ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১১ সফর ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

হাইয়া সোফিয়া নিয়ে সমালোচনার জবাবে এরদোগান, এটা তুরস্কের অধিকার

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১২ জুলাই, ২০২০, ২:২২ পিএম | আপডেট : ৩:৪২ পিএম, ১২ জুলাই, ২০২০

তুরস্কে বাইজেন্টাইন যুগের স্মৃতিস্তম্ভ হাইয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্তে কয়েকটি দেশ যে নিন্দা জানিয়েছে, শনিবার তা প্রত্যাখান করেছেন প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। তিনি বলেছেন, এটি তার দেশের ‘সার্বভৌম অধিকার’ ও জনগণের ইচ্ছার প্রতিনিধিত্ব করে।

ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে আগামী ২৪ জুলাই থেকে নামাজ পড়ার জন্য খুলে দেয়া হবে বলে গত শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছেন এরদোগান। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে সমালোচকরা বলছেন যে, এরদোগান মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছেন। অতীতেও তিনি এই ঐতিহাসিক ভবনটিকে মসজিদে রুপান্তরের জন্য বিভিন্ন সময়ে মত প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ২০১৮ সালে সেখানে গিয়ে কুরআন থেকে একটি আয়াত তেলাওয়াত করেন।

শনিবার ভিডিও-সম্মেলনের মাধ্যমে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এরদোগান বলেন, ‘যারা নিজ দেশে ইসলামফোবিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেন না...তারা তুরস্কের সার্বভৌম অধিকার ব্যবহার করার ইচ্ছাকে আক্রমণ করেন।’

বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষন হাইয়া সোফিয়া প্রথমে খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের ক্যাথেড্রাল হিসাবে নির্মিত হয়েছিল। তবে ১৪৫৩ সালে ওসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মেহমুদ কনস্টান্টিনোপল জয় করার পরে একে মসজিদে রূপান্তর করেন। আধুনিক তুরস্কের স্থপতি মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক এটিকে জাদুঘরে পরিণত করেন ১৯৩৫ সালে৷ এরপর থেকে তুরষ্কের অসম্প্রদায়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল আয়া সোফিয়া। শুক্রবার এক ডিক্রিতে সই করার মাধ্যমে এরদোয়ান আয়া সোফিয়াকে মসজিদ হিসেবে ঘোষণা দেন।

এই সিদ্ধান্তে ইউনেস্কো, যুক্তরাষ্ট্র, গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা জানিয়েছে৷ মসজিদে রূপান্তরের বিরোধীতা আগে থেকে করে আসছিল অর্থডক্স খ্রিস্টানরা৷ তুরস্কের সঙ্গে গ্রিসের সম্পর্কের আরেক দফা অবনতি ঘটারও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এ কারণে৷ দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিস এরদোয়ানের সিদ্ধান্তটির কড়া নিন্দা জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, যারা আয়া সোফিয়াকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অপরিহার্য হিসেবে বিবেচনা করেন এটি তাদের সবার জন্যই ক্ষোভের৷ এই সিদ্ধান্তে শুধু গ্রিসের সঙ্গে নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউনেস্কো এবং গোটা বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে।

রাশিয়ার সংসদের উচ্চ কক্ষের উপ-প্রধান ভ্লাদিমির জাবারোভ তুরস্ক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে বলেন, এটিকে মসজিদে রূপান্তর মুসলিম বিশ্বের জন্য কোন কিছু বয়ে আনবে না, এর মাধ্যমে দেশগুলোর কোন ঐক্য তৈরি হবে না, বরং উলটো দিকে তাদের সংঘাতের পথে ঠেলে দিল৷

তুরস্কের এই সিদ্ধান্তকে হতাশামূলক বলছে যুক্তরাষ্ট্র৷ দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, তুরস্কের সরকার হাইয়া সোফিয়াকে সব দর্শানার্থীর জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা বলেছে৷ সেখানে কারো প্রবেশেই যাতে বাধা তৈরি না হয় সে বিষয়ে কি করা হবে যুক্তরাষ্ট্র সেই পরিকল্পনা জানার অপেক্ষায় আছে৷ এর আগে গত সপ্তাহে তুরস্ককে এমন সিদ্ধান্ত না নেয়ার আহবান জানিয়েছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। সূত্র: ডন।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Md. Abdur Razzak ১২ জুলাই, ২০২০, ৪:১০ পিএম says : 0
krisna korle lila, ar ami korle dosh.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন