ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০৯ ভাদ্র ১৪২৬, ২২ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

সোনালি আসর

খেলার সাথী ফুলপরী

প্রকাশের সময় : ১ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

জো বা য়ে র রা জু
মারিয়ারা শহর থেকে গ্রামে চলে এসেছে। মারিয়ার আব্বু গ্রামের শেষ মাথায় বিশাল এক বাড়ি করেছেন। দোতলা বাড়ি। বাড়ির চারপাশ বেশ সুন্দর। সারি সারিভাবে লাগানো বিভিন্ন ফুল আর ফলের চারাগুলো যে কেউ দেখে মুগ্ধ হয়ে যাবে।
মারিয়ার আম্মুর ফুলের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা। শহরে থাকাবস্থায় তিনি বাড়ির ঝুল বারান্দায় ফুলের বাগান করতেন। মারিয়াও ফুল খুব ভালোবাসে।
গ্রামে এসেও মারিয়ার আম্মু ফুলের মায়া ছাড়তে পারলেন না। শুধু বাড়ির আঙ্গিনা নয়, তিনি দোতলার বারান্দায়ও টবে ফুলের চারা লাগিয়েছেন প্রায় শ’খানেকের মতো। অবসরে তিনি বাগানের ফুলের যতœ করেন। পানি দেয়া, আগাছা পরিষ্কার করা, ছোট ছোট ডালগুলোতে পোকা ধরেছে কিনা, মারিয়ার আম্মুর সেদিকে বিশেষ নজর।
গ্রামে আসার কয়েক দিন পর মারিয়াকে স্কুলে ভর্তি করানো হলো। মারিয়া শহরে বড় হয়েছে বলে গ্রামের স্কুলের মেয়েগুলো তাকে বেশ পছন্দ করে। অল্পদিনে সবাই মারিয়ার বন্ধু হয়ে উঠল। নতুন এসব বন্ধু পেয়ে মারিয়াও বেশ খুশি। কত সহজ সরল মেয়েগুলোর আঞ্চলিক ভাষার কথা শুনে হাসিতে লুটিপুটি খায় মারিয়া। এরা কেউ শুদ্ধ ভাষায় কথা বলতে পারে না। মারিয়ার শুদ্ধ ভাষার কথা শুনে তারা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।
স্কুলের বন্ধুদের সাথে মেলামেশাটা মারিয়ার আম্মু পছন্দ করে না। কারণ মারিয়ার স্কুলের ওইসব বন্ধুরা সবাই গরিব। তাদের কারো বাবা কৃষক, কারো বাবা রাখাল, কারো বাবা জেলে। মারিয়ার আম্মু যে গরিবদেরকে দুই চোখের কিনারেও দেখতে পারেন না মারিয়া সেটা ভালো করে জানে। প্রতিদিন মারিয়া স্কুলে যাবার সময় আম্মু তাকে টিফিন বক্সে খাবার দিতে দিতে বলেন, ‘ওইসব গরিব মেয়েদের কাছ থেকে একশ হাত দূরে থাকবে।’ মারিয়ার তখন ভীষণ রাগ হয়।
মারিয়া দোতলার যে ঘরে থাকে, সে ঘরের জানালা দিয়ে পাশের বিরাট মাঠ দেখা যায়। মাঠে রোজ বিকেলে কতগুলো ছেলেমেয়ে খেলতে আসে। ছেলেরা বল খেলে আর মেয়েরা খেলে বউ বউ খেলা। মারিয়া জানালা দিয়ে মাঠের ছেলেমেয়েগুলোর খেলা দেখে। তারও খুব ইচ্ছে করে তাদের সাথে মাঠে গিয়ে খেলতে।
একদিন বিকেলে মারিয়া দোতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছে দেখে আম্মু বলল, ‘কোথায় যাচ্ছো মারিয়া?’ মারিয়া উচ্ছ্বাস গলায় বলল, ‘মাঠে যাচ্ছি ওদের সাথে খেলতে।’ আম্মু বিরক্ত হয়ে বলল, ‘খবরদার, তুমি ব্যারিস্টারের মেয়ে। মাঠের ওই বস্তির ছেলেমেয়েগুলোর সাথে খেলতে যেতে পারবে না। বাসায় কম্পিউটার আছে। যাও কম্পিউটারে ইেম খেলবে।’ আম্মুকে ভয় পায় বলে মারিয়া আর টুঁ শব্দ না করে মন খারাপ করে দোতলায় চলে এলো। তার গেম খেলতে ভালো লাগে না। জানালার গ্রিল দরে সে তাকিয়ে থাকে ওই স্বাধীন ছেলেমেয়েগুলোর দিকে।
পরের দিন বিকাল বেলায় হঠাৎ মারিয়া দেখতে পেল তার ঘরের খাটের উপর একটা মেয়ে বসে আছে। লম্বা এক সাদা ড্রেস পড়া মেয়েটাকে কি সুন্দর লাগছে। মুখে ভারি মেকআপ। সিল্কি চুল। হাতভর্তি কাচের চুড়ি। পায়ের লম্বা লম্বা নখে লাল নেইল পালিস। সব মিলিয়ে অপরূপ লাগা মেয়েটিকে মারিয়া বললÑ
Ñতুমি কে?
Ñআমি ফুলপরী।
Ñওমা ফুলপরী!
Ñভয় পেও না। আমি জানি তুমি খুব লক্ষ্মী মেয়ে।
Ñকীভাবে জানো? তুমি কি আমাকে আগে কোনোদিন দেখেছ?
Ñতোমাকে আমি রোজ দেখি।
Ñমানে?
তোমার আম্মু বাগানে যে ফুলের বাগান করেছেন, আমি রোজ সেখানে আসি। আমি ফুলপরী তো। তাই ফুল বাগানে আসি।
Ñতোমার নাম কি?
Ñতুলিকা।
Ñখুব সুন্দর নাম।
Ñকাল তোমার আম্মু তোমাকে মাঠের ওই ছেলেমেয়েগুলোর সাথে খেলতে দেয়নি বলে তুমি যখন মন খারাপ করেছ, আমার খুব কষ্ট হয়েছে। আচ্ছা তুমি আমার সাথে রোজ খেলবে? আমার খেলার সাথী হবে?
Ñঅবশ্যই হব তুলিকা।
মারিয়ার কথা শুনে তুলিকা খিলখিলিয়ে হেসে উঠল। তুলিকার সাথে মারিয়া তাদের বিশাল বারান্দার বাগানে এসে খেলা শুরু করার আগে বললÑ ‘আমাকে তোমাদের পরীর দেশের গল্প শোনোবে?’
তুলিকা মারিয়াকে তাদের দেশের গল্প শোনাতে লাগল। মারিয়া অবাক হয়ে তুলিকার রুপকথার মতো গল্পগুলো শুনছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন