ঢাকা, রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৮ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

রানওয়ের আদলে মহাসড়ক

ঢাকা-সিলেট চারলেন বিটুমিনে মহাসড়ক থাকবে সার্ভিস লেন

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২ জুলাই, ২০২০, ১২:০৩ এএম

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অলিপুর থেকে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক ভেঙে বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। অলিপুর থেকে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বিভিন্ন স্থান ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগ নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এই দুর্ভোগ নতুন নয়। কয়েক বছর ধরে চলছে। ২০১৭ সালে প্রথম এই মহাসড়কটি চারলেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়। নানা কারণে তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। এবার চলতি বাজেটে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ককে চারলেনে উন্নীত করার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশে প্রথমবারের মতো বিমানবন্দরের রানওয়ের আদলে বিশেষ বিটুমিনে ঢাকা-সিলেট চারলেন মহাসড়ক নির্মাণ করা হবে। চলতি মাসেই চার লেন উন্নীতকরণ প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি হবে। এরপর মন্ত্রিসভা অনুমোদন তারপর একনেকে পাস। যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব এসব প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। সূত্র জানায়, সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এই মহাসড়কের কাজ করা হবে। যাতে করে চলতি বছরেই দৃশ্যমান কাজ শুরু করা যায়। আর এটি হবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় কোন মহাসড়ক যেখানে চার লেনের দুই পাশে দুটি সার্ভিস লেন থাকবে। মহাসড়কে ৬টি রেলওয়ে ওভারপাস (ফ্লাইওভার) করা হবে।

সূত্র জানায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দূরত্ব ২২৬ কিলোমিটার। চার লেনে দূরত্ব আরও কমিয়ে ২০৮ থেকে ২১০ কিলোমিটারে আনা হবে। এতে বর্তমান দূরত্ব থেকে অন্তত ১৫ কিলোমিটার কমে যাবে। এখন যেতে লাগে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা। চার লেন হওয়ার পর সময় লাগবে সাড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। যানবাহন চলবে ৮০ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিতে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর জানায়, সম্ভাব্য প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে এই চার লেন নির্মাণে। ডিপিপি প্রণয়নের কাজ প্রায় চূড়ান্ত। তারপর মন্ত্রণালয় হয়ে একনেকে অনুমোদনের পর কাজ শুরু হবে। কাজ শুরু হলে শেষ হবে তিন বছরে অর্থাৎ ২০২৩ সালের শেষে।

এ বিষয়ে সওজ-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রকিউরমেন্ট ) মোহাম্মদ সাব্বির হাসান খান জানান, ডিজাইন রিভিউ মোটামোটি চূড়ান্ত পর্যায়ে। জুলাইয়ের মধ্যে ডিপিপি জমা দেওয়া যাবে। বাংলাদেশে প্রথম এই চার লেন নির্মাণে ‘পলিমার মডিফায়েড বিটুমিন’ ব্যবহার করা হবে। বিমানবন্দরের রানওয়েতে এই বিটুমিন ব্যবহার করা যায়। তিনি জানান, ভারী যানবাহনের লোড নিতে সক্ষম এবং টেকসই আকারে সড়ক নির্মাণ এই বিশেষ বিটুমিনের ব্যবহার হবে ঢাকা সিলেট চার লেনে প্রকল্পে। তিনি বলেন, যহেতু এটি ফ্রাস্ট ট্রাক প্রকল্পের মতো গুরুত্ব পাচ্ছে সে কারণে ধাপগুলো খুব দ্রæত এগিয়ে যাবে। এই সময়ের মধ্যে একইসঙ্গে ঠিকাদার নিয়োগের কাজও চলবে।

সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পরারাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, আমি যতোদূর শুনেছি ডিজাইন এবং ফান্ডিং একসঙ্গে হচ্ছে। সওজ কর্মকর্তারা জুলাইয়ের মধ্যে ফান্ডিং এবং ডিপিপি সম্পন্ন করে সেপ্টেম্বর থেকে ভালো খবরের আশা করছেন। তিনি বলেন, আমি শুনেছি এটা একটা আন্তর্জাতিক দর্শনীয় রাস্তা হবে।ওই খুশিতেই আছি এখনও। আমরা চাই কাজটা শুরু হোক। মানুষের দুর্গতি কমুক। ৭ ঘণ্টার পরিবর্তে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় যেন যেতে পারি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (7)
H R Habib ২ জুলাই, ২০২০, ১:২০ এএম says : 0
Kobe hobe allah malum Sunci to onekdin dore
Total Reply(0)
MD Tamim ২ জুলাই, ২০২০, ১:২১ এএম says : 0
শুধু শুনতেছি কবে শুরু হবে
Total Reply(0)
Nuruzzaman Bablu ২ জুলাই, ২০২০, ১:২৩ এএম says : 0
আশায় আশায় দিন যে গেল আশা পুরন হবে ত?
Total Reply(0)
Asad Ahmed ২ জুলাই, ২০২০, ১:২৩ এএম says : 0
মানুষ বাচে আশায়, দেশ বাচে ভালোবাসায়। তাই অপেক্ষা করুন।
Total Reply(0)
নাজারেথ স্বনন ২ জুলাই, ২০২০, ১:২৩ এএম says : 0
আর কথা না বাড়িয়ে দ্রুত কাজ শুরু করা হোক। শুভ কামনা রইলো।
Total Reply(0)
Mohammed Jabbar ২ জুলাই, ২০২০, ৪:০১ এএম says : 0
More than 70 Crores for every Km??????? So much!!
Total Reply(0)
Badrul ২ জুলাই, ২০২০, ৬:২৯ এএম says : 0
Just for fun?
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন