ঢাকা, শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৭ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

সম্পাদকীয়

ফ্লাইট বন্ধ : ভুয়া সনদ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

| প্রকাশের সময় : ৯ জুলাই, ২০২০, ১২:০১ এএম

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন লকডাউনে থাকা বিশ্ব অর্থনীতি পুনরায় সচল হতে শুরু করলেও উন্নয়ন অংশীদার ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর আকাশপথ বাংলাদেশের জন্য নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হওয়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো আবারো স্থগিত ও নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ার এই বাস্তবতা বাংলাদেশের সাথে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সার্ভিস ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পথে অনেক বড় ধাক্কা বলে বিবেচিত হচ্ছে। জুনমাসের ১৬ তারিখ থেকে ইতালির রোম-ঢাকা ফ্লাইট চালু হওয়ার পর প্রথম ফ্লাইটে বাংলাদেশে এসে আটকে পড়া দুইশতাধিক প্রবাসী ইতালি ফিরে যাওয়ার সুযোগ পায়। এরপর গত দুই সপ্তাহে একেকটি ফ্লাইটে শত শত প্রবাসীর আসা-যাওয়া বৃদ্ধি পায়। তবে বাংলাদেশ ফেরত প্রবাসিদের মধ্যে রোমের লাৎসিও অঞ্চলে করোনাভাইরাসের বেশ কিছু ক্লাস্টার সংক্রমন ধরা পড়ার পর নড়েচড়ে বসেন ইতালীয় কর্তৃপক্ষ। এরপর বাংলাদেশি যাত্রিদের ঢালাও করোনা টেস্ট করার ব্যবস্থা করার পর গত ২ জুলাই এবং ৬ জুলাই বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে বেশ কিছু সংখ্যক যাত্রির করোনা পজেটিভ ধরা পড়ার পর প্রাথমিকভাবে এক সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশ থেকে যাত্রীবাহী সব ফ্লাইট বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করে ইতালি সরকার।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বিভিন্ন দেশের এভিয়েশন সার্ভিস চালু হলেও বাংলাদেশে যাতায়াত বন্ধ রেখেছে বেশ কিছু দেশের এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। এগুলো সে সব দেশ যাদের সাথে বাংলাদেশের লাখ লাখ প্রবাসী কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ ফেরত বিমান যাত্রীদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় ইতালির আগে, জাপান, দক্ষিন কোরিয়া, সউদি আরব, আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চীন, ভারত এমনকি নেপাল-ভুটান পর্যন্ত বাংলাদেশিদের জন্য প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। রেমিটেন্স আয় এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্বের এই গুরুত্বপূর্ণ উৎসমুখ বা প্রবেশপথগুলো একে একে আবারো রুদ্ধ হয়ে যাওয়া আমাদের জন্য খুবই হতাশাজনক বিষয়। অনেক দেশেই লকডাউনের স্থবিরতা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে শুরু করেছে। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় হাজার হাজার প্রবাসি বাংলাদেশির কাজে যোগদান ও কর্মসংস্থান রক্ষা করা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। করোনা পরবর্তি বাস্তবতায় এমনিতেই প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এক ধরনের অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানা যায়। করোনাকালীন সংকট কাটিয়ে দেশে দেশে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নতুন চাঞ্চল্য শুরু হলেও ফ্লাইট বন্ধ রাখার দুঃখজনক বাস্তবতার মুখোমুখী বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মী এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি।
নানা প্রতিবন্ধকতা, দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা সত্তে¡ও দেশে করোনা সংক্রমণের হার অনেকটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। দেশে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার এখনো ক্রমবর্ধমান হওয়া সত্তে¡ও জীবন-জীবিকার তাগিদে সাধারণ ছুটি ও শাটডাউন শিথিল করে ইতিমধ্যে দেশের জনজীবনে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান নির্ভর অর্থনীতিও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার কথা। কিন্তু ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়ার মত অনাহুত বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। মূলত: বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাগত যাত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকের করোনা পজেটিভ রিপোর্টের প্রেক্ষিতেই দেশগুলো এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধ্য হয়েছে। এ সময়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য করোনা নেগেটিভ সনদ বাধ্যতামূলক হলেও একেকটি ফ্লাইটে ১০-২০ যাত্রীর দেহে করোনা পজেটিভ রিপোর্টের নেপথ্য কারণ ইতিমধ্যে অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে গেছে। করোনা টেস্টিংয়ে ভুল রিপোর্ট, প্রতারণা ও খামখেয়ালির যে চিত্র শুরু থেকেই পাওয়া যাচ্ছিল সম্প্রতি রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণা ও ভুয়া করোনা টেস্টিং সনদ বিক্রির তথ্য উদঘাটিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তা আরো পরিষ্কার হয়ে গেছে। ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসিদের কেউ কেউ হয়তো এ ধরনের হাসপাতাল থেকে করোনা নেগেটিভ ভুয়া রিপোর্ট নিয়ে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নিয়েছিলেন। এর ফলে আন্তর্জাতিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হল বাংলাদেশ। তবে রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণার বিরুদ্ধে সময়োপযোগী ও সাহসী অভিযান পরিচালনার জন্য এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র‌্যাব) ধন্যবার্দাহ। হাসপাতালে চিকিৎসার নামে প্রতারণা, অনিয়মসহ স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিদ্যমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে র‌্যাবের এই অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। ভুয়া করোনা টেস্টিংয়ের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সারাদেশে চিরুনি অভিযান চালাতে হবে। দেশের করোনা টেস্টিং, করোনা চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে বিশৃঙ্খলা, অব্যবস্থাপনা ও অস্বচ্ছতা থেকে মুক্ত করতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ দীর্ঘায়িত হলে এবং বাংলাদেশি যাত্রীদের দেহে করোনা পজেটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেলে সারাবিশ্ব করোনামুক্ত হলেও বাংলাদেশের জন্য অর্থনীতির দরজা ও যোগাযোগ রুদ্ধ হয়ে থাকবে। দেশকে করোনামুক্ত করা এবং অর্থনৈতিক সংকটমুক্ত করা একই সুত্রে গাঁথা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (2)
Zhc ৯ জুলাই, ২০২০, ৮:৩৩ এএম says : 0
যে সরিষা দিয়ে ভূত তাড়াবেন সেই সরিষাই ভূতে আক্রান্ত।
Total Reply(0)
আনোয়ার হোসাইন ৯ জুলাই, ২০২০, ৭:০৫ পিএম says : 0
কাতার এয়ারলাইন্স কবে চালু হবে
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন