ঢাকা, শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৭ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

তিন গুণ ব্যয় বাড়িয়েও শেষ হয়নি কাজ

চট্টগ্রামে আউটার রিং রোড নির্মাণ

রফিকুল ইসলাম সেলিম | প্রকাশের সময় : ৩ জুলাই, ২০২০, ১২:০২ এএম

আটশ’ কোটি টাকার প্রকল্প। তিনগুণ বাড়িয়ে করা হয় ২৪শ’ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ দুই বছর আগে। তবে কাজ এখনও শেষ হয়নি। নতুন করে আরো ১৫০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের আলোচিত সিটি আউটার রিং রোড নির্মাণে শুধুই ব্যয় বাড়ছে। কাজ শেষ হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সিডিএ বিগত ২০১৬ সালের জুলাইয়ে চার লেনের এ সড়ক নির্মাণ শুরু করে। গত বছর জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে এখনও অনেক কাজ বাকি। উপক‚লীয় বাঁধ বা আউটার রিং রোড নামে এ প্রকল্পের আওতায় ১৭.৩৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করার কথা। এখনও প্রায় আড়াই কিলোমিটার নির্মাণ বাকি আছে। বাকি সংযোগ সড়কের কাজও। কিছু অংশে কাজ শুরুই করা যায়নি মামলার কারণে। সাগরিকা বিভাগীয় স্টেডিয়াম এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ এখনও বাকি।

অথচ সড়কটি তড়িঘড়ি করে খুলে দেওয়া হয়েছে। পুরো কাজ শেষ না করে চট্টগ্রাম বন্দরমুখী আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ায় দ্রæত সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত এবং কোথাও ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিম্ন মানের কাজের কারণে চালুর আগেই গেল বর্ষায় সড়কের পাশের অংশ ধসে পড়ার ঘটনায় তোলপাড় হয়। তখন সিডিএ একটি তদন্ত কমিটি করলেও কারো বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ফলে কাজের গুণগত মান নিয়ে সংশয় থেকেই গেছে। সাগরের পাড় ঘেঁষে এই সড়কটি পতেঙ্গায় নির্মাণাধীন দেশের প্রথম টানেলের সাথে জাতীয় অর্থনীতির লাইফ লাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংযোগ তৈরি করবে। একই সাথে উপক‚লীয় এই বাঁধ বন্যা ও সামুদ্রিক জলোচ্ছ¡াস থকে বন্দরনগরী, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইপিজেডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহ রক্ষা করবে।

কর্ণফুলী টানেল হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত এ সড়কটি চালু হলে বন্দর, শিল্প কারখানা ও বিমানবন্দরগামী যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারবে। ফলে নগরীর অন্য সড়কে চাপ কমবে। এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ২০০৫ সালে এ বেড়িবাঁধ নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করে।

সিডিএর কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৮৬৫ কোটি ২৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দুই বার সংশোধনের পর ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় দুই হাজার ৪২৬ কোটি ১৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার এক হাজার ৭২০ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার ও জাইকার সহায়তা ৭০৬ কোটি টাকা।

গত বছরের জুনের আগে সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ করে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও তা পারা যায়নি। এবার বর্ষার আগে সড়কটি তড়িঘড়ি করে খুলে দেওয়া হয়। কাজ শেষ না হওয়ায় সড়কের অনেক অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোন অংশ যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। শেষ সময়ে এসে সড়কটির কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। জানা গেছে অর্থনীতিতে করোনার ধাক্কা মোকাবেলায় অগ্রাধিকার প্রকল্প ছাড়া অন্য প্রকল্পে অর্থ ব্যয় না করতে বলা হয়েছে। সিডিএর পানিবদ্ধতা নিরসন এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের মেগাপ্রকল্প বাদে অন্যপ্রকল্পের ভাগ্যে কি আছে তা এখনও অনিশ্চিত।

তবে প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, আশা করি প্রকল্পের কাজ দ্রæত শেষ করতে পারবো। সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলেও কাজ এখনও শেষ হয়নি। প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের পাশাপাশি এক কিলোমিটার ফ্লাইওভারের কাজও বাকি। মামলা, নকশা পরিবর্তন এবং করোনার কারণে কাজে বেশি সময় লাগছে। নতুন করে আরো ১৫০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ টাকা বরাদ্দ পেলে দ্রæত সময়ে কাজ শেষ করা যাবে। প্রকল্পের সময়ও এক বছর বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন