ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ২২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

কেউ যাতে টের না পায়, ঈদে তারা নীরবে চোখের পানি ফেলবেন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ জুলাই, ২০২০, ১০:১৫ এএম

করোনাকালে শারীরিক দূরত্ব, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিজেকে ঘরে বন্দি করেও শেষ রক্ষা হয়নি৷ ২০-৩০ বছর বসবাস করেও উঠতি মধ্যবিত্ত ঢাকাবাসীকে এক করোনার রাতে ছোট্ট পিকআপে সওয়ার হয়ে গ্রামে চলে যেতে হয়৷ বাড়ি ভাড়া তাকে দিতে হবে না, পকেটের বাকি টাকাগুলো ফুরোলে আত্মীয়স্বজন হয়ত দিনকতক তার ডাল-ভাতের জোগান দেবে৷ কিন্তু করোনাকাল আরো দীর্ঘায়িত হলে কী হবে তা কি আপাত গ্রামে ফিরে যাওয়া উঠতি মধ্যবিত্ত জানে? গ্রামে তো সুযোগ কম৷ সে কি আবার ফিরতে পারবে ফেলে যাওয়া ঢাকায়, নতুন করে পাততে পারবে সংসার?

অর্থবিত্তের নৈমিত্তিক টানাটানির মধ্যে মধ্যবিত্তের জীবনে সবকিছু পজিটিভ হতে হয়, কারণ, পজিটিভ মানেই ভালো৷ কিন্তু করোনাকালেও তাই কি?

এই সময় সীমিত আকারে হলেও নিম্নবিত্তের জন্য রাষ্ট্রীয় সামাজিক সুরক্ষা, ত্রাণ ও ব্যক্তি উদ্যোগের সহায়তা আছে৷ উচ্চবিত্তের প্রণোদনা আছে, সবচেয়ে বেশি আছে সংকট আর্থ-রাজনৈতিক মোকাবেলার ক্ষমতা৷ এই দুই শ্রেণিবৃত্ত বিপদে-আপদে ব্যক্তি অথবা রাষ্ট্রের সহায়তা প্রার্থনা করতে পারে৷

বিত্ত যাদের বেশি বা কম নয়, তারাই মধ্যবিত্ত৷ যদিও মধ্যবিত্তের কোনো সর্বমান্য সংজ্ঞা নেই৷ অর্থবিত্তের নৈমিত্তিক টানাটানির মধ্যে মধ্যবিত্তের জীবনে সবকিছু পজিটিভ হতে হয়, কারণ, পজিটিভ মানেই ভালো৷ জীবনভর যে মধ্যবিত্ত নেগেটিভ বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকতে চেয়েছে, এখন এই করোনাকালে টেস্ট রিপোর্টে নেগেটিভ শব্দ দেখার ইচ্ছেটাই তার অভীষ্ট৷ এই ইচ্ছের সাথে করোনার উপজাত হিসেবে আরো অসংখ্য নেগেটিভ মধ্যবিত্তের সমাজজীবনে প্রবেশ করেছে৷ শহুরে মধ্যবিত্ত ভালো নেই, এই কথাটাও সে জোরে বলতে পারে না, পাছে প্রতিবেশী জেনে যায়৷ আর কে না জানে, সবকিছু চলে গেলেও মধ্যবিত্ত কেবল মর্যাদা ও মূল্যবোধ ধরে বেঁচে থাকতে চায়৷ হয়তো এই ঈদেও তাদের নীরবে চোখে পানি ফেলতে হবে। কেউ তাদের খোঁজ রাখে না দেখেও লুকানো কষ্টগুলো।

ঢাকা শহরকে মধ্যবিত্ত আপন ভাবেনি কখনো, এ শহরও তাকে আপন ভাবে না৷ উপরের অংশ বাদ দিলে মধ্যবিত্তের উঠতি অংশই এ নগরের উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা৷ চাকরি, ব্যবসা, উদ্যোগ, সেবা, বেকারত্ব, কেনাকাটা, রাজনীতি, সংষ্কৃতি সবকিছুতেই তাদের অপার অংশগ্রহণ৷ দুই বেড রুমের সাধারণ কক্ষে বছরের পর বছর ভাড়া থেকে যাদের স্বপ্ন শেষজীবনে একটি মোটামুটি ফ্ল্যাটের মালিক হওয়া৷ এ শহরে হররোজ বসবাস করলেও প্রত্যেকের একটা করে ‘দেশের বাড়ি' থাকে৷ দুই ঈদে অদ্ভুতভাবে ঝুলে গাদাগাদি করে মর্মান্তিকভাবে জলে, স্থলে সে গ্রামে ফিরতে চায়, এ শহর যেন তাকে জোর করে আটকে রেখেছিল৷

করোনাকালে শারীরিক দূরত্ব, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিজেকে ঘরে বন্দি করেও শেষ রক্ষা হয়নি৷ ২০-৩০ বছর বসবাস করেও উঠতি মধ্যবিত্ত ঢাকাবাসীকে এক করোনার রাতে ছোট্ট পিকআপে সওয়ার হয়ে গ্রামে চলে যেতে হয়৷ বাড়ি ভাড়া তাকে দিতে হবে না, পকেটের বাকি টাকাগুলো ফুরোলে আত্মীয়স্বজন হয়ত দিনকতক তার ডাল-ভাতের জোগান দেবে৷ কিন্তু করোনাকাল আরো দীর্ঘায়িত হলে কী হবে তা কি আপাত গ্রামে ফিরে যাওয়া উঠতি অপার অংশগ্রহণ৷ দুই বেড রুমের সাধারণ কক্ষে বছরের পর বছর ভাড়া থেকে যাদের স্বপ্ন শেষজীবনে একটি মোটামুটি ফ্ল্যাটের মালিক হওয়া৷ এ শহরে হররোজ বসবাস করলেও প্রত্যেকের একটা করে ‘দেশের বাড়ি' থাকে৷ দুই ঈদে অদ্ভুতভাবে ঝুলে গাদাগাদি করে মর্মান্তিকভাবে জলে, স্থলে সে গ্রামে ফিরতে চায়, এ শহর যেন তাকে জোর করে আটকে রেখেছিল৷ ডয়চে ভেলে

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (2)
Md. Younus biswas ৬ জুলাই, ২০২০, ১১:৪৭ এএম says : 0
সত্য কথাগুলো উঠে আসেছে এখেনে
Total Reply(0)
md amanus salam ৬ জুলাই, ২০২০, ১২:৩১ পিএম says : 0
where we will go?
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন