ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮ আশ্বিন ১৪২৭, ০৫ সফর ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

সাহেদের বিরুদ্ধে অভিযোগের স্তূপ

রিজেন্ট-জেকেজি করোনা টেস্ট কেলেঙ্কারি মধ্যরাতের অভিযানে অস্ত্র-মাদক উদ্ধার দুই মামলা

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২১ জুলাই, ২০২০, ১২:০১ এএম

জালিয়াতচক্রের হোতা প্রতারক সাহেদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের তালিকা করতে গোয়েন্দারা মাঠে নেমেছে। করোনা টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট প্রদান ও অর্থ আত্মসাৎ-এর পাশাপাশি মাদক-অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায় সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে তার জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। রিমান্ডে গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণা, দখল বাণিজ্য, বদলি ও প্রভাব খাটিয়ে টেন্ডার আদায় করা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। শুধু দেশে নয়, প্রবাসীরাও সাহেদের প্রতারণায় শিকার হয়েছেন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাহেদকে নিয়ে গত শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় অস্ত্র, মদ, ফেনসিডিল ও পিস্তল জব্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে সাহেদের প্রতারণার বিষয়ে জানতে দু’দিন আগে একটি হটলাইন খুলেছিল র‌্যাব। এতে গতকাল পর্যন্ত মোট ১২০টি ফোনকল ও ২০টি ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ জমা হয়েছে সাহেদের বিরুদ্ধে।

তার বিরুদ্ধে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া, রিজেন্টের কর্মচারীদের বেতন না দেয়া, সরকারি চাকরি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ মিলেছে বেশি। সাহেদ বর্তমানে র‌্যাবের করা মামলায় আদালতের নির্দেশে ডিবির কাছে ১০ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। তার দুই সহযোগিও রিমান্ডে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের এমন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে প্রতারনণা করে আসছে সাহেদ করিম। গত ১০ বছর আগে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। কিন্তু তখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার করতে পারেনি সাহেদকে। একের পর এক প্রতারণা করেও দিব্যি পার পেয়ে গেছেন তিনি। আর তাকে পার পেতে সহায়তা করেছে সমাজের নানান শ্রেণি পেশার প্রভাশালী মানুষ। সাহেদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন তারা। কারা তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতো, সাহেদের রঙ মহলে কাদের আনাগোনা ছিল, কিসের বিনিময়ে তারা সাহেদের অনৈতিক কাজে সহায়তা করতো এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তালিকাও করা হচ্ছে ওইসব ব্যাক্তিদের।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা বলেন, সাহেদের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা হয়েছে। এ দু’টি মামলায় এরইমধ্যে সাহেদকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। সোমবার মামলার নথিপত্র আদালতে পাঠানো হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত মধ্য রাতে ডিবি সদস্যরা সাহেদকে নিয়ে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপদ রোডের ৬২ নম্বর বাসার সামনে অভিযান চালায়। সেখানে সাহেদের নিজস্ব সাদা প্রাইভেটকার ছিল। সেই প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ডিবির সদস্যরা ৫ বোতল বিদেশি মদ, ১০ বোতল ফেনসিডিল ও একটি পিস্তল জব্দ করে। এ সময় এক রাউন্ড গুলিও জব্দ করা হয়।

১৪০ ফোনকল ই-মেইলে র‌্যাবের কাছে : প্রতারণার বিষয়ে জানতে দু’দিন আগে একটি হটলাইন খুলেছিল র‌্যাব। এতে গতকাল পর্যন্ত মোট ১২০টি ফোনকল ও ২০টি ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ জমা হয়েছে সাহেদের বিরুদ্ধে। মহাপ্রতারক বলে অভিযুক্ত এই আসামির বিরুদ্ধে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া, রিজেন্টের কর্মচারীদের বেতন না দেয়া, সরকারি চাকরি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ মিলেছে বেশি।

গতকাল রোববার র‌্যাবের সদরদফতরে লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্ণেল আশিক বিল্লাহ সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। তিনি বলেন, সাহেদ গ্রেফতারের পর আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। সেখানে সাহেদ তার সব অপরাধ স্বীকার করেন। পরে তার ড্রাইভার ও এমডির (রিজেন্ট গ্রুপের এমডি মাসুদ পারভেজ)কে গ্রেফতার করা হয়। তার বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য আমরা গত ১৭ জুলাই র‌্যাবের একটি সেবা লাইন চালু করি।

অভিযোগগুলোর মধ্যে চাকরি পাইয়ে দেয়া ও বিভিন্ন দফতরে বদলির সুপারিশের আশ্বাস দিয়ে বিশাল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ, বিভিন্ন জায়গায় বালু ভরাট, রড-সিমেন্ট সাপ্লাইয়ের কথা বলে টাকা আত্মসাৎ, রিজেন্ট হাসপাতালে সেবার নামে অতিরিক্ত ফি আদায়, রিকশা-ভ্যানের ভুয়া লাইসেন্স দেয়ার তথ্য মিলেছে সাহেদের বিরুদ্ধে। এছাড়া রিজেন্টের এমডি মাসুদ পারভেজ ও সাহেদের বিরুদ্ধে সরকারি ও বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক থেকে ফোন দিয়ে ঋণ নেয়া সংক্রান্ত অভিযোগ মিলেছে।

লে. কর্ণেল আশিক বিল্লাহ বলেন, সাহেদ ও মাসুদের বিষয়ে বিদেশ থেকেও আমাদের কাছে ফোনকল আসে। বিদেশের অনেকেই তাদের কাছে প্রতারিত হয়েছেন বলে ফোন করেছেন। যারা বিদেশ থেকে ফোন করেছেন তাদের অভিযোগ অর্থ সংক্রান্ত প্রতারণার। আমাদের কাছে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, সাহেদ আনুমানিক ১০কোটি টাকার মতো প্রতারণা করেছেন। আগামী দু-তিন দিন এই হটলাইনে অভিযোগ নেয়া হবে।

সাহেদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল : সাহেদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করেছে সরকার। গতকাল রোববার প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, একটি পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে সাহেদ অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড নিয়েছিলেন। তার প্রতারণামূলক কাজের জন্য আমরা কার্ডটি বাতিল করেছি। এর আগে সাহেদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন