ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

সম্পাদকীয়

প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ নষ্ট করার অপচেষ্টা

| প্রকাশের সময় : ১৪ জুলাই, ২০২০, ১২:০২ এএম

আষাঢ়ের গরমে মানুষ যখন অতীষ্ট, তখন দফায় দফায় চলছে লোডশেডিং। রাজধানীর বাস্তবতা হচ্ছে, প্রতিদিন এলাকাভেদে ৫ থেকে ৮ বার লোডশেডিং হচ্ছে। স্থায়ীত্ব ২০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর্যন্ত। লোডশেডিংয়ের অনুসঙ্গী লোভোল্টেজ। বিদ্যুতের এই যখন-তখন যাতায়াত এবং ভোল্টেজের ওঠা-নামার কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এমন কি জেনারেটর পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহে তেমন কোনো সংকট কিংবা বিভ্রাট ছিল না। করোনাকাল শুরুর পর দীর্ঘ ছুটি ও বন্ধের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাওয়ায় সঙ্গতকারণে সরবরাহে কোনো ব্যাঘাত হয়নি। তবে এসময় বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল গ্রাহকদের বারবার জ্বালিয়েছে। ইতোমধ্যে ছুটি-বন্ধ উঠে গেছে। কল-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য চালু হয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। আর তখনই দেখা দিয়েছে লোডশেডিং। বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি অনুযায়ী বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। যেমন, গত শনিবার দিনের বেলায় উৎপাদন ছিল ১৩,২২২ মেগাওয়াট, সন্ধ্যায়, সর্বোচ্চ ১৪,৬৫৫ মেগাওয়াট। ওইদিন দিনের বেলায় চাহিদা ছিল ১১,৫০০ মেগাওয়াট, সন্ধ্যায় ৯০০০ মেগাওয়াট। এমতাবস্থায়, বিদ্যুতের সংকট ও সংকটজনিত কারণে লোডশেডিংয়ের প্রশ্ন ওঠে না। অথচ রাজধানীর অধিবাসীরা দিন-রাতের বিভিন্ন সময়ে লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছে। এ থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, বিদ্যুৎ বিভাগ প্রতিদিন উৎপাদন ও চাহিদার যে তথ্য দেয় তা সঠিক নয়। আর যদি তা সঠিক হয়, তবে বলতে হবে, এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্ত আছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের ইমেজ নষ্ট করাই যার লক্ষ্য।

একথা স্বীকার করতেই হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে অভাবিত সাফল্য হাসিনা সরকারের একটি বড় কৃতিত্ব ও অর্জন। বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশ শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণই হয়নি, চাহিদার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তা ও যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলেই এটা সম্ভবপর হয়েছে। এর আগের সরকারের আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন তেমন একটা না বাড়ায় বিদ্যুৎ সংকট প্রকট আকার নেয়। তাতে শিল্পোৎপদন, ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবাসিক ক্ষেত্রেও বিদ্যুৎস্বল্পতা বা লোডশেডিং জনদুর্ভোগের কারণে পরিণত হয়। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যাপকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংকট মোচনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি বেসরকারি খাত থেকে বিদ্যুৎ কেনার পদক্ষেপ নেন এবং রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল যুগের সূচনা করেন। তিনি একই সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনসহ কয়লাভিত্তিক ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পদক্ষেপ নেন। বিদ্যুৎ আমদানিরও ব্যবস্থা করেন। বস্তুত, কয়লাভিত্তিক ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রক্রিয়াধীন থাকলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত সাফল্য আসার ফলেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে অভূতপূর্ব নজির স্থাপিত হয়েছে। আইইইআর’র রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ চাহিদার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার মাত্র ৪৩ শতাংশ ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। বাকী ৫৭ শতাংশ কেন্দ্র অলস বসে থাকছে। এদের জন্য ভাড়া গুনতে হচ্ছে এবং একারণে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ছে। গত অর্থ বছরে অলস বসিয়ে রেখে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে ৯০০০ কোটি টাকা দিতে হয়েছে সরকারকে। এই তথ্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার অর্ধেকেরও কম ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। যা ব্যবহার করা যাচ্ছে না, তার জন্য সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। ওই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় ৫৮ শতাংশ বেশি থাকবে।

বিদ্যুৎ ছাড়া জীবন ও সভ্যতা অচল। উৎপাদনসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ এক অপরিহার্য উপকরণ। বিদ্যুৎ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকার যা করেছে তার কোনো তুলনা নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে যেসব বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বিদ্যুতে সয়ম্ভরতা তার একটি। লোডশেডিং, ভুতুড়ে বিল, বিদ্যুতের চুরি-অপচয়, মিটার রিডারসহ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীদের দুর্নীতি ইত্যাদি সব কিছুই সরকারের সাফল্য ম্লান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইমেজ নষ্ট করার অপচেষ্টা হিসাবে গণ্য, যা মোটেই বরদাশত যোগ্য হতে পারে না। বিদ্যুৎ বিভাগের দুষ্কৃতীরা, যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, নিরপেক্ষ তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে যথোচিত আইনী ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অহেতুক মূল্যবৃদ্ধি পরিহার করতে হবে। লোকসান-ভর্তুকি কমাতে হবে। উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগাতে সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন সাধন করতে হবে এবং যে কোনো মূল্যে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রান্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই সরকারের সাফল্য ফলপ্রসূ হিসাবে সাব্যস্ত হবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রয়াস প্রচেষ্টা বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে প্রশংসা অর্জন করেছে। এক্ষেত্রেও তার ইমেজে কালিমা লাগানোর অপপ্রয়াস প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থা, দুর্নীতি ও লুটপাটের কথা যেমন এখানে স্মরণ করা যায়, তেমনি স্মরণ করা যায় ভুয়া করোনাসনদ বাণিজ্যের ফলে বহির্বিশ্বের সঙ্গে দেশের যোগাযোগ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ার কথাও। এসবের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তারা কোনোভাবেই রেহাই পাওয়ার যোগ্য নয়। তাদের বিরুদ্ধেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন