ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

সম্পাদকীয়

প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী চিন্তা

| প্রকাশের সময় : ৮ জুলাই, ২০২০, ১২:০১ এএম

করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে যখন অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি বিনিয়োগে স্থবিরতা ও অসংখ্য মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব ও দূরদর্শী চিন্তা ও কর্মদক্ষতায় দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন গতি পাচ্ছে। তাঁর একের পর এক উদ্যোগ, চিন্তা, পরামর্শে অর্থনীতি গতি পাচ্ছে। প্রতিনিয়ত মিটিং করে সংশ্লিষ্টদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। বলা যায়, অর্থনীতিকে সচল করতে তিনি এককভাবে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। দেশের অর্থনীতির মন্দাবস্থার মধ্যেও সুখবর হয়ে দেখা দিয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। এ রিজার্ভ অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গেছে। এ সপ্তাহে রির্জাভ ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। গত সোমবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ভার্চুয়াল সভায় ২ হাজার ৭৪৪কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ ৯টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। সভাশেষে গণমাধ্যমের কাছে ব্রিফিংকালে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার নির্জাভ বেড়ে চলার প্রেক্ষাপটে তা কিভাবে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা যায় এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। করোনাকালীন দুর্যোগে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড জোরোসোরে চালু করার ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার তহবিলকে উন্নয়ন কাজে ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ দূরদর্শী চিন্তা-ভাবনা এবং পরমর্শ অত্যন্ত সময়োপযোগী, যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত।
করোনা সংকটের শুরুতেই সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প কাটছাঁট করে গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের উপর গুরুতারোপ করা হয়েছিল। এই সংকটেও পদ্মাসেতু, মেট্টোরেল প্রকল্পসহ পুরনো মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়লেও থেমে যায়নি। তবে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের কাজ ধীরগতি হওয়ায় জনভোগান্তিও সৃষ্টি হয়েছে। আবার করোনার অজুহাতে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হওয়ার আগেই অর্থ তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগসহ প্রকল্পে দুর্নীতি এবং অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বরাবরই সোচ্চার ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিক মেগা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার তাকিদ দিয়েছেন। এসব প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী নিজেই সরাসরি তদারকি করছেন। বাস্তবায়নাধীন মেগা প্রকল্পগুলো চালু হলে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, তাতে সন্দেহ নেই। এসব উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সময়োপযোগী নতুন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের পথ পরিক্রমা অব্যাহত রাখতে জরুরী প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রির্জাভ বিনিয়োগের বিষয়টি অবশ্যই সাধুবাদযোগ্য। বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশে কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ জোরগতিতে চালু করতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে কর্মগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের চেয়ে প্রয়োজনীয় এবং দ্রুত সুফল পাওয়া যাবে এমন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা অপরিহার্য। পাশাপাশি আইএমএফ, এডিবি, আইডিবিসহ বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেসব ঋণ সহায়তার প্রস্তাব পাওয়া গেছে, সেগুলোর কাজও এগিয়ে নেয়া জরুরী। এসব ঋণের টাকা ছাড় সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হওয়ায় চলমান প্রকল্পের কাজে বেশি মনোযোগী হওয়া বাঞ্চনীয়। তবে ইআরডিকে এ ব্যাপারে সংস্থাগুলোর সাথে চিঠিপত্র আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিনিয়োগের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩৬ বিলিয়ন ডলারের রির্জাভ থেকে ঋণ নিয়ে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সহায়ক প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখাই হবে এই মুহূর্তে উত্তম সিদ্ধান্ত।
বিগত এক দশকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ধারায় আমরা এলডিসি থেকে নি¤œ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। করোনার দুর্যোগের সময়ও আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার রুদ্ধ হয়ে যায়নি। আমাদের রিজার্ভ যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। গার্মেন্ট খাতের রপ্তানিও ধীরে ধীরে বাড়ছে। ফলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থের সংস্থান গতি পাবে। এজন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত বিনিয়োগের রোডম্যাপ। বিদ্যমান মেগাপ্রকল্পের দ্রæত বাস্তবায়ন এবং দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি একশ’টি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। ২০২৪ সালে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগেই ২০২৩ সালের মধ্যে যাতে সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক মেগা প্রকল্পগুলোর যথাযথ মান, স্বচ্ছতা ও জাবাবদিহিতার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে দেখাতে হবে। মুখে বললে হবে না, কাজে করে জনগণকে দেখানোর উদ্যোগ নিতে হবে। অর্থনীতির চাকা সচল করার মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যাপক বিনিয়োগের বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে বিনা সুদে রিজার্ভের অর্থ বিনিয়োগ বড় ধরনের সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়া চীন থেকে বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি সরে আসার যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তাদের দেশে নিয়ে আসার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা আবশ্যক। এখন আর করোনার অজুহাতে বসে থাকার সময় নেই। অর্থনীতির চাকা সচল এবং কর্মসংস্থানে যত ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে। এ কাজ সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিতে নিরলস পরিশ্রম এবং চিন্তা-ভাবনা করে যাচ্ছেন। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যবহার তাঁর দূরদর্শী চিন্তারই প্রকাশ। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে তাঁর এই চিন্তা এবং কর্মযজ্ঞের সাথে সকলকে একাত্ম হতে হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (2)
রাজিব ৯ জুলাই, ২০২০, ৯:১৭ এএম says : 0
আমাদের একজন শেখ হাসিনা আছে
Total Reply(0)
Md Mahmudul Islam ৯ জুলাই, ২০২০, ১:৩৪ পিএম says : 0
ধন্যবাদ
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন