ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭ আশ্বিন ১৪২৭, ০৪ সফর ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

স্কুল বন্ধে সুফলের চেয়ে ঝুঁকি বেশি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৮ জুলাই, ২০২০, ১২:০১ এএম

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিশ্ব অর্থনীতি যেমন থমকে গেছে, তেমনি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিশুদের মানসিক বিকাশ। গত এপ্রিলে ব্যাপক হারে ভাইরাস সংক্রমণের মুখে স্কুল বন্ধ করে দেয়ায় গৃহবন্দি হয়ে পড়ে বিশ্বের ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী। পরে ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে ফের স্কুল খোলায় শিক্ষাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ কমে এসেছে। তবে অন্য স্থানগুলোতে এ উন্নয়নের গতি অত্যন্ত ধীর। লস অ্যাঞ্জেলস-সান দিয়েগোসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু অঞ্চল নতুন শিক্ষাবর্ষে শুধু অনলাইনেই ক্লাস নেয়ার পরিকল্পনা করছে। কেনিয়া সরকার চলতি শিক্ষাবর্ষের বাকি অংশে আর স্কুল না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, করোনার কার্যকর ভ্যাকসিন না পাওয়া পর্যন্ত তিনি শিশুদের স্কুলে ফেরাবেন না। দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্যাসিনো খুলেলেও এখনও বন্ধ বেশিরভাগ স্কুল। অনেক মা-বাবাই সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। স্কুল অনেক বড় এবং জনাকীর্ণ জায়গা। তাছাড়া শিশুরা সামাজিক দূরত্বের বিষয়েও অতটা সচেতন নয়। তারপরও, স্কুল বন্ধ রাখায় লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুদের মধ্যে শিক্ষাগ্রহণের অভ্যাস কমে যাচ্ছে। জুম ভিডিওকল স্কুলের সরাসরি পাঠদানের তুলনায় খুবই নিম্নমানের একটি বিকল্প। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের অনেকেরই উপযুক্ত ইন্টারনেট সুবিধার অভাব রয়েছে, অনেকের পিতামাতাও যথেষ্ট শিক্ষিত নন। ফলে অন্যদের তুলনায় তারা অনেকটা পিছিয়ে পড়ছে। শিশুদের রাখার মতো নিরাপদ জায়গা না পাওয়ায় কাজে যোগ দিতে পারছেন না অনেক বাবা-মা। বিশেষ করে, এতে বেশি সমস্যায় পড়ছেন নারীরা। ফলে কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছেন তারাও। এছাড়া, স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুদের নির্যাতন, অপুষ্টি ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতিরও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নভেল করোনাভাইরাস শিশুদের জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ। অন‚র্ধ্ব ১৮ বছর বয়সীদের এতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় অর্ধেক কম। যুক্তরাজ্যের পরিসংখ্যান অনুসারে, ৭০ থেকে ৭৯ বছর বয়সীদের তুলনায় ১০ বছরের কম বয়সীদের করোনায় মারা যাওয়ার আশঙ্কা অন্তত এক হাজার গুণ কম। শিশুদের মাধ্যমে অন্যদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনাও কম বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। সুইডেনে প্রাইমারি ও নার্সারি স্কুলগুলো কখনোই বন্ধ হয়নি, তারপরও সেগুলোতে কর্মরতরা অন্যান্য পেশায় নিয়োজিতদের তুলনায় আক্রান্ত হয়েছেন অনেক কম। যদিও, ইসরায়েলের একটি স্কুলে ১৫০ শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর এসেছে, তবে সতর্কতা মেনে চললে এ ধরনের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। দ্য ইকোনমিস্ট।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন