ঢাকা, রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৮ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

ইসলামী বিশ্ব

আয়া সোফিয়াকে মসজিদ ঘোষণায় রাশিয়ার সমর্থন

‘যাজকরা রাজি হলে নিজের টাকায় গির্জাটি ক্রয় করা হয়’

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ জুলাই, ২০২০, ১২:৪৬ এএম

আয়া সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদ হিসেবে ঘোষণা করার তুরস্ক সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে রাশিয়া। রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ভেরশিনিন বলেছেন, এটি সম্প‚র্ণ তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এতে বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। খবর স্পুটনিকের। তিনি এমন সময় এ মন্তব্য করলেন, যখন পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি রাশিয়ার অর্থোডক্স চার্চের পক্ষ থেকেও তুর্কি সরকারের এ পদক্ষেপের নিন্দা জানানো হয়েছে।

 

প্রসঙ্গত, ১২০৪ থেকে ১২৬১ সাল পর্যন্ত রোমান ক্যাথলিক চার্চ, ১২৬১তে এটি আবার ইস্টার্ন অর্থডক্স ক্যাথিড্রালে ফিরে আসে এবং ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত অর্থডক্স গির্জা হিসেবেই বহাল ছিল আয়া সোফিয়া। অতঃপর ঘটনাবহুল ঐতিহাসিক এক যুদ্ধে ইস্তাম্বুল জয়ের সময় এটিও জয় করেন উসমানি খলিফা সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ।

 

এর পরই এটিকে মসজিদে রূপান্তর করা হয়। ঐতিহাসিক স‚ত্রের বরাতে আল-জাজিরা জানায়, সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ ইস্তাম্বুল জয় করার পর যাজকদের কাছ থেকে আয়া সোফিয়া বিক্রি করার আবেদন জানান এবং যাজকরা রাজি হলে নিজের টাকায় গির্জাটি ক্রয় করেন। তিনি বিজয়ী হিসেবে গির্জা ছিনিয়ে নিতে পারতেন, রাষ্ট্রীয় টাকায় কিনতে পারতেন, কিন্তু সেসব না করে চুক্তিনামা করে নিজের টাকায় গির্জাটি ক্রয় করে নেন।

 

এখনও সেই ঐতিহাসিক চুক্তিনামা সংরক্ষিত আছে। রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। এর আগে রাশিয়ার ভলোকলামস্ক শহরের অর্থোডক্স চার্চের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, আয়া সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদ হিসেবে ঘোষণা করা খ্রিস্টানদের মুখে চপেটাঘাতের শামিল। তুরস্কের সুপ্রিমকোর্টের এক রায়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান গত শুক্রবার দেশটির আয়া সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদ হিসেবে ঘোষণা করেন।

 

এরদোগান বলেন, শিগগিরই এই ঐতিহাসিক স্থাপনা মুসলমানদের নামাজ আদায়ের জন্য খুলে দেয়া হবে। তুর্কি জনগণ এরদোগানের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও পশ্চিমা দেশগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই আয়া সোফিয়ার ইতিহাস আজ অবধি বেশ বৈচিত্র্যপ‚র্ণভাবে আবর্তিত হয়ে আসছে। ৩৬০ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম এটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রোমান সাম্রাজ্যের প্রথম খ্রিস্টান সম্রাট কনস্টান্টিনোপল। বর্তমান কাঠামো তৈরি করেন সম্রাট জাস্টিনিয়ান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১২০৪ সাল পর্যন্ত আয়া সোফিয়া ছিল ইস্টার্ন অর্থডক্স ক্যাথিড্রাল। আল-জাজিরা।

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (8)
রিপন ১৫ জুলাই, ২০২০, ২:৫১ এএম says : 0
খুব ভালো খবর
Total Reply(0)
Zia Uddin ১৫ জুলাই, ২০২০, ২:৫৬ এএম says : 0
good news alhamdulillah
Total Reply(0)
Mohammed Ali Jewel ১৫ জুলাই, ২০২০, ২:৫৬ এএম says : 0
আলহামদুলিল্লাহ...
Total Reply(0)
Habib Asad ১৫ জুলাই, ২০২০, ২:৫৭ এএম says : 0
ওসমানী খেলাফতের সময় আয়া সোফিয়া ক্রয় করে নামাজ পড়ার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল,কারো কাছ থেকে জোর করে ছিনিয়ে নেয়া হয়নি,আমি অতি সংক্ষেপে বললাম,ইতিহাস তাই বলছে।
Total Reply(0)
বুলবুল আহমেদ ১৫ জুলাই, ২০২০, ২:৫৭ এএম says : 0
জাযাকাল্লাহ,,,এরদোয়ান সাহেব।
Total Reply(0)
আরাফাত ১৫ জুলাই, ২০২০, ১০:০২ এএম says : 0
সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ ইস্তাম্বুল জয় করার পর যাজকদের কাছ থেকে আয়া সোফিয়া বিক্রি করার আবেদন জানান এবং যাজকরা রাজি হলে নিজের টাকায় গির্জাটি ক্রয় করেন। তিনি বিজয়ী হিসেবে গির্জা ছিনিয়ে নিতে পারতেন, রাষ্ট্রীয় টাকায় কিনতে পারতেন, কিন্তু সেসব না করে চুক্তিনামা করে নিজের টাকায় গির্জাটি ক্রয় করে নেন।
Total Reply(0)
নিসারুল ইসলাম ১৫ জুলাই, ২০২০, ১০:৩৪ পিএম says : 0
অন্য কয়েকজন ভাইয়ের লেখা এখানকার পাঠকভাইদের জন্য দিলামঃ Mohi ইউরিপিয়ানদের সব সমস্য নিচের লিখাতে, ওদের কথা হচ্ছে আমরা যেভাবে বলি সেভাবে নাচলে সমস্য নেই । সময়ের পরিবর্তনে অনেক কিছু পরিবর্তন হয় । এমন একটা সময় আসবে বাংলাদেশেকে ভারতের তোয়াককা করতে হবে না । এই অবস্থায় পশ্চিমারা চাইছে ২০২৩ সালের আগেই তুরস্কের ক্ষমতায় পরিবর্তন করে অনুগত কাউকে আনতে, যে লুজান চুক্তির শর্ত মেনে চলবে বা নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষর করবে। এর লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। ২০১৬ সালে এক শক্তিশালী ক্যু দমন করেছেন এরদোয়ান। আবদুল্লাহ গুল ও আহমেত দাভুতওগলুর সঙ্গে আংকারার মার্কিন দূতাবাস ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অফিসের সম্পর্ক ভালোই যাচ্ছে।
Total Reply(0)
নিসারুল ইসলাম ১৫ জুলাই, ২০২০, ১০:৩৯ পিএম says : 0
নীচের লেখাটি দেখুনঃ Reaz Uddin ১৪৫৩ সালে উসমানিয়া খলিফা আবুল ফতেহ সুলতান মোহাম্মদ ইস্তাম্বুল বিজয়ের পর খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের কাছে এটি ক্রয় করে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থে নয়, বরং নিজের ব্যক্তিগত অর্থ দ্বারা। সুলতান দ্বিতীয় মোহাম্মদ (আবুল ফতেহ সুলতান মোহাম্মদ) শত্রু এবং ইতিহাস সম্পর্কে অত্যন্ত বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান ছিলেন। শাসক হিসেবে রাজ্যের কোষাগার কিংবা মুসলমানদের "বায়তুল মাল" থেকে কোনো অর্থের পরিবর্তে তিনি ওই ভবন ক্রয় করার প্রস্তাব দেন একান্ত ব্যক্তিগত সম্পদ দ্বারা, যা ছিল এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ। খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারা "আয়া সোফিয়া"কে বিক্রয় করতে সম্মত হওয়ার হওয়ার পর একজন সাধারণ মুসলমান হিসেবেই তিনি ওই সম্পদ ক্রয় করতে একটি ব্যক্তিগত চুক্তি স্বাক্ষর করেন তাদের সাথে, যেটির সাথে তাঁর প্রশাসনিক কোনো সম্পর্ক ছিলোনা। লেনদেনটি ক্রয় ও স্বত্বত্যাগের একটি চুক্তির মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হয়েছিল, এবং মূল্য পরিশোধের বিষয়টি ভাউচার দ্বারা প্রমাণিত। এভাবেই "আয়া সোফিয়া" খ্রিস্টানদের কাছ থেকে ক্রয় করে নেওয়ার পরপরই আবুল ফতেহ সুলতান মোহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হউন) সেখানে একটি ওয়াকফ এসোসিয়েশন গঠন করেন, এবং আয়া সোফিয়া ভবনটিকে তাদের মালিকানায় দান করে দেন। এবং তিনি ওসিয়ত করে যান: "এই ভিত্তি কেউ যদি পরিবর্তন করে, তার এবং তাদের উপরে আজীবন ধরে আল্লাহ পাকের, নবীজী (স:) এর, ফেরেস্তাকূলের, সকল শাসকগণের এবং সকল মুসলমানের লানত পড়ুক! আল্লাহ পাক যাতে তাদের কবরের আজাব মাফ না করেন, হাশরের দিনে তাদের মুখের দিকে যাতে না তাকান! এই কথা শোনার পরেও কেউ যদি একে পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যায়, পরিবর্তনের গুনাহ তার উপরে পড়ুক! আল্লাহর আজাব পড়ুক তাদের উপরে! আল্লাহ পাক সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।" - আবুল ফতেহ সুলতান মুহাম্মদ (১লা জুন, ১৪৫৩)
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন