কেবলমাত্র পাকিস্তানের আর্থিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে বড় আক্রমণ চালানোর জন্য নয়, এর পেছনে স্পষ্ট বার্তা ছিল। উদ্দেশ্য ছিল চীনের স্বার্থকে আঘাত করা।

চাইনিজরা এই স্টক এক্সচেঞ্জে অন্যতম বিনিয়োগকারী। ২০১৬ সালে তারা এর ৪০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়। এর মধ্যে সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ, শেঞ্জেন স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চায়না ফিনান্সিয়াল ফিউচার এক্সচেঞ্জের হাতে রয়েছে ৩৫ শতাংশ শেয়ার। স্থানীয় সংস্থার অধীনে থাকা আরও ৫ শতাংশ শেয়ারও চীনা বিনিয়োগের সাথে যুক্ত। চীনারা পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের (পিএসএক্স) মাধ্যমে ভবিষ্যতের সিপিইসি প্রকল্পগুলোর অর্থায়নের জন্য কয়েকশো বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করছে। এসব কারণেই এটি ছিল বিএলএ’র আক্রমণের লক্ষ্য।

পিএসএক্সের পরিচালক আবিদ আলী হাবিব ডনকে নিশ্চিত করেছেন যে চীনা বিনিয়োগের কারণে এই বোর্ডটি সুরক্ষা হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। আক্রমণ ব্যর্থ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী র‌্যাপিড রেসপন্স ফোর্সের সদস্যদেরকে সম্প্রতি বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর জন্য স্টক এক্সচেঞ্জে মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে রেঞ্জার্সও অন্তর্ভুক্ত আছে।

আবার এই হামলার পেছনে চীন-ভারত সংঘর্ষ এবং অধিকৃত কাশ্মীরের ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির মতো আঞ্চলিক উত্তেজনার ভূমিকা থাকতে পারে। পাকিস্তানি নেতারা এই হামলায় বিদেশীদের হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি টুইট করেছেন, ‘আমরা বারবার বিদেশী সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছি।’ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল কামার বাজওয়া আইএসপিআরের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘আমাদের শহীদদের কঠোর ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত শান্তিকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে শত্রুদের সমস্ত প্রচেষ্টা আমরা আমাদের স্থিতিশীল জাতির সমর্থন নিয়ে ব্যর্থ করব।’

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ‘চীন সকল প্রকার সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করে, এই ঘটনার নিরীহ নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানায় এবং তাদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে। চীন সকল প্রকার সন্ত্রাসবাদ দৃঢ়তার সাথে বিরোধিতা করে এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় এবং জাতীয় সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে গভীরভাবে সমর্থন করে।’

প্রসঙ্গত, বালোচ লিবারেশন আর্মি বা ‘বিএলএ’ পাকিস্তানের বালুচিস্তানের অন্যতম পুরনো জঙ্গি সংগঠন। ২০০০ সালে তৈরি। তবে অনেকেরই দাবি, আগের ‘ইন্ডিপেনডেন্ট বালুচিস্তান মুভমেন্ট’-এর নাম বদলে এদের জন্ম। বহু হামলার দায়ী সংগঠনটি পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বতন্ত্র দেশ ‘গ্রেটার বালুচিস্তান’ গড়তে চায়। তাদের প্রায় ৬ হাজার সদস্য রয়েছে। বেশির ভাগই ‘মারি’ ও ‘বুগতি’ জনজাতি। সক্রিয়তা সব চেয়ে বেশি বালুচিস্তান ও আফগান-সীমান্তবর্তী এলাকায়। আমেরিকা ও ব্রিটেনের তৈরি জঙ্গি-তালিকাতেও রয়েছে এদের নাম। সূত্র: ডন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Jack Ali ৩০ জুন, ২০২০, ৯:৩৩ পিএম says : 0
China is biggest terrorist .. they have imprisoned millions of Muslim.. they bar them to Pray/Fasting/Raping our mother and daughter and many more crime they sterilizing muslim woman so that they will not have babies and many more crime they are committing against muslims in china. May Allah wipe out them with corona virus. Ameen.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন