ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

করোনা উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৭ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম

করোনা উপসর্গ সর্দি, জ্বর, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সারা দেশে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এদের কারো শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ছিল কিনা তা নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান ফটিকছড়ির বাসিন্দা নুর জাহান বেগম (৪২)। শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্র্তি হন।
বরিশাল ব্যুরো জানায়, দক্ষিণাঞ্চলে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির সাথে মৃত্যুর তালিকায়ও নতুন ৩ নাম যুক্তহল। পাশাপাশি সোমবার দুপুরের পূর্ববর্তি ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় ২৬ বেড়ে ১২৬ হয়েছে। যা আগের দিন ছিল পাঁচ। এসময়ে আক্রান্তের সংখ্যা বরিশালে সোয়া দুইগুণ ও পিরোজপুরে আড়াইগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলে কোভিড-১৯ সংক্রমনে ৭৬ জনের মৃত্যু হলেও ৩ হাজার ৪১৮ জন আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এসময়ে বরিশাল মহানগরীর নতুন বাজার ও রূপাতলীর দুজন শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। এছাড়া বরগুনাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণাঞ্চলে আরো ৬১ জন সহ মোট ১ হাজার ১৬৬ জন সুস্থ হয়ে ওঠার কথা বলেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর।
বরিশালে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা যথাক্রমে ১ হাজার ৭২০ ও ৩০-এ উন্নীত হয়েছে। এরমধ্যে মহানগরীতেই আক্রান্ত দেড় হাজারের বেশী। মৃত্যুও হয়েছে অন্তত ১৮ জনের। এরমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যথাক্রমে ৩৯ ও দুই। যা আগের দিন ছিল ১৮ ও তিন। তবে এরপরেও করোনার হটস্পট বরিশাল মহানগরীতে এখন আর নুন্যতম কোন স্বাস্থ্য সতর্কতা নেই। ইতোপূর্বে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ২৭টি রেড জোন ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে আর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। এমনকি দুটি ওয়ার্ড লকডাউন করার দিন তারিখ দুবার স্থির করা হলেও তা আর কার্যকর হয়নি। জেলায় নতুন ১৮ জনসহ ৪৭০ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
এদিকে পিরোজপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা পূর্ববর্তী দিনের ১৮ থেকে ৫০-এ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জেলাটিতে মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দাড়িয়েছে যথাক্রমে ২৯৪ ও পাঁচ-এ। পিরোজপুরে নতুন ৩ জন সহ মোট সুস্থ হয়েছেন ১৪৫ জন। অপরদিকে পটুয়াখালীতে আক্রান্তের সংখ্যা গতকাল আগের দিনের ১৮ থেকে ৪০-এ হ্রাস পেয়েছে। এসময়ে জেলাটিতে নতুন ২০ জনসহ মোট ১২৮ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা যথাক্রমে ৫২৮ ও ২২জন।
ভোলাতে নতুন করে আরো ৮ জন করোনা আক্রান্ত হবার ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৯। মৃত্যু হয়েছে মোট চারজনের। গতকাল নতুন ৫ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছেন ১৩৫ জন। ঝালকাঠিতেও গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। অপরদিকে বরগুনাতে আরো একজনের মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে জেলায় মোট সংখ্যাটা পাঁচ-এ উন্নীত হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যাও ৩শ ছুয়েছে। গতকাল নতুন ৭জনসহ মোট সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৬৩ জন।
এদিকে বরিশাল শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে গতকাল কোন নতুন রোগী ভর্তি না হলেও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১৬ জন ভর্তি হয়েছেন। তবে এসময়ে করোনা ওয়ার্ড থেকে ১৪ জন ও আইসোলেশন থেকে ২৪ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সকাল পর্যন্ত হাসপাতালটির এ দুটি ওয়ার্ডে ৯৩ জন চিকিৎসাধীন ছিল। যারমধ্যে করোনা ওয়ার্ডেই ছিলেন ৩৯ জন। হাসপাতালটির এ দুটি ওয়ার্ডে এ পর্যন্ত ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যারমধ্যে করোনা ওয়ার্ডে কোভিড-১৯ শনাক্ত ৪৪ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীর দুই ল্যাবে একদিনে ১০৩ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে রাজশাহীর ৮৯ জন, পাবনার ৮ জন ও নাটোরের ৬ জন। রাজশাহীতে নতুন ৮৯ জন শনাক্ত নিয়ে জেলায় আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১৭৪ জন। এর মধ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকার ৮৭৪ জন। এছাড়া জেলার বাঘা উপজেলায় ২০, চারঘাটে ৩০, পুঠিয়ায় ১৪, দুর্গাপুরে ১৫, বাগমারায় ৩১, মোহনপুরে ৪৬, তানোরে ৪৩, পবায় ৭৬ এবং গোদাগাড়ীতে ১১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। রোববার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে বর্হিবিভাগের ল্যাবে তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এদিন দুই ল্যাবে ৩৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
রাতে এ তথ্য জানান রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস ও রামেকের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান ও ল্যাব ইনচার্জ প্রফেসর ডা. সাবেরা গুলনাহার।
ডা. সাবেরা গুলনাহার জানান, রামেক ল্যাবে দুই শিফটে ১৫০ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ জনের নমুনায় করোনা পজিটিভ এসেছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে রাজশাহীর ২৩ জন, পাবনার ৮ জন ও নাটোরের ৬ জন। রাজশাহীর ২৩ জনের মধ্যে নগরীর ৯ জন, পবার ৯ জন, মোহনপুরের ৪ জন ও গোদাগাড়ীর ১ জন। অপরদিকে, ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, রামেক হাসপাতালের বর্হিবিভাগের করোনা ল্যাবে ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। যার মধ্যে ৬৬ জনের নমুনায় করোনা পজিটিভ এসেছে। তাদের সবাই রাজশাহীর।
কুষ্টিয়া থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, কুষ্টিয়ায় নতুন করে আরো ৩৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৭৪৬ জন কোভিড রোগী শনাক্ত হলো। এ পর্যন্ত জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে। গত রোববার রাতে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিস থেকে এ তথ্য জানান। কোভিড-১৯ আপডেটে জানানো হয়, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ৫ জুলাই মোট ৩৭০ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার ১৯৩ টি নমুনা ছিল
যার মধ্যে নতুন করে ৩৮ জনকে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মিরপুরের ১টি নমুনার রিপোর্ট ফলোয়াপ পজেটিভ। নতুন আক্রান্তের মধ্যে দৌলতপুরে ৪ জন, ভেড়ামারায় ৫ জন, সদরে ২০ জন, কুমারখালীতে ৭ জন এবং খাকসায় ২ জন।সদর উপজেলায় আক্রান্ত ২০ জনের ঠিকানা আইলচারা ১ জন, থানাপাড়া ১ জন, কমলাপুর ১ জন, বটতৈল ১ জন, কানাবিলের মোড় ১ জন, চেচুয়া ১ জন, কালিশংকরপুর ১ জন, কোর্টপাড়া ৩ জন, চৌড়হাস ২ জন, হাউজিং ১ জন, মঙ্গলবাড়িয়া ২ জন, কদমতলা ১ জন, জুগিয়া ২ জন, উদিবাড়ি ১ জন, মোল্লাতেঘরিয়া ১ জন। ভেড়ামারায় আক্রান্ত ৫ জনের ঠিকানা পূর্ব ভেড়ামারা ১ জন, উপজেলা পাড়া ১ জন, চর দামুড়দিয়া ১ জন, ১৬ দাগ ২ জন। দৌলতপুরে আক্রান্ত ৪ জনের ঠিকানা গারুড়া আদাবাড়িয়া ১ জন, দৌলতপুর ১ জন, আল্লারদরগা ১ জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১ জন। কুমারখালীতে আক্রান্ত ৭ জনের ঠিকানা কুমারখালী ১ জন, শেরকান্দি ২ জন, বাঁশগ্রাম ২ জন, শিলাইদহ ১ জন ও ছেউড়িয়ায় ১ জন। খোকসা উপজেলায় আক্রান্ত ২ জনের চকহরিপুর ১ জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১ জন। নতুন আক্রান্তের মধ্যে পুরুষ ২৯ জন এবং মহিলা ৯ জন। কুষ্টিয়ায় এখন পর্যন্ত ৭৪৬ জন কোভিড রোগী শনাক্ত হল। (বহিরাগত বাদে)। উপজেলা ভিত্তিক রোগী সনাক্তের মধ্যে দৌলতপুর ৯৮, ভেড়ামারা ৮৭, মিরপুর ৪৪, সদর ৩৯৫, কুমারখালী ৯৫, খোকসা ২৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ রোগী ৫৪৬ এবং নারী ২০০ জন। গতকাল পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ৩৩৭ জন। উপজেলা ভিত্তিক সুস্থ ৩৩৫ জন (দৌলতপুর ৫০, ভেড়ামারা ৫৭, মিরপুর ২১, সদর ১৫৫, কুমারখালী ৩৮, খোকসা ১৪)। বহিরাগত সুস্থ ২ জন। বর্তমানে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ৩৬২ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৪ জন। মৃত ১৩ জনের মধ্যে কুমারখালীর-৩, দৌলতপুরের-১, ভেড়ামারা-১, ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২ জন ও মহিলা ১ জন।
শেরপুর জেলা সংবাদদাতা জানান, মহামারী করোনার সাথে যুদ্ধ করে অবশেষে হেরেই গেলেন একাত্তরের রণাঙ্গণের সৈনিক, দুইবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও দুইবারের পৌর মেয়র এবং নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হালিম উকিল (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত রোববার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর উত্তরায় কুয়েত মৈত্রি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর থেকে জানান, চাঁদপুরে দু'দফা রিপোর্টে আরো ৫৮জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে চাঁদপুর সদরে ২২জন, মতলব দক্ষিণে ৯জন, শাহরাস্তিতে ৪জন, ফরিদগঞ্জে ১১জন (মৃত ২জনসহ) হাজীগঞ্জ ৩জন, কচুয়ায় ৪জন, হাইমচরে ২জন, মতলব উত্তরে ৩জন রয়েছে। এদিকে উপসর্গ নিয়ে মৃত চাঁদপুর শহরের রহমতপুর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম (৭০) ও ফরিদগঞ্জের দু'ব্যক্তি নুরুল ইসলাম মিজি (৭১) ও আবু তাহের(৬০)এর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।
চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩ জুলাই সকালে ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম মিয়াজি ও শ্রী কালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের মারা যান। চাঁদপুর শহরের ফাতেমাও সদর হাসপাতালে করোনা উপসর্গে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চাঁদপুর জেলায় এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১১০১জন। এরমধ্যে মৃতের সংখ্যা ৬৫জন।
চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় স‚ত্র জানায়, রোববার সকালে ও দুপুরে ১৫৭টি রিপোর্ট আসে। এর মধ্যে ৫৮টি পজেটিভ। বাকি ৯৯টি নেগেটিভ। জেলায় ১১০১জন করোনা আক্রান্ত রোগীর উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান হচ্ছে; চাঁদপুর সদরে ৪৩৯জন, মতলব দক্ষিণে ১২৫জন, শাহরাস্তিতে ১০৯জন, হাজীগঞ্জে ১০৫জন, ফরিদগঞ্জে ১২১জন, হাইমচরে ৭৯জন, কচুয়ায় ৫০জন এবং মতলব উত্তরে ৭৩জন।
চাঁদপুর জেলায় করোনায় মৃত ৬৫জনের মধ্যে চাঁদপুর সদরে ১৯ জন, হাজীগঞ্জে ১৬জন, ফরিদগঞ্জে ৯জন, কচুয়ায় ৫ জন, মতলব উত্তরে ৮জন, শাহরাস্তিতে ৪জন , মতলব দক্ষিণে ৩জন এবং হাইমচরে ১জন।
গোপালগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, গোপালগঞ্জে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮ শ’ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ চিকিৎসক ও ২ স্বাস্থ্যকর্মীসহ নতুন করে আরও ৩১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গোপালগঞ্জে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩০ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৫২ জন। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৬৫ জন । গোপালগঞ্জ সদর, কোটালীপাড়া মুকসুদপুর, কাশিয়ানী ও টুঙ্গিপাড়ায় মারা গেছেন ১৩ জন। গতকাল সকালে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ এ তথ্য জানান।
তিনি আরো জানান, নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় গোপালগঞ্জ সদরে ৭ জন, মুকসুদপুরে ৩ জন, কাশিয়ানীতে ৫ জন,কোটালীপাড়ায় ৫ জন ও টুঙ্গিপাড়ায় ১১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সিভিল সার্জন জানান, আক্রান্তদের বসতবাড়ি সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর লকডাউন করা হয়েছে। সেই সাথে আক্রান্তদের পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেণ্টিনে থাকার পারমর্শ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত ৫৬৭১ টি নমূনা পরীক্ষা করা হয়েছে।এর মধ্যে মুকসুদপুরে ১৮২ জন, কাশিয়ানীতে ১৫৬ জন, গোপালগঞ্জ সদরে ২৩৩ জন, টুঙ্গিপাড়ায় ১৩৩ জন ও কোটালীপাড়া উপজেলায় ১২৬ জনের দেহে করোনা সনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক , নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মী রয়েছেন ৭২ জন।
ঝালকাঠি জেলা সংবাদদাতা জানান, ঝালকাঠিতে করোনা উপসর্গ নিয়ে সোমবার দুপুরে দুই ব্যাক্তির মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন ঝালকাঠি জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল কুদ্দুস হাওলাদার (৭০) ও সদর উপজেলার বাউলকান্দা গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলাম (৬৫)।
মৃত ব্যাক্তিদের পারিবারিক সূত্র জানায়, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুস হাওলাদার গত ৮ দিন ধরে বুকে ব্যাথা শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি ছিলেন। সোমবার দুপুর একটার দিকে অবস্থার অবনতি হলে অ্যাম্বুলেন্সযোগে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে সিরাজুল ইসলাম বুকে ব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঝালকাঠি শহরের মেয়ের বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গতকাল বেলা ১২ টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। এ নিয়ে ঝালকাঠি জেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ৩৩ জনের এবং করোনা পজেটিভ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়। জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৪৯ জন। সুস্থ্ হয়েছেন ১২৫ জন।
স্টাফ ারপোর্টার নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান, নারায়ণগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আরো ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মারা গেছেন মোট ১১৭ জন। অন্যদিকে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ জন। জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৩৪৩ জন। গতকাল সকালে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এই তথ্য জানায়। নিহতদের মধ্যে একজন পুরুষ (৮০), তিনি সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অন্যজন নারী (৬৬), তিনি শহরের আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলে নতুন করে তিন পুলিশ সদস্য ও চারজন হাসপাতলের স্টাফসহ ২২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় সর্বমোট আক্রান্ত হলো ৭৬৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মির্জাপুর উপজেলায় মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং স্টেণ্টারের তিন পুলিশ সদস্যসহ ১৫জন, টাঙ্গাইল সদরে জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, প্রধান সহকারী, অফিস সহকারী, স্টোর কিপারসহ ৪জন, নাগরপুরে ১জন, কালিহাতীতে ১জন ও ঘাটাইল উপজেলায় ১ জন রয়েছে। জেলায় মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৩৭৯ জন। মারা গেছে মোট ১৬জন। নমুনা সংগ্রহের রিপোর্ট পেন্ডিং রয়েছে ১৬৩টি। বাড়িতে ও আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩৫৬ জন। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান সোমবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. সদর উদ্দিন জানান, হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে সর্বমোট ২৮ জন ভর্তি হয়। ১৯ জন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরের দুই জন ও মির্জাপুরের চারজন রয়েছেন।
কুমিল্লা : কুমিল্লা কোভিড-১৯ হাসপাতালে ১৫ মিনিটের ব্যবধানে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) দুজন মারা গেছেন। হাসপাতালের পরিচালক মো. মুজিবুর রহমান গতকাল এ তথ্য জানান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের লক্ষণ নিয়ে আইসিইউতে গতকাল রোববার রাতে দুজন মারা যান। এর মধ্যে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার ৬০ বছরের এক ব্যক্তি রাত সোয়া ১১টার দিকে মারা যান। তিনি গতকালই ভর্তি হয়েছিলেন। এ ছাড়া লালমাই উপজেলার ১৮ বছরের এক তরুণী রাত সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান। তিনিও গতকালই হাসপাতালে ভর্তি হন।
ফরিদপুর : কোভিড-১৯ উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুরে গতকাল দুই ব্যবসায়ী মারা গেছেন। এরা হলেন ভাঙ্গা পৌরসভার প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন (৪৭), ফরিদপুর শহরের ওয়ালেস পাড়ার মুদি দোকানদার রুহুল আমিন (৫২) এবং সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুরের শিবরামপুরের বিল্লাহ হোসেন (৫৫)।
সৈয়দপুর (নীলফামারী) : নীলফামারীর সৈয়দপুরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে আমিরুজ্জামান (৫১) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার দিনাজপুর এম এ রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। জানা গেছে, নীলফামারী সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়া হাজি কলোনী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন আমিরুজ্জামান। তিনি গত ৩০ জুন হার্ট ও কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে দিনাজপুর এম এ রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, ঝালকাঠির কাঠালিয়া সদর ইউনিয়নে প্রথম বারের মতো সোনালী ব্যাংকের আনসার সদস্যে মো. হুমায়ূন কবিরের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া আমুয়া অগ্রণী ব্যাংকের এক কর্মচারীর ২য় বারের মতো করোনা পরীক্ষায় রেজাল্টে পজেটিভ আসছে।
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় গত ২ দিনে নতুন করে ৪১ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ৩০ জন যা উপজেলায় ১ দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যা। এ নিয়ে উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০২ জনে দাঁড়াল।
সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ৬ জুলাই সোমবার ২ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গত ৪ জুলাই পাঠানো নমুনায় ২ জন পুরুষ আক্রান্ত হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বদিউজ্জামান।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন