ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

অনিশ্চয়তায় কয়েক হাজার যাত্রী

যাত্রীদের কয়েকজন করোনা পজিটিভ : বাংলাদেশের সব ফ্লাইট বন্ধ করল ইতালি সপ্তাহে ৩ দিন চলবে দুবাই ও আবুধাবীর ফ্লাইট : বিমান সচিব

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৮ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের করোনা পজিটিভ থাকায় এক সপ্তাহের জন্য ঢাকা থেকে সব ফ্লাইট বন্ধ করেছে ইতালি। গত সোমবার বাংলাদেশ থেকে ইতালির রাজধানী রোমে যাওয়া একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের মধ্যে ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যকের’ করোনাভাইরাস পজিটিভ এসেছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রাণলয় জানিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালেয়র এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ফ্লাইট বন্ধের এই সময়ে ইতালি সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও শেনজেন অঞ্চলের বাইরে থেকে যাওয়া সবার জন্য নতুন করে পূর্ব সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করবে। ইতালি সরকারের এ সিদ্ধান্তের কারণে আগামী ৯ ও ১৩ জুলাই বিমানের রোমের দুই বিশেষ ফ্লাইটের যাত্রাও অনিশ্চিত হয়ে পড়লো। এতে করে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়লেন ইতালি ফিরতে যাওয়া আরও কয়েক হাজার যাত্রী। এ বিষয়ে বিমানের অফিসিয়াল কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইতালি থেকে এখনও তারা কোনো তথ্য পাননি। পেলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এদিকে, চাহিদা সত্তে¡ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট না বাড়ায় প্রায় দেড় লাখ যাত্রী দেশে আটকা পড়ে আছেন। এর মধ্যে চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা আদৌ ফিরতে পারবেন কি না তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ বিষয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক জানান, সভায় দুবাই ও আবুধাবীতে সপ্তাহে তিনটি করে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। লন্ডনের ফ্লাইট বাড়ানো হবে কি-না জানতে চাইলে বিমান সচিব বলেন, এখান থেকে যাত্রী পাওয়া গেলেও বিপরীত দিক থেকে যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। সে কারণে লন্ডনের ফ্লাইট বাড়ানো যাচ্ছে না। তবে বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, দেশি ফ্লাইটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটে বিদেশি ফ্লাইটও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।


বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে দুই মাস বন্ধ থাকার পর গত ১৬ জুন বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হয়। পরদিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে রোমে ফিরে যান ২৫৯ জন প্রবাসী। এরপর গত দুই সপ্তাহে হাজারখানেকের মতো প্রবাসী বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে ইতালি ফিরে গেছেন। ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন আরও কয়েক হাজার। এর মধ্যে ইতালির নাগরিক, প্রবাসী শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং শিক্ষার্থীও আছেন। গতকাল ইতালির ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণার পর সোহেল রানা নামে একজন ইতালি প্রবাসী ইনকিলাবকে বলেন, অনেক চেষ্টা তদবির করে বিমানের একটা টিকিট ম্যানেজ করেছিলাম। আগামী ৯ জুলাই বিশেষ ফ্লাইটে আমার যাওয়ার কথা। এখন কি হবে বুঝতে পারছিনা। তিনি বলেন, ৯২ হাজার ৩শ’ টাকায় টিকিট কেটেছিলাম। ৯ তারিখে যেতে না পারলে আমার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। আরেক যাত্রী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমি বহুদিন ধরে বিশেষ ফ্লাইটের টিকিটের জন্য চেষ্টা করছি। ৯ জুলাইয়ের ফ্লাইটে টিকিট পাইনি। বিমানের কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন ১৩ জুলাই আমার ফ্লাইট হবে। এখন তো দেখছি সব ভেস্তে গেল। বিমান বন্দরে করোনা টেস্টের দুর্বলতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকেই সময়ের অভাবে সঠিক সময়ে টেস্ট করাতে না পেরে ভূয়া টেস্ট সার্টিফিকেট নিয়ে যাচ্ছে। বিমান বন্দরে টাকা দিলে এগুলো সঠিকভাবে যাচাই না করেই ছেড়ে দেয়া হয়। যে কারণে ইতালির সোমবারের ফ্লাইটে এক সাথে এতো যাত্রীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। ইতালি থেকে জানুয়ারী মাসে আসা আরেক প্রবাসী সাজিদ হোসেন বলেন, আমাদের বিমানবন্দরের দুর্নীতিমুক্ত করা না গেলে ভবিষ্যতে আরও বিপদ হবে। লাখো প্রবাসীর জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।


আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, এর মধ্যে ইতালির রাজধানী রোম যে অঞ্চলে সেই লাৎসিও অঞ্চল কর্তৃপক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঢালাও করোনাভাইরাস পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নিয়েছে। স¤প্রতি বেশ কয়েকটি ‘ক্লাস্টার’ সংক্রমণের ঘটনায় গত সপ্তাহে কর্তৃপক্ষ ওই সিদ্ধান্ত নেয় বলে সে সময় রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়। গত কয়েক দিনে লাৎসিও অঞ্চলে নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে সর্বশেষ গত শুক্রবার একজনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যিনি মাত্রই দেশ থেকে ফিরেছেন। গত ফেব্রæয়ারিতে যখন ইতালিতে ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে সে সময় বাংলাদেশে এই রোগ পৌঁছায়নি। তখন ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে দলে দলে প্রবাসীরা ফিরতে শুরু করে। এক ভোরে ইতালি থেকে ফেরা কয়েকশ’ প্রবাসীকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখার জন্য বিমানবন্দর সংলগ্ন আশকোনা হজক্যাম্পে নেওয়ার পরও তাদের বিক্ষোভের মুখে ছেড়ে দেয় সরকার। ওই প্রবাসীদের বাসায় ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়। এর কিছু দিন পরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দিতে শুরু করে। পরে ইতালি অতি সংক্রামক এই রোগের বিস্তারে লাগাম পরাতে পারলেও ধুঁকছে বাংলাদেশ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন