ঢাকা বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১, ০৬ মাঘ ১৪২৭, ০৬ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

সরকারের নীতির কারণে সাহেদ সাবরিনা পাপলুদের উত্থান

মানববন্ধন রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ জুলাই, ২০২০, ১২:০১ এএম

সরকারের নীতির কারণে রিজেন্টের সাহেদ, জেকেজির সাবরিনা, এমপি পাপলুরদের উত্থান হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, মানুষ মরে মরুক, আমি তো ঠিক আছি, জনগণ চুলায় যাক, আমি তো ঠিক আছি- এটা হচ্ছে এই সরকারের নীতি। এই নীতির কারণেই আজকে সাহেদের উত্থান হয়েছে, সাবরিনাদের উত্থান হয়েছে। একজন পাপুল ধরা পড়ল। এরকম গত ১২ বছরে কত পাপুল তৈরি হয়েছে এটা আমরা বলতে পারব না। এই দূরাচার দুর্বৃত্তমূলক শাসন ব্যবস্থায় পাপুলরাই প্রতিষ্ঠিত হবে, তারাই এমপি হবে, তাদের পক্ষেই রাষ্ট্র থাকবে। এই নীতিতে আজকে রাষ্ট্র চলে বলেই মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। এক ভয়ংকর মরণঘাতী বেষ্টনির মধ্যে দেশের মানুষ বন্দি হয়ে আছে।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে করোনাভাইরাসের পরীক্ষার জাল সনদ বিক্রি, অর্থ ও মানব পাচার এবং দুর্নীতির প্রতিবাদে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজকে হাসপাতালে আইসিইউ নেই, বেড নেই, ভেন্টিলেটর নেই, হাসপাতালে মাস্ক নেই। আর নকল মাস্ক নিয়ে এসেছে তার সাথে কে জড়িত? মন্ত্রীর ছেলে। ভেন্টিলেটর এখন এই মুহূর্তে জীবন বাঁচানোর একটি অন্যতম সরঞ্জাম। সেটি আমদানি করতে একে তো আওয়ামী সিন্ডিকেট তার উপরে মন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজনেরা। তাহলে কি করে মানুষ বাঁচবে? মানুষ বাঁচানোর কোনো জায়গা তারা রাখবে না। আক্রান্ত রোগী রাস্তায় মরছে, অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে মরছে। সরকারি হাসপাতাল সেগুলো নরকে পরিণত হয়েছে। প্রাইভেট হাসপাতালের একজন রোগী আমাকে কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন, ভাই আমার নয় লাখ টাকা বিল হয়েছে। আমি বাঁচার জন্য এসেছিলাম আমিসহ পরিবারের দুই-একজন, নয় লাখ টাকা বিল হয়েছে। এই হচ্ছে সরকার।
রিজভী বলেন, আজকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা প্রতিবাদ করছেন যে টিউশন ফি কমাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মহোদয় আপনি তো অনেক প্রণোদনা দিলেন অনেককে। কিন্তু এটা কি খুব অন্যায় দাবি? শুধু ইংরেজি স্কুল নয়, আজকে দেশের সকল স্কুল-মাদরাসায় টিউশন ফি একেবারে বাতিল করে দিতে পারেন। এটাই ছিল সবচাইতে মানবিক কাজ এই মুহূর্তে। একে তো ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। তার উপরে তাদেরকে টিউশন ফি দিতে হবে। এর প্রতিবাদে অভিভাবকরা যে আন্দোলন করছেন সেটাতে সরকার কোনো কর্ণপাত করছে না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা অসহায় মানুষের কাছে ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছি, আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি, আমরা পিপিই দিচ্ছি- এটা সহ্য হচ্ছে না। এটা সহ্য না হওয়ার কারণে এখন শুরু হয়েছে মিথ্যা মামলা। গুমের মাধ্যমে ধারাবাহিক বিএনপি নিধনে যে কর্মসূচি, সেই কর্মসূচি তারা অব্যাহত রেখেছে। কোনোভাবে তারা সরকারের বিরুদ্ধে কোনো সমালোচনা সহ্য করবে না। এতে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনগুলোর দুই শতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দক্ষিণের সভাপতি ও দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং যুবদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দলের নেতারা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন