ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ২২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

অনানুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বরিশাল গ্যাস টার্বাইন পাওয়ার স্টেশন

২শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে

বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৮ জুলাই, ২০২০, ১২:২৫ পিএম

অনানুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট। ফ্রান্সের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বরিশাল গ্যাস টার্বাইন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের এ দুটি ইউনিট যথাক্রমে ১৯৮৪ ও ১৯৮৭ সালে স্থাপন করা হয়েছিল। মেয়াদ উত্তীর্ণের পরেও দীর্ঘদিন এ দুটি উৎপাদন ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। এমনকি অতি সম্প্রতি এখানের একটি ইউনিট প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যায়ে মেজর ওভারহলিং-এর মাধ্যমে পূর্ণ উৎপাদন নিশ্চিত হয়। এর আগেও কয়েক দফায় ইউনিটগুলো ওভারহলিং করে চালিয়ে রাখা হচ্ছিল। তবে গত মে মাসে পিডিবি’র বোর্ড সভার মৌখিক সিদ্ধান্তের আলোকে বরিশাল গ্যাস টার্বাইন পাওয়ার স্টেশনের ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে।

১৯৭৯ সালের ২৩ নভেম্বর বরিশাল সার্কিট হাউজে মন্ত্রী পরিষদের সভায় এখানে ১শ মেগাওয়াট ক্ষমতার বার্জ মাউন্টেড পাওয়ার স্টেশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। কিন্তু পরবর্তিতে কারিগরি কমিটির সুপারিশে বার্জ মাউন্টেড-এর পরিবর্তে বরিশালে ল্যান্ড বেজড পাওয়ার স্টেশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে সরকার। এরই আলোকে ফরাসী ঋনে বরিশাল মহানগরীর দপদপিয়ায় কির্তনখোলা নদী তীরে প্রায় ১৭ একর জমির ওপর প্রাথমিকভাবে ২০ মেগাওয়াটের একটি গ্যাস টার্বাইন উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হয় ১৯৮১’র শেষ দিকে। ১৯৮৪ সালের প্রথম দিকে ফ্রান্সের ‘আলস্থাম-আটলান্টিক’ কোম্পানীর ডুয়েল-ফুয়েল’এর প্রথম ইউনিটটির নির্মান কাজ শেষে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যূক্ত হয়।

পূর্বের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ফরাসী ঋনে এখানে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মান কাজও শুরু হয়। ১৯৮৭ সালের মাঝামাঝী দু নম্বর ইউনিট থেকেও জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ সরবারহ শুরু হয়। সেথেকে দক্ষিণাঞ্চলে সরকারী বৃহত এ উৎপাদন ইউনিট দুটি থেকে যথেষ্ঠ নির্ভরতার সাথে বিদ্যুৎ সরবারহ করা হচ্ছিল। তবে বারে বারে ডিজেল’র মূল্য বৃদ্ধির সাথে দীর্ঘদিনেও ভোলায় আবিস্কৃত গ্যাস বরিশালে না আসায় এ ইউনিট দুটির উৎপাদন ব্যায় বেড়ে যাচ্ছিল। সর্বশেষ বরিশাল গ্যাস টার্বাইনে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ-এর উৎপাদন ব্যায় ছিল ৩১ টাকারও বেশী। তবে সরকারী সিদ্ধান্তের আলোকে ভোলা থেকে বরিশাল গ্যাস সরবরহ হলে এ দুটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যায় ৬ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে জানা গেছে।

কিন্তু কোন নতুন উৎপাদন ইউনিট স্থাপন না করেই বরিশাল গ্যাস টার্বাইন পাওয়ার স্টেশনটি বন্ধ করে দেয়ায় ক্ষুদ্ধ দক্ষিণাঞ্চলের সাধারন মানুষ। বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন চেম্বার নেতৃবৃন্দও বিষয়টি নিয়ে ক্ষুদ্ধ। অথচ এদুটি উৎপাদন ইউনিট পিডিবি’র আপদকালীন পরিস্থিতি উত্তরনেও সহায়ক। কোন কারনে পশ্চিম জোনে জাতীয় গ্রীডে বিপর্যয় হলে বরিশাল গ্যাস টার্বাইন চালু করে জাতীয় গ্রীডের মাধ্যমে এ অঞ্চলের বৃহত অন্যসব উৎপাদন ইউনিটগুলো উৎপাদনে আনা সম্ভব হত। গত মে মাসে বন্ধ করে দেয়ার পরেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে একবার জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ সরবাারহ করে বিপর্যয় মোকাবেলা করেছে বরিশাল গ্যাস টার্বাইন।

এদিকে বছর দুয়েক আগে বরিশাল গ্যাস টার্বাইন এলাকায় ২শ মেগাওয়াটের একটি নতুন পাওয়ার স্টেশন স্থাপনে পিডিবি’র বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হলেও বিষয়টির আর কোন অগ্রগতি হয়নি। এমনকি বিদ্যমান পাওয়ার স্টেশনটির প্রায় ১৭ একর জমিতেই সোয়া ২শ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষম পাওয়ার স্টেশন স্থাপন সম্ভব বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিডিবির দায়িত্বশীল মহল। কিন্তু এজন্য যে ধরনের রাজনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন, সে ধরনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের সংকট রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলে।
বরিশাল গ্যাসটার্বাইন পাওয়ার স্টেশনটি বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও এখানে পিডিবি’র যে শতাধীক কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে তাদের ব্যপারে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়নি এখনো। এসব বিষয়ে বরিশাল গ্যাস টার্বাইন পাওয়ার স্টেশনের ব্যবস্থাপকের সাথে সেল ফোনে আলাপ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে পাওয়ার স্টেশনটি গত জুনের শুরু থেকে বন্ধ রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন