ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৫ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

করোনা উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৮ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম

করোনা উপসর্গ সর্দি, জ্বর, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সারা দেশে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এদের কারো শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ছিল কিনা তা নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন
বরিশাল ব্যুরো জানান, দক্ষিণাঞ্চলে ১১৯ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ গত ২৪ ঘণ্টায় আরো এক জনের মৃত্যু ঘটেছে। যা প‚র্ববতি দিনের তুলনায় ৭ জন কম। তবে এসময়ে আরো ৬৬ জন সহ সর্বমোট এক হাজার ২২৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় ভোলার চরফ্যাশনে একজনের মৃত্যু হয়। এনিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭৭ সহ আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজার অতিক্রম করে আরো ৩৭ যোগ হল।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যে বরিশালে ৩৭, বরগুনাতে ২০, ভোলাতে ১৮, পিরোজপুরে ১৬ এবং পটুয়াখালী ও ঝালকাঠিতে ১৪ জন করে রয়েছেন। এদিনও নতুন আক্রান্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও পুলিশকর্মী রয়েছেন।
এরফলে বরিশাল জেলায় মোট আক্রান্ত ১ হাজার ৭৫৭ সহ মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের। যার মধ্যে মহানগরীতেই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যাটা যথাক্রমে ১ হাজার ৬শ’ ও ১৫ জন। বরিশাল মহানগরীর প্রতিটি এলাকা বর্তমানে করেনা ভাইরারস সংক্রমিত। পটুয়াখালীতে মোট আক্রান্ত ৫৪২ জনের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের। ভোলাতে ৩৪৫ জন আক্রান্তের মধ্যে ৫ জনের, বরগুনায় ৩২০ আক্রান্তের মধ্যে ৫ জনের, পিরোজপুরে ৩১০ আক্রান্তের বিপরীতে ৫ জন ও ঝালকাঠীতে ২৬৩ জন আক্রান্তের মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী বিভাগে আট জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ভয়ানক হয়ে উঠেছে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি। প্রতিদিন বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা। এ বিভাগে একদিনে রেকর্ড ৩১১ জনের নমুনায় করোনা পাওয়া গেছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪৬০ জনে। এ বিভাগে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১০০ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২৩৫৩ জন। দুপুরে এক প্রতিবেদনে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তারের পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্তের মধ্যে রাজশাহীর ১০৪ জন, নাটোরের ৩ জন, জয়পুরহাট ৫৭ জন, বগুড়ায় ৭১ জন ও সিরাগঞ্জে ৬৩ জন ও পাবনার ১৩। তবে বিভাগের অপর তিন জেলা নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোন রোগি শনাক্ত হয়নি বলে তিনি জানান।
ডা. গোপেন্দ্র জানান, রাজশাহী বিভাগে এ পর্যন্ত ৭৪৬০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বগুড়ায় ৩৪৪৬ জন আক্রান্ত। এছাড়াও মহানগরীতে ৯৬৩ জনসহ রাজশাহী জেলায় ১২৭৮ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০১ জন, নওগাঁয় ৫৮৪ জন, নাটোরে ২৫৩ জন, জয়পুরহাটে ৫১১ জন, সিরাজগঞ্জে ৬৯০ জন ও পাবনায় ৫৯৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ্য হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন আরও ২৫৮ জন। এ নিয়ে বিভাগে সুস্থ হয়েছেন ২৩৫৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগী। এর মধ্যে রাজশাহীর ১৭১, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭৩ জন, নওগাঁয় ৪০২ জন, নাটোরে ৮৮ জন, জয়পুরহাট ১৫৬ জন, বগুড়ায় ১১৭৮ জন, সিরাজগঞ্জ ১০৩ জন ও পাবনায় ১৮২ জন।
খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আওতাভুক্ত করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রফিকুল ইসলাম (৬৮) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৪টায় করোনা ডেডিকেটেড ডায়াবেটিকস হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তিনি মহানগরীর ৮ নম্বর মির্জাপুর রোডের মৃত জব্বার সরদারের ছেলে।
করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের ফোকাল পার্সন ডা. শেখ ফরিদ উদ্দীন আহমেদ বলেন, ওই ব্যক্তি করোনা পজিটিভ নিয়ে গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ভোর ৪টায় তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে খুলনায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৬ জনে।
কুমিল্লা : কুমিল্লায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুজন এবং উপসর্গ নিয়ে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাদের। হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. ইশতিয়াক চৌধুরী গতকাল এ তথ্য জানিয়েছেন।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া দুজন হলেন মনিরউদ্দিন খান (৫০) ও সালমা (৩৬)। অন্যদিকে, করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া তিনজন হলেন, কানু লাল (৭৩), স্বপন (৬৫) ও হাসিনা (৫৭)।
ডা. ইশতিয়াক চৌধুরী জানান, করোনায় মারা যাওয়া দুজন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া তিনজন জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি ছিলেন।
স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর থেকে জানান, চাঁদপুরে নতুন করে আরো ১৯জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে চাঁদপুর সদরে ১০জন, মতলব দক্ষিণে ৪জন, মতলব উত্তরে ১জন রয়েছে ও হাইমচরে ৪জন। চাঁদপুর জেলায় এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১১২০জন। এরমধ্যে মৃতের সংখ্যা ৬৫জন। চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে ৫৫টি রিপোর্ট আসে । এর মধ্যে ১৯টি পজেটিভ। বাকিগুলো নেগেটিভ।
জেলায় ১ হাজার ১২০ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান হচ্ছে; চাঁদপুর সদরে ৪৪৩জন, মতলব দক্ষিণে ১২৯জন, শাহরাস্তিতে ১০৯জন, হাজীগঞ্জে ১০৫জন, ফরিদগঞ্জে ১২১জন, হাইমচরে ৮৩জন, কচুয়ায় ৫০জন এবং মতলব উত্তরে ৭৪জন।
চাঁদপুর জেলায় করোনায় মৃত ৬৫জনের মধ্যে চাঁদপুর সদরে ১৯ জন, হাজীগঞ্জে ১৬জন, ফরিদগঞ্জে ৯জন, কচুয়ায় ৫ জন, মতলব উত্তরে ৮জন, শাহরাস্তিতে ৪জন , মতলব দক্ষিণে ৩জন এবং হাইমচরে ১জন।
গোপালগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, গোপালগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ নার্সসহ নতুন করে আরও ৩২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গোপালগঞ্জে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৭০ জন। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৭৮ জন । গোপালগঞ্জ সদর, কোটালীপাড়া মুকসুদপুর, কাশিয়ানী ও টুঙ্গিপাড়ায় মারা গেছেন ১৪ জন। গতকাল সকালে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ এ তথ্য জানান। তিনি আরো জানান, নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় গোপালগঞ্জ সদরে ১৫ জন, মুকসুদপুরে ২ জন, কাশিয়ানীতে ৫ জন, কোটালীপাড়ায় ১ জন ও টুঙ্গিপাড়ায় ৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সিভিল সার্জন জানান, আক্রান্তদের বসতবাড়ি সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর লকডাউন করা হয়েছে। সেই সাথে আক্রান্তদের পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেণ্টিনে থাকার পারমর্শ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত ৫৬৭১ টি নম‚না পরীক্ষা করা হয়েছে।এর মধ্যে মুকসুদপুরে ১৮৪ জন, কাশিয়ানীতে ১৬১ জন, গোপালগঞ্জ সদরে ২৪৮ জন, টুঙ্গিপাড়ায় ১৪২ জন ও কোটালীপাড়া উপজেলায় ১২৭ জনের দেহে করোনা সনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক , নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মী রয়েছেন ৭৩ জন। এদিকে, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় করোনা উপসর্গ নিয়ে আবুল হাসান মুন্সি (৬০) নামে এক সাবেক সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার দুপুরে উপজেলার বাশঁবাড়িয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে তিনি মারা যান।
ঝালকাঠি জেলা সংবাদদাতা জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে ঝালকাঠির রাজাপুরের আবুল কায়সার (৭২) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতরাতে সাড়ে ১১টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে তার মৃত্যু হয়। জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলার আবুল কায়সার জ্বর-সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কুষ্টিয়া থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, কুষ্টিয়ায় পুলিশ, ব্যাংকারসহ একদিনে সর্বোচ্চ ৪৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় এখন পর্যন্ত ৭৮৯ জন কোভিড রোগী শনাক্ত হলো। গতকাল কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড়ের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়স্ক একজন পুরুষ রোগী মৃত্যুবরণ করেন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ১৪ জন। গত
সোমবার রাতে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিস থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সিভিল সার্জন অফিস থেকে কোভিড ১৯ আপডেটে জানানো হয়, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ৬ জুলাই ৩২৯ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার ১৪০টি নমুনা ছিল। কুষ্টিয়ায় সোমবার নতুন করে ৪৪ জনকে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া কুমারখালীর ১টি ও সদরের ১ টি নমুনার রিপোর্ট ফলোয়াপ পজেটিভ। এদিকে রবিবার শনাক্ত হওয়া সদরের একজন রোগী ফলোআপ পজেটিভ হয়। নতুন আক্রান্তের মধ্যে দৌলতপুরে ৭ জন , সদরে ২৯ জন, কুমারখালীতে ৫ জন ও মিরপুরে ৩ জন ।
সদর উপজেলায় আক্রান্ত ২৯ জনের ঠিকানা হরিপুরে ২ জন, রাজু আহমেদ সড়ক ১ জন, প‚র্ব মজমপুর ১ জন, কালিশংকরপুর ৩ জন, উজানগ্রাম ১জন, কমলাপুর ১ জন, বেলঘড়িয়া ১ জন, লুতফুর মঞ্জিল রোড ১ জন, চৌড়হাস ১ জন, বাড়াদি ১ জন, কুমারগাড়া ২ জন, মিনাপাড়া ১ জন, বড় আইলচারা ১ জন, ঢাকা ঝালুপাড়া ১ জন, হাউজিং ব¬ক বি ১ জন, আড়ুয়াপাড়া ১ জন, এনএস রোড ১ জন, গোসালা রোড ৩ জন, কোর্টপাড়া ২ জন ও সকাল সন্ধ্যা গলি ৩ জন। দৌলতপুর উপজেলায় আক্রান্ত ৭ জনের ঠিকানা আল¬ারদরগা ১ জন, মহিষকুন্ডি ১ জন, পুলিশ ক্যাম্প খলিশাকুন্ডি ৫ জন। কুমারখালী উপজেলায় আক্রান্ত ৫ জনের ঠিকানা অগ্রণী ব্যাংক ১ জন, কুশলিবাস ১ জন, শিলাইদহ ১ জন, বাঁশগ্রাম ১ জন, হাউজিং ব¬ক ডি ১ জন (অবস্থান কুমারখালী)। মিরপুর উপজেলায় আক্রান্ত ৩ জনের ঠিকানা কল্যাণপুর ১ জন, নওয়াপাড়া ২ জন। নতুন আক্রান্তের মধ্যে পুরুষ ৩৪ জন, মহিলা ১০ জন। কুষ্টিয়ায় এখন পর্যন্ত ৭৮৯ জন কোভিড রোগী সনাক্ত হল (বহিরাগত বাদে)। উপজেলা ভিত্তিক রোগী শনাক্তের মধ্যে দৌলতপুর ১০৫, ভেড়ামারা ৮৭, মিরপুর ৪৭, সদর ৪২৩, কুমারখালী ১০০ ও খোকসা ২৭ জন।
এর মধ্যে পুরুষ ৫৭৯ ও নারী ২১০ জন। সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন মোট ৩৬৯ জন। উপজেলা ভিত্তিক সুস্থ ৩৬৭ জন (দৌলতপুর ৫৫, ভেড়ামারা ৫৮, মিরপুর ২৬, সদর ১৬৮, কুমারখালী ৪৪, খোকসা ১৬) বহিরাগত সুস্থ ২ জন। বর্তমানে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ৩৭২ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৪ জন। মৃত ১৪ জন (কুমারখালী-৩, দৌলতপুর-১, ভেড়ামারা-১, কুষ্টিয়া সদর-৯ )। গতকাল কুষ্টিয়া সদরের কাস্টমস মোড়ের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়স্ক একজন পুরুষ রোগী মৃত্যুবরণ করেন। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৩ জন ও মহিলা ১ জন।
পটুয়াখালী জেলা সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালীতে আজ প্রাপ্ত রিপোর্টে নতুন করে ১৯ জন করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছেন। নতুন শনাক্তকৃত দের মধ্যে গলাচিপা উপজেলার একজন গত ২ জুন করোনা উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় মারা গিয়েছেন। এদিকে, জেলার গলাচিপা উপজেলার চর আগস্তী বহুমুখী ক্যাডেট হাফেজিয়া কওমি মাদরাসা ও এতিমখানার অফিস সহকারী মো. আলতাফুর রহমান(৬০)করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গত রাত ১ টার দিকে মারা গিয়েছেন।
টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলে নতুন করে দুই চিকিৎসক ও দুই পুলিশসহ ২৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় সর্বমোট আক্রান্ত হলো ৭৯৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মির্জাপুর উপজেলায় মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং স্টেণ্টারের দুই পুলিশসহ ১০জন, টাঙ্গাইল সদরে দুই চিকিৎসকসহ ১১ জন, সখীপুরে একজন ও মধুপুরে দুইজন রয়েছে। জেলায় মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৩৮৭ জন। মারা গেছে মোট ১৭ জন। নমুনা সংগ্রহের রিপোর্ট পেন্ডিং রয়েছে ১৫৯টি। বাড়িতে ও আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩৭১ জন। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. সদর উদ্দিন জানান, হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে সর্বমোট ২৮ জন ভর্তি হয়। ১৯ জন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরের দুই জন ও মির্জাপুরের চারজন রয়েছেন।
মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের জুড়ীতে করোনা উপসর্গে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয়। জানা গেছে, রোববার উপজেলার ছোট ধামাই গ্রামের ৮৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ হার্ট অ্যাটাক করলে পরিবারের লোকজন তাকে জুড়ী হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখান থেকে ডাক্তাররা তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয়। শ্বাসকষ্ট, জ্বর থাকার কারণে ডাক্তাররা তার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছেন। সোমবার রাত ১২টার দিকে ছোটধামাই এলাকায় প্রশাসনের উপস্থিতিতে তার লাশ দাফন করা হয়েছে। এ সময় জুড়ী থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ফারহানা বেগমসহ প্রশাসনের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. প্রিয়জ্যোতি ঘোষ অণিক জানান, উনি জুড়ীতে ভর্তি হলে সেখানে কোনো উপসর্গ পাওয়া যায়নি। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর রোগীর শরীরে করোনার উপসর্গ পেয়েছেন বলে সেখানকার ডাক্তাররা জানিয়েছেন।
ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে করোনা উপসর্গে রাকিব হোসেন (৩৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ভোরে তিনি মারা যান। সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. অপ‚র্ব কুমার সাহা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। রাকিব হোসেন জেলার শৈলকুপা উপজেলার মীনগ্রাম এলাকার খেলাফত জোয়ারদারের ছেলে।
মেহেরপুর : মেহেরপুরের গাংনীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে জোবাইদা খাতুন (৭২) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। তিনি গাংনী পশু হাসপাতাল পাড়ার মৃত আব্দুল গনীর স্ত্রী।
ছাতক (সুনামগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, সুনামগঞ্জের ছাতকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাজী আবদুল গণি (৮৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট শহীদ সামসুদ্দিন হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের জাউয়া গ্রামের বাসিন্দা। করোনা আক্রান্ত হয়ে তিনি প্রায় এক মাস সিলেট শহীদ সামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধিন ছিলেন। এ নিয়ে ছাতক উপজেলায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৬জন। এ বিষয়ে কৈতক হাসপাতালের ডাক্তার মোজাহারুল ইসলাম জানান, গত ৬জুন আবদুল গণির করোনা ভাইরাসের টেস্ট করা হলে ৮জুন পজেটিভ আসে। পরে শ্বাস কষ্ট দেখা দিলে তাকে সিলেট শহীদ সামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালে তিনি ২৫দিন ভর্তি ছিলেন। ২৭জুন প‚নরায় টেস্ট পরীক্ষায় নেগেটিভ আসলেও তার শারীরিক অবস্থা আর উন্নতি হয়নি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন