ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

কমছে পানি তীব্র হচ্ছে ভাঙন

ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ ছড়াচ্ছে দুর্গত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৮ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম

দেশের বন্যা পরিস্থিতির কিছু স্থানে উন্নতি হচ্ছে। তিস্তা ও যমুনার পানি কোথাও কোথাও কমতে শুরু করেছে। পানি কমার সাথে সাথে তীব্র হচ্ছে নদী ভাঙন। এতে হাজার হাজার পরিবার জায়গা-জমি, ঘর-বাড়ি বসত ভিটা সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। বন্যা কবলিত লাখ লাখ মানুষের চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে যারা আশ্রয় নিয়েছেন বাঁধে বা উঁচু স্থানে তারা এখনো বাড়ি ফিরতে পারছেন না। তাদের অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটলেও কেউ ত্রাণ পাচ্ছেন না। বন্যাদুর্গত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন জেলায় শতাধিক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু কুড়িগ্রাম জেলায় ৮৮জন ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ জেলায় বন্যার পানিতে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৮ জন।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সব প্রধান নদ-নদীর পানি অনেক পয়েন্টে বিপদসীমার নিচে নেমে এসেছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে পদ্মা, আত্রাই, ধলেশ্বরী নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে সিরাজগঞ্জ, রাজবাড়ী, ঢাকা, ফরিদপুর, মুন্সিগঞ্জ এবং শরীয়তপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত বাড়লে এসব অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে আত্রাইয়ের পানি বাঘাবাড়িতে ১৭ সেন্টিমিটার, ধলেশ্বরীরর পানি এলাসিনে ২২ সেন্টিমিটার, আত্রাইয়ের পানি আত্রাইয়ে ২৫ সেন্টিমিটার, পদ্মার পানি গোয়ালন্দে ১৯ সেন্টিমিটার, ভাগ্যকুলে ২ সেন্টিমিটার, সুরেশ্বরে ১০ সেমি এবং মেঘনার পানি চাঁদপুরে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কোঅর্ডিনিশেন সেন্টার (এনআরডিসিসি) জানিয়েছে, এবারের বন্যায় বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকার বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ হিসেবে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন চাল, প্রায় দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বন্যায় ১৪ লাখের মতো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা শফিকুল ইসলাম বেবু জানান, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমোরসহ ১৬টি নদনদীর পানি বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে কুড়িগ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তাও ধরলা নদীর পানি কমার সাথে সাথে বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙন তীব্ররূপ ধারণ করেছে। ভাঙনের কবলে পড়েছে সারডোব, মোঘলবাসা ও নুনখাওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এছাড়া জয়কুমর, থেতরাই, কালিরহাটসহ আরো ১২টি স্পটে ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়েছে অন্তত ৫ শতাধিক পরিবার। বিলীন হবার পথে সারডোব বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশ অংশ। ফলে এখানে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে কুড়িগ্রামের উলিপুরে চোখের নিমিষেই তিস্তা নদীর গর্ভে চলে গেল একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থানীয় মানুষজনের উদ্যোগে লোহার এ্যাঙ্গেল ও কিছু টিন রক্ষা করা গেলেও অন্যান্য জিনিসপত্র মুহূর্তেই নদীতে তলিয়ে যায়। উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের তিস্তা নদী বেষ্টিত জুয়ান সতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গত সোমবার ভোর হতেই তিস্তার ভাঙনের কবলে পড়ে। স্থানীয় মানুষজন জানান, আধা ঘণ্টার মধ্যেই স্কুলঘরটি নদীতে চলে যায়। কিন্তু বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির লোকজন না আসায় স্থানীয় লোকজন কোন রকমে বিদ্যালয়টির এ্যাঙ্গেল ও কিছু টিন উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এদিকে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে চরাঞ্চলের একমাত্র বিদ্যাপীঠটি নদী গর্ভে চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার ব্রহ্মপূত্র নদ বিচ্ছিন্ন সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চর ঘুঘুমারী কমিউনিটি ক্লিনিক, দৈ খাওয়ার চর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সুখের চর সরকারি প্রাথমিক ও আশ্রয়কেন্দ্র ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। এদিকে পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়েছে রিং বাঁধের প্রায় ১ কিলোমিটার। নদীগর্ভে গেছে রাস্তা, স্কুল, কবরস্থান, বাজারসহ কয়েকশ বসতবাড়ি। এমনকি রাস্তাটিও মানুষের চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলায় এনাছেপুরের ঘাটাবাড়ি ও পাকুরতলায় যমুনার ভাঙনের মাত্রা বেড়েছে। পাউবো থেকে সেখানে অস্থায়ী জরুরি প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা নেয়া হলেও ভাঙন কোনভাবেই থামছে না। থেমে থেমে ভাঙনে মানুষজন ক্রমশ বসতভিটা, ঘরবাড়ি ও কৃষি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। এ ছাড়া টাঙ্গাইলে যমুনা সেতুর সংযোগ সড়কে দেখা দিয়েছে ভাঙন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন