ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৫ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

মুজিযাহ সংক্রান্ত জ্ঞাতব্য বিষয়াদি

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুন্শী | প্রকাশের সময় : ১৬ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম

‘মু’জিযাহ’ শব্দটি মূলত : আকাইদ শাস্ত্রের একটি পরিভাষা। কোরআন হাদীসে মু’জিযাকে ‘আয়াত’ ‘বুরহান’ ‘আলামাত’ এবং দলিল শব্দে প্রকাশ করা হয়েছে।

যেমন : (ক) ইরশাদ হচ্ছে : তারা বলে, তাঁর প্রভুর তরফ হতে কেন তাঁর ওপর কোনো আয়াত নাজিল হয় না? (সূরা আনয়াম : আয়াত ৩৭)। এই আয়াতে কারিমায় মুজিযাকে আয়াত বলা হয়েছে। (খ) ইরশাদ হচ্ছে : হে মানবমন্ডলী : তোমাদের ওপর তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে এক বুরহান অর্থাৎ দলিল এসেছে। (সূরা নিসা : আয়াত ১৭৪)। এই আয়াতে কারীমায় মুজিযাকে বুরহান বা দলিল বলা হয়েছে। (গ) সহীহ বুখারী শরীফের প্রথম খন্ডের ৫০৪ পৃষ্ঠায় সংকলিত হাদীসে মু’জিযাহ বলতে আলামাত অর্থাৎ নিদর্শনাবলী শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। (ঘ) সহীহ বুখারী শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ ফাত্হুল বারী গ্রন্থের ষষ্ঠ খন্ডের ৭২১ পৃষ্ঠায় মু’জিযাহ বুঝাতে ‘দলিল’ শব্দের ব্যবহার লক্ষ করা যায়।

মূলত : মু’জিযাহ কোনো নবী রাসূলের ইচ্ছা বা এখতিয়ার অনুসারে প্রকাশ পায় না। এজন্য তাদের দ্বারা যখন ইচ্ছা, তখনই তা’ প্রদর্শন সম্ভব নয়। বরং তা সম্পূর্ণই মহান আল্লাহপাকের ইচ্ছাধিন। আল্লাহপাকের যখন ইচ্ছা তখন তিনিই তা প্রদর্শন ও নবীর মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকেন। এজন্যই মূল মু’জিয (অক্ষমকারী) হচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা। কেননা, সকল ক্ষমতা, সকল অক্ষমতা সৃষ্টিকারী কেবল তিনিই। এজন্য সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম সংঘটিত কাজকে রূপক অর্থে মুজিযাহ বলা হয়। এটা হাকিকী বা প্রকৃত অর্থ নয়, বরং মুজিযাহ আল্লাহরই কাজ, যা নবীর হাতে প্রকাশ করে থাকেন। মুজিযাহ বান্দাহর অন্যসব কর্মের মতো নয়। কেননা বান্দাহর অন্য সকল কর্মের স্রষ্টা হলেন আল্লাহ পাক নিজে। আর বান্দাহ হলো কাসিব বা কর্মচারী। কাজ করা বান্দাহর ওপর অর্পিত দায়িত্ব। কিন্তু মু’জিযার সৃষ্টি ও কাজ করা উভয়টিই আল্লাহর ইচ্ছা এবং নির্দেশের ওপর নির্ভরশীল। এখানে বান্দাহর কোনোই হাত নেই। (মাদারেজুন, নবুওয়াত : খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১১৬)।

কোনো নবী হতে তাঁর নবুওয়াতের কার্যক্রম শুরু করার পূর্বে যে অস্বাভাবিক কার্যসমূহ সংঘটিত হয়ে থাকে, তাকে ইরহাস বলে। যেমন হস্তী বাহিনীর ঘটনাকে বিশ্ব নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.)-এর ইরহাসের মধ্যে গণ্য করা হয়ে থাকে।

ইরহাস শব্দটি এক বচন। বহু বচন ইরহাসাত। ইরহাস শব্দের মূল অর্থ ভিত্তি স্থাপন করা। ইরহাস যেহেতু নবীর নবুওয়াতের প্রাথমিক ভিত্তি বলে বিবেচিত হয়, সেহেতু ঐ কর্মকে ইরহাস নামে নামকরণ করা হয়েছে। ইরহাস ব্যতিক্রমধর্মী কাজের একটি প্রকার। যেমন রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে নবুওয়াতের পূর্বে প্রস্তরখন্ড সালাম প্রদান করেছে। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এ জাতীয় কাজকে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ কারামত এবং কেউ কেউ মুজিযাহ বলেও আখ্যায়িত করেছেন। (নিবরাস : পৃষ্ঠা ২৭২)। আর আসহাবুল ফিল বলতে আবরাহা বাদশাহ ও তার হস্তিবাহিনী ও দলবলকে বুঝায়, যারা কাবা শরীফ ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর হয়েছিল। পরিণামে তারা সমূলে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এটিও ইরহাসের অন্তর্ভুক্ত। (তফসীরে ইবনে কাসির : ৪র্থ খন্ড, পৃষ্ঠা ৫৪৯)।

বিশ^ নবী হযরত মোহাম্মাদ মোস্তাফা আহমাদ মুজতাবা সর্বশেষ নবী। তারপর কিয়ামত পর্যন্ত কোন নবীর আগমন ঘটবে না। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এন্তেকালের পর কেনো ভন্ড মিথ্যা নবুওয়াতের দাবীদার ব্যক্তির নিকট যদি কেউ মু’জিযাহ দাবি করে, সেও ইসলামের গন্ডি হতে বের হয়ে যাবে। কেননা, এ দাবি খতমে নবুওয়াতের আকীদায় সন্দেহ সৃষ্টি করার নামান্তর বৈ কিছুই নয়।

ইমামে আজম ইমাম আবুহানীফাহ (রহ.)-এর জমনায় এক ব্যক্তি নবী হওয়ার দাবি করে বসল। সে বলল : আমাকে তোমরা অবকাশ ও সুযোগ দাও। আমি আমার দাবির স্বপক্ষে দলিল প্রমাণ উপস্থাপন করব। উত্তরে ইমাম আবু হানীফাহ (রহ.) বললেন : আমরা তোমার নিকট কোনো প্রমাণ চাই না। যে তোমার নিকট প্রমাণ দাবি করবে, সেও কুফুরি করবে। কেননা খাতিমুন্ নাবিয়্যিন মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টতঃই বলেছেন : লা নাবিয়া বা’দী অর্থাৎ আমার পর আর কোনো নবী আসবে না। এটাই চ‚ড়ান্ত কথা ও শ্রেষ্ঠ মু’জিযা। (মানাকিব ইমামিল আযম : খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৬১)।

কখনো কখনো স্বয়ং আল্লাহ পাকই কাফিরদের হুবহু দাবি অনুযায়ী নবীর দ্বারা মুজিযাহ প্রদর্শন করেছেন। তবে কাফিরগণ হটধর্মী ও জিদের বশবর্তী হয়ে কোনো মুজিযাহ দাবি করলে তিনি সেই দাবি পূর্ণ করেননি। যার পূর্ণ বিবরণ সূরা বাণী ইসরাঈলের ৯০ নং আয়াত হতে ৯৪ নং আয়াত পর্যন্ত বিবৃত হয়েছে। আল্লাহপাক আমাদের মূল সত্যকে অবলম্বন করার তাওফীক দান করুন, আমীন!

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (4)
মোঃ তোফায়েল হোসেন ১৬ জুলাই, ২০২০, ১:২৩ এএম says : 0
কামেল বুজুর্গদের দ্বারা অলৌকিক কার্য সম্পাদন হলে তাকে কারামাত বলা হয়। আর নবীরা আল্লাহতায়ালার হুকুমে প্রচলিত সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম যা করেন সেটা মুজিযা।
Total Reply(0)
কে এম শাকীর ১৬ জুলাই, ২০২০, ১:২৪ এএম says : 0
মুজিযা মূলতঃ নবী-রাসূলের সত্যতা প্রমাণের জন্য আল্লাহর সাক্ষ্য। বিষয়টি এভাবেও বলা যায়, যিনি আল্লাহর নবী বলে দাবি করেন, তার সত্যতা প্রমাণ করাই মুজিযার উদ্দেশ্য।
Total Reply(0)
মোহাম্মদ কাজী নুর আলম ১৬ জুলাই, ২০২০, ১:২৪ এএম says : 0
বর্তমানে আর কেউ কোনো মুজিযা প্রদর্শন করতে পারবে না। কেউ আশ্চর্যজনক কিছু করলে বা করে দেখালে সেটা হবে তার কারামত। কারণ মুজিযা নবী-রাসূলদের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেহেতু দুনিয়ায় নবী আগমনের ধারা বন্ধ তাই মুজিযাও বন্ধ। প্রত্যেক নবীর কোনো না কোনো মুজিযা ছিল।
Total Reply(0)
গাজী ওসমান ১৬ জুলাই, ২০২০, ১:২৪ এএম says : 0
সাধারণ মুজিযার বাইরে আল্লাহতায়ালা কোনো কোনো নবী-রাসূলকে বিশেষ মুজিযাও প্রদান করেছিলেন। যেমন- হজরত মুসা (আ.)-এর লাঠি ও হাত উজ্জ্বল হয়ে যাওয়া।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন